ফুলবনে যদি বসন্ত এলো

বাণী

ফুলবনে যদি বসন্ত এলো
মনবনে নাহি এলো,
কেন মনবনে নাহি এলো।।
বিবশা এ হিয়া উঠিছে রাঙিয়া
মধুর পরশন মাগিয়া,
ফুরাবে সবই কি, বিফল-চাওয়া চাহিয়া।।
তৃষিত এ প্রাণ চাহে যাহারে
গগন-পারে খোঁজে তাহারে,
অ-ধরা কি রবে পিয়া রে।।

না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়

বাণী

		না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়।
		গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়।।
			আমার নয়ন ভ’রে
			এখনো শিশির ঝরে,
		এখনো বাহুর ’পরে বঁধূ ঘুমায়।।
			এখনো কবরী-মূলে
			কুসুম পড়েনি ঢুলে,
		এখনো পড়েনি খুলে’ মালা খোঁপায়।।
			নিভায়ে আমার বাতি
			পোহাল সবার রাতি,
(আমি) 	নিশি জেগে’ মালা গাঁথি, প্রাতে শুকায়।।

ও কালো ডাগর চোখে

বাণী

ও কালো ডাগর চোখে বল জল আনিল কে।
কে গো সেই নিঠুর হিয়া না জানি কিসের ঝোঁকে।।
দু আঁখি ছাপিয়ে গেল তিতিল
কপোলখানি উজল নীলাকাশে সহসা ঢাকিল কে।।
পড়েছে ঘোমটা খসে খোঁপাটি গেছে খুলে
ঢেকেছে মুখখানি তার পাগল এলো চুলে।
না জানি কাহার কথা ব্যথিত ভাবছে মনে
সে জনা দেখিল না এ ছবি এমন ক্ষণে
স্বরগে হয়তো মেলে, মেলে না মর্তলোকে।।

আমি অগ্নি-শিখা মোরে

বাণী

আমি অগ্নি-শিখা, মোরে বাসিয়া ভালো।
যদি চাও, তব অন্তরে প্রদীপ জ্বালো।।
মোর দহন-জ্বালা র’বে আমারি বুকে,
তব তিমির রাতে হ’ব রঙিন আলো।।
হ’ব তোমার প্রেমে নব উদয়-রবি,
আমি মুছাব প্রাণের তব বিষাদ-কালো।।
ল’য়ে বহ্নি-দাহ, প্রিয়! করো না খেলা,
কবে লাগিবে আগুন, হায়! ভাঙিবে মেলা।
শেষে আমার মতো কেন মরিবে জ্ব’লে,
তুমি মেঘের মায়া, শুধু সলিল ঢালো।।
মোরে আঁচলে ঢেকে’ তুমি বাঁচালে ঝড়ে,
আজ তুমিই আবার তা’রে নিভায়ো না লো।।

কে পাঠালে লিপির দূতী

বাণী

কে পাঠালে লিপির দূতী গোপন লোকের বন্ধু গোপন।
চিন্‌তে নারি হাতের লেখা মনের লেখা চেনে গো মন।।
	গান গেয়ে যাই আপন মনে
	সুরের পাখি গহন বনে,
সে সুর বেঁধে কার নয়নে — জানে শুধু তা’রি নয়ন।।
	কে গো তুমি গন্ধ-কুসুম
	গান গেয়ে কি ভেঙেছি ঘুম,
তোমার ব্যথার নিশীথ নিঝুম — হেরে’ কি মোর গানের স্বপন।।
	নাই ঠিকানা নাই পরিচয়
	কে জানে ও-মনে কি ভয়,
গানের কমল ও-চরণ ছোঁয় — তাইতে মানি ধন্য জীবন।।
	সুরের গোপন বাসর-ঘরে
	গানের মালা বদল করে,
সকল আঁখির অগোচরে — না দেখাতে মোদের মিলন।।

নিশি-রাতে রিম ঝিম ঝিম বাদল-নূপুর

বাণী

নিশি-রাতে রিম ঝিম ঝিম বাদল-নূপুর
বাজিল ঘুমের মাঝে সজল মধুর।।
দেয়া গরজে বিজলি চমকে
জাগাইল ঘুমন্ত প্রিয়তমকে
আধো ঘুম-ঘোরে চিনিতে নারি ওরে
'কে এলো কে এলো' ব'লে ডাকিছে ময়ূর।।
দ্বার খুলি' পড়শি কৃষ্ণা-মেয়ে আছে চেয়ে'
	মেঘের পানে আছে চেয়ে —
কারে দেখি আমি কারে দেখি
	মেঘলা আকাশ না ঐ মেঘলা-মেয়ে।
ধায় নদী জল মহাসাগর পানে
বাহিরে ঝড় কেন আমায় টানে
জমাট হয়ে আছে বুকের কাছে
নিশীথ-আকাশ যেন মেঘ ভারাতুর।।