গানের সাথি আছে আমার সুরের সেতু-পারে

বাণী

গানের সাথি আছে আমার সুরের সেতু-পারে।
তা’রি আশায় গানের ভেলা ভাসাই পারাবারে।।
	জানি জানি আমার এ সুর
	পাবেই পাবে চরণ বঁধুর
ঐ ভেলাতে আসবে বঁধু গভীর অন্ধকারে।।
ঘুমে যখন মগ্ন সবাই বন্ধু আমার আসে
ফুলের মতন সুরগুলি তার মুখ চেয়ে’হাসে।
	উদ্দেশে তার গানগুলি মোর
	যায় ভেসে যায় নেশায় বিভোর
যেমন ক’রে ছায় গো তপন চাঁদের অধিকারে।।

বরের বেশে আসবে জানি

বাণী

বরের বেশে আসবে জানি আজ মম সুন্দর।
পার হ’য়ে দূর বিরহ-লোক বহু যুগের পর।।
	আসে সে ঐ চুপে চুপে
	আমার মধুর মরণ রূপে
আর সে ছেড়ে যাবে না গো আমার-ঘর।।

নাটকঃ ‘লায়লী-মজনু’

ছাড়িয়া যেও না আর

বাণী

ছাড়িয়া যেও না আর।
বিরহের তরী মিলনের ঘাটে লাগিল যদি আবার।।
	কত সে-বিফল জনমের পর
	পথ-চাওয়া মোর ফিরে এলে ঘর,
এলো শুভ দিন, কাটিল অসহ রাতের অন্ধকার।।
দেবতা গো ফিরে চাও,
মোর বেদনার তপস্যা-শেষ, মিলনের বর দাও।
	ল’য়ে জীবনের সঞ্চিত ব্যথা
	তোমার চরণে হলাম প্রণতা,
লহ পূজা মোর নয়নের লোর শীর্ণা তনুর হার।।

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে

বাণী

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে ঐ কোন্ উদাসী।
বুকে কেন নীরব বীণা মুখে কেন নেইকো হাসি।।
	আকাশে চাঁদ তারার মেলা
	বনের পথে রঙের ডালা
তবু কেন আঁখিতে ওর উথলে পড়ে অশ্রুরাশি।।
	বনের হাওয়ায় বাজিয়ে বেণু,
	ছড়িয়ে চলে ফুলের রেণু
বিদেশিকে আন্‌না ডেকে সাধ হয়েছে ভালবাসি।।

১. ফুলেল হাওয়া

নিশীথ নিশীথ জাগি’ গোঁয়ানু

বাণী

নিশীথ নিশীথ জাগি’ গোঁয়ানু রাতি।
জ্বলিয়া জ্বলিয়া নেভে শিয়রের বাতি।।
সারাদিন গাঁথি মালা তুলিয়া কুসুম
পথ চাহি চাহি ক’রে চোখে আসে ঘুম,
রহে পড়ি’ নব শেজ কুসুমের পাঁতি।।
আমার কাননে আসি’ অলি যায় ফিরে
গাহি গান ফেরে সাঁঝে পাখি সব নীড়ে,
একেলা রহি গো শুধু আমি বিনা সাথি।।

গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে

বাণী

গভীর রাতে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
দূর গগনে প্রিয় তিমির–‘পারে।।
জেগে যবে দেখি বঁধু তুমি নাই কাছে
আঙিনায় ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
বাণ–বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।
মৌনা নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।
কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।

১. দেখিবে এসো প্রিয়