মুরলীধ্বনি শুনি ব্রজনারী

বাণী

	মুরলীধ্বনি শুনি ব্রজনারী
	যমুনা-তটে আসিল ছুটে
কুল মান যৌবন দিল চরণে ডারি।।
	পবন গতিহীন রয়ে
	যমুনা উজান বহে
বাঁশরি শুনি’ বিসরে গীত ময়ূর ময়ূরী শুক সারি।।
চকিত হয়ে ধেনুগণ তৃণ নাহি পরশে
গলিয়া পড়ে মেঘ সুর শুনি হরষে।
	বেভুল আহিরিণী
	চেয়ে থাকে উদাসিনী
বাঁশরি শুনি পাশরি গেল নিতে গাগরিতে বারি।।

আমি আছি ব'লে দুখ পাও তুমি

বাণী

আমি আছি  ব'লে দুখ পাও তুমি তাই আমি যাব চ'লে
এবার ঘুমাও প্রদীপের কাজ শেষ হয়ে গেছে জ্ব'লে।।
	আর আসিবে না কোন অশান্তি
	আর আসিবে না ভয়ের ভ্রান্তি
আর ভাঙিব না ঘুম নিশীথে গো 'জাগো প্রিয়া জাগো' বলে।।
হয়তো আবার সুদূর শূন্য আকাশে বাজিবে বাশিঁ,
গোপী-চন্দন গন্ধ আসিবে বাতায়ন পথে ভাসি'।
	চম্পার ডালে বিরহী পাপিয়া
	'পিয়া পিয়া' বলে উঠিবে ডাকিয়া
বৃন্দাবন কি ভাসিবে (আসিবে) সেদিন রোদন-যমুনা জলে।।

বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়

বাণী

বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়
কাজল-পরা চোখ নিয়ে আয় আমার আঙিনায় রে।।
(দেখ্‌) নেই বনে কেউ এক্‌লা দুপুর
আয় ঝরা পাতায় বাজিয়ে নুপুর, ঝুমুর ঝুমুর
তোরে ডাকে নোটন পায়রার দল ডাকে মেঘের ঝরোকায় রে।।
কি দেখে তুই ধীরি ধীরি চাস্‌ রে ফিরি ফিরি,
বন্‌-শিকারির তীর নহে ও, ঝরনা ঝিরি ঝিরি।
	মাদল বাজে ঈশান কোণে
	ঝড় উঠেছে আমার মনে
সেই তুফানের তালে তালে নাচ্‌বি চপল পায় রে।।

আল্লা রসুল তরু আর ফুল

বাণী

আল্লা রসুল তরু আর ফুল প্রেমিক-হৃদয় জানে।
কেহবা তরুরে ভালোবাসে ভাই, কেহ ফুল ধ’রে টানে।।
কেহবা ফুলের মধু চায়, কেহ চায় সে-গাছের ছায়া
গাছের ছায়ায় জুড়াইয়া পায় গুল্ সুবাসের মায়া,
তুরু ছুঁয়ে বোঝে আল্লা রসুলে রসলীলা কোন্‌খানে।।
কোন জন চাহে গুলের খশ্‌বু, কোন জন চাহে গুল্
খশ্‌বুর সাথে ফুলেরেও চাহে প্রেমিক যে বুল্‌বুল।
জালালের সাথে জামালেও চাহে, প্রেমিক যে বুল্‌বুল।।
আল্লারে ভালোবেসে যার গেছে সকল দ্বিধা ও ভয়
রসুল তাহারে প্রেম দিয়ে কন্, আল্লা যে প্রেমময়,
তিনি যে কেবল বিচারক নন, আল্লা যে প্রেমময়,
মজনুর মত দিওয়ানা সে যে লাইলার মধুপানে।।

তুমি ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে

বাণী

তুমি	ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে।
তুমি	কান্না পাওয়াও কাননকে গো ফুল-ঝরা প্রভাতে॥
তুমি	ভৈরবী সুর উদাস বিধুর
	অতীত দিনের স্মৃতি সুদূর,
তুমি	ফোটার আগে ঝরা মুকুল বৈশাখী হাওয়াতে॥
তুমি	কাশের ফুলের করুণ হাসি মরা নদীর চরে
তুমি	শ্বেত-বসনা অশ্রুমতী উৎসব-বাসরে।
তুমি	মরুর বুকে পথ-হারা
	গোপন ব্যথার ফল্গুধারা,
তুমি	নীরব বীণা বাণীহীনা সঙ্গীত-সভাতে॥

মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে গোপন পায়ে

বাণী

মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে গোপন পায়ে কে ঐ আসে,
আকাশ-ছাওয়া চোখের চাওয়া উতল হাওয়া কেশের বাসে।।
	উষার রাগে সাঁঝের ফাগে
	যুগল তাহার কপোল রাঙে,
কমল দুলে সুর্‌য শশী নিশীথ্‌-চুলে আঁধার-রাশে।।
	চরণ-ছোঁয়ায় পাতার ঠোঁটে
	মুকুল কাঁপে কুসুম ফোটে,
আঁখির পলক পতন-ছাঁদে নিশীথ্‌ কাঁদে দিবস হাসে।।
	গ্রহের মালা অলখ্‌-খোঁপায়,
	কপোল শোভে তারার টোপায়,
কুসুম-কাঁটায় আঁচল-বাধে রুমাল লুটায় সবুজ ঘাসে।।
	তোমার লীলা-কমল ক'রে
	নিখিল-রানী! দুলাও মোরে।
ঢুলাও আমার সুবাসখানি তোমার মুখের মদির-শ্বাসে।।

[সঞ্চিতা, কাজী নজরুল ইসলাম, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০৫]