বাজিছে বাঁশরি কার অজানা সুরে

বাণী

বাজিছে বাঁশরি কার অজানা সুরে।
ডাকিছে সে যেন তার সুদূর বঁধুরে।।
তারা-লোকের সাথীরে যেন সে চাহে ধরাতে,
তারি কাঁদন যেন ঝরা কুসুমে ঝুরে।।
চাঁদের স্বপন ল’য়ে জাগে সে নিশীথ একা,
নিরালা গাহে গান হায় বিষাদ-মধুরে।।
তাহারি অভিমান যেন উঠিছে বাতাসে কাঁপি’,
তাহারি বেদনা দূর আকাশে ঘুরে।।

ওকে ট'লে ট'লে চলে একলা গোরী

বাণী

ওকে ট'লে ট'লে চলে একলা গোরী
নব-যৌবনা নীল-বাসনা কাঁখে গাগরি।।
মদির মন্দ বায় অঞ্চল দোলে
খোঁপা খুলে দোলে আকুল কবরী।
তারে ছল ছল দূরে ডাকে নদী
তা'রিনাম যপে পাপিয়া নিরবধি
ডাকে বনের কিশোর বাজায়ে বাঁশরি।।

হে গোবিন্দ রাখ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ রাখ চরণে।
মোরা তব চরণে শরণাগত আশ্রয় দাও আশ্রিত জনে হে॥
	গঙ্গা ঝরে যে শ্রীচরণ বেয়ে
	কেন দুখ পাই সে চরণ চেয়ে
এ ত্রিতাপ জ্বালা হর হে শ্রীহরি, চাহ করুণা সিক্ত নয়নে॥
হরি ভিক্ষা চাহিলে মানুষ নাহি ফিরায়
তোমারি দুয়ারে হাত পাতিল যে, ফিরাবে কি তুমি তায়।
	হরি সব তরী ডুবে যায়
	তোমার চরণ তরী ত’ ডোবে না হায়,
তব চরণ ধরিয়া ডুবে মরি যদি রবে কলঙ্ক নিখিল ভুবনে॥

সজল-কাজল-শ্যামল এসো তমাল-কানন-ঘেরি

বাণী

সজল-কাজল-শ্যামল এসো তমাল-কানন-ঘেরি,
কদম-তমাল-কানন ঘেরি।
মনের ময়ূর কলাপ মেলিয়া নাচুক তোমারে হেরি’।।
ফোটাও নীরস চিত্তে সরস মেঘমায়া,
আনো তৃষিত নয়নে মেঘল ছায়া,
বাজাও কিশোর বাঁশের বাঁশরি ব্যাকুল বিরহেরই।।
দাও পদরজঃ হে ব্রজবিহারী, মনের ব্রজধামে —
রুমু-ঝুমু ঝুমু বাজুক নূপুর চরণ ঘেরি,
কদম-তমাল-কানন ঘেরি।।

প্রিয়তম এসো ফিরে রহিবে কি দূরে দূরে

বাণী

প্রিয়তম এসো ফিরে রহিবে কি দূরে দূরে
ভুলি মোরে চিরতবে ভাসাইয়া আঁখি-নীরে॥
		আছি ব’সে পথ চেয়ে
		আঁধার এলো যে ছেয়ে
মনের বনের ছায়ে এসো মিলন মধুর সুরে॥
		নয়নের মণিহারা
		নিভে গেছে শুকতারা
ভেসে আসে কালো মেঘ আমার গগন ঘিরে॥

নীরব সন্ধ্যা নীরব দেবতা খোলো

বাণী

নীরব সন্ধ্যা, নীরব দেবতা খোলো মন্দির দ্বার।
ম্লান হ’ল বেদনায় অঞ্জলি নিশি-গন্ধ্যার।।
	নিভিয়া যায় হায় অঞ্চল-তলে
	নয়নের প্রদীপ নয়নের জলে,
শুকাইল নিরাশায় চন্দন ফুলদল তোমার বরণ ডালার।।
মৌন র’বে আর কতকাল বল পাষাণ-বেদীতে,
কত জনম কত পূজারিণীর আয়ু-দীপ নিভাইতে।
দিনের তপস্যার শেষে সাঁঝ-লগনে
আশার চাঁদ কি গো উঠিবে না গগনে,
আমার শেষ বাণী তোমার চরণে —
নিবেদনের ক্ষণ পাব নাকি আর।।