ত্রাণ কর মওলা মদিনার উম্মত তোমার

বাণী

ত্রাণ কর মওলা মদিনার, উম্মত তোমার গুনাহ্‌গার কাঁদে।
তব প্রিয় মুসলিম দুনিয়া পড়েছে আবার গুনাহের ফাঁদে।।
	নাহি কেউ ঈমানদার, নাহি নিশান-বরদার,
	মুসলিম জাহানে নাহি আর পরহেজগার,
	জামাত শামিল হতে যায় না মসজিদে,
	পড়ে নাকো কোরআন মানে না মুর্শিদে;
ভুলিয়াছে কল্‌মা শাহাদাত, পড়ে না নামাজ ঈদের চাঁদে।।
	নাহি দান খয়রাত, ভুলে মোহ ফাঁসে
	মেতে আছে সবে বিভবে বিলাসে;
	বসিয়াছে জালিম শাহী তখ্‌তে তব —
	মজলুমের এ ফরিয়াদ আর কাহে কব,
তলোয়ার নাহি আর, পায়ে গোলামীর জিঞ্জির বাঁধে।।

আজি এ শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

বাণী

আজি এ শ্রাবণ-নিশি		কাটে কেমনে।
গুরু দেয়া গরজন			কাঁপে হিয়া ঘনঘন
শনশন কাঁদে বায়ু			নীপ-কাননে।।
অন্ধ নিশীথ, মন			খোঁজে কারে আঁধারে,
অন্ধ নয়ন ঝরে			শাওন-বারিধারে।
ভাঙিয়া দুয়ার মম			এসো এসো প্রিয়তম,
শ্বসিছে বাহির ঘর			ভেজা পবনে।।
কার চোখে এত জল		ঝরে দিক্‌ প্লাবিয়া,
সহিতে না পারি’ কাঁদে		‘চোখ গেল’ পাপিয়া।
কাহার কাজল-আঁখি		চাহি’ মোর নয়নে
ঝুরেছিল একা রাতে		কবে কোন্‌ শাওনে,
আজি এ বাদল ঝড়ে		সেই আঁখি মনে পড়ে,
বিজলি খুঁজিছে তারে		নভ-আঙনে।।

নাচো বনমালী করতালি দিয়া

বাণী

নাচো বনমালী করতালি দিয়া হেলে দুলে ধিয়া তাধিয়া।
মধুর ছন্দে নাচো আনন্দে আমার প্রাণ নাচাইয়া।
একবার নাচো হে —
বাঁকা শিখী পাখা বামে হেলায়ে, বাঁকাশ্যাম একবার নাচো হে।
বাঁকা নয়ন পীত-বসন, বনমালা গলে নাচ হে।
এসো ত্রিভঙ্গ ঠামে শ্যামরায় —
‘দক্ষিণে বামে ছন্দ নামে’ রুমুঝুমু নূপুর-পায়।।
অলক-তিলক আঁকা, শিরে শিখী পাখা, এসো মন-বন-ছায়ায়।
ঐ শুনি তার বাজে বাঁশরি আসে ঐ আসে প্রাণের হরি।।
কোটি অমল কমল-গন্ধে,
আসে দশদিক আমোদিত করি’
		এলো ঐ এলো প্রাণের হরি।।

চলচ্চিত্র : ‘ধ্রুব’

রুম্‌ ঝুম্‌ ঝুম্ ঝুম্ নূপুর বোলে

বাণী

রুম্ ঝুম্ ঝুম্ ঝুম্ নূপুর বোলে
বন-পথে যায় কে বালিকা, গলে শেফালিকা,
		মালতী মালিকা দোলে॥
চম্পা মুকুলগুলি চাহে নয়ন তুলি’
নাচে নট-বিহগ শিখী তরুতলে॥

অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে

বাণী

অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে।
নিদ্রা নাহি তোমায় চাহি’ আমার নয়ন-পাতে॥
		ভেজা মাটির গন্ধ সনে
		তোমার স্মৃতি আনে মনে,
বাদ্‌লী হাওয়া লুটিয়ে কাঁদে আঁধার আঙিনাতে॥
হঠাৎ বনে আস্‌ল ফুলের বন্যা পল্লবেরই কূলে,
নাগকেশরের সাথে কদম কেয়া ফুট্‌ল দুলে দুলে।
নবীন আমন ধানের ক্ষেতে হতাশ বায়ু ওঠে মেতে,
মন উড়ে যায় তোমার দেশে পূব-হাওয়ারই সাথে॥

যৌবনে যোগিনী আর কতকাল

বাণী

যৌবনে যোগিনী, আর কতকাল র’বি অভিমানিনী।
ফিরে ফিরে গেল কেঁদে মধু-যামিনী।।
ল’য়ে ফুলডালি এলো বনমালী,
জ্বালিল আকাশ তারার দীপালি,
ভাঙিল না ধ্যান মন্দির-বাসিনী।।

নাটক : ‘আলেয়া’