ভুল করেছি ওমা শ্যামা

বাণী

		ভুল করেছি ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে।
(তাই)		পূজিতে তোর রাঙা চরণ এলাম মনের পশু নিয়ে॥
			তুই যে বলিদান চেয়েছিস
			কাম-ছাগ, ক্রোধ-রূপী মহিষ,
		মা তোর পায়ে দিলাম লোভের জবা মোহ-রিপুর ধূপ জ্বালিয়ে॥
মাগো		দিলাম হৃদয়-কমন্ডলুর মদ-সলিল তোর চরণে,
		মাৎসর্য্যের পূর্ণাহুতি দিলাম পায়ে পূর্ণ মনে।
			ষড় রিপুর উপচারে
			যে পূজা চাস্ মা বারে বারে
		সেই পূজারই মন্ত্র মাগো ভক্তরে তোর দে শিখিয়ে॥

তব চলার পথে আমার গানের

বাণী

তব	চলার পথে আমার গানের ফুল ছড়িয়ে যাই গো।
তারা	ধুলায় প’ড়ে কেঁদে বলে ‘তোমার পরশ (আল্‌তা) হ’তে চাই গো।।
		ওরা রাঙা হ’য়ে অনুরাগের রসে
		তোমার চরণ-তলে পড়ে খ’সে,
	ওদের দ’লে যেও, নাই যদি হয় বক্ষে তেমার ঠাঁই গো।।
ওরা	বুক পেতে দেয় পায়ের কাছে, অশ্রু-টলমল,
বলে	‘ধূলির পথে চলো না গো, ফুলেরপেথে চল।’
	(তুমি)	চরণ ফেল কেন ভয়ে ভয়ে
		বিরহ মোর ফুটেছে ফুল হ’য়ে,
	কাঁটা আছে আমার বুকে, ফুলে কাঁটা নাই গো।।

কত কথা ছিল বলিবার

বাণী

কত কথা ছিল বলিবার, বলা হ’ল না।
বুকে পাষাণ সম রহিল তারি বেদনা।।
	মনে রহিল মনের আশা
	মিটিল না প্রাণের পিপাসা,
বুকে শুকালো বুকের ভাষা — মুখে এলো না।।
	এত চোখের জল, এত গান
	এত আদর সোহাগ অভিমান,
কখন সে হ’ল অবসান — বোঝা গেল না।।
	ঝরিল কুসুম যদি হায়!
কেন স্মৃতির কাঁটাও নাহি যায়,
বুঝিল না কেহ কাহারো মন বিধির ছলনা।।

আমি বাণিজ্যেতে যাব এবার

বাণী

আমি	বাণিজ্যেতে যাব এবার মদিনা শহর।
আমি	এদেশে হায় গোনাহ্গারি ছিলাম জীবন ভর।।
	পাঞ্জেগানার বাজার যেথা বসে দিনে রাতে
	দু’টি টাকা ‘আল্লাহ্’ ‘রসুল’ পুঁজি নিয়ে হাতে,
কত	পথের ফকির সওদা ক’রে হ’ল সওদাগর।।
সেথা	আজান দিয়ে কোরান প’ড়ে ফিরিওয়ালা হাঁকে
	বোঝাই ক’রে দৌলত দেয়, যে সাড়া দেয় ডাকে
ওগো	জানেন তাহার পাকে কা’বা খোদার অফিস্-ঘর।।
	বেহেশ্‌তে রোজগারের পরে ছাড়পত্র পায়,
	পায় সে সাহস ঈমান-জাহাজ যদি ডুবে’ যায়।
ওগো	যেতে খোদার খাস্-মহলে পায় সে সিল্‌মোহর।।

কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদায় বেলা

বাণী

কেন	আন ফুল-ডোর আজি বিদয়-বেলা,
মোছ	মোছ আঁখি-লোর যদি ভাঙিল মেলা॥
কেন	মেঘের স্বপন আন মরুর চোখে,
ভু’লে	দিয়ো না কুসুম যারে দিয়েছ হেলা॥
যবে	শুকাল কানন এলে বিধুর পাখি,
ল’য়ে	কাঁটা-ভরা প্রাণ এ কি নিঠুর খেলা।
যদি	আকাশ-কুসুম পেলি চকিতে কবি,
চল	চল মুসাফির, ডাকে পারের ভেলা॥

রেশ্‌মি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে

বাণী

রেশ্‌মি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে মরম কথা
পথের মাঝে চম্‌কে’ কে গো থম্‌কে’ যায় ঐ শরম-নতা।।
	কাঁখ-চুমা তার কলসি-ঠোঁটে
	উল্লাসে জল উল্‌সি’ ওঠে,
	অঙ্গে নিলাজ পুলক ছোটে
			বায় যেন হায় নরম লতা।।
অ-চকিতে পথের মাঝে পথ-ভুলানো পরদেশিকে
হান্‌লে দিঠি পিয়াস-জাগা পথ্‌বালা এই উর্বশীকে!
	শূন্য তাহার কন্যা হিয়া
	ভর্‌ল বঁধুর বেদ্‌না নিয়া,
	জাগিয়ে গেল পর্‌দেশিয়া
			বিধুর বধূর মধুর ব্যথা।।