মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে

বাণী

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে।
কে পূর্ণ-যুবতী গো চল নীর-ভরণে।
	বেণী-বিলম্বিতা
	উন্‌মনা অসম্বৃতা,
দেশকার লোভাতে চল মুনি-মন হরণে।।
পূর্বাচল-বিভাসিত গো তব গৌরী অঙ্গে,
ব্রজে তুমি কি বিরাজ কর গোপী-মাধব সঙ্গে।
	পঞ্চমে পাপিয়া বোলে
	চমকি’ থাম তরুতলে,
সরসী-নীরে কমল রাঙে তব অরুণ-বরণে।

আজি কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে

বাণী

আজি		কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে।
জ্বলে		দীপ-শিখা আম্র-মুকুলে
রাঙা		পলাশ অশোকে বকুলে,
আসে		সে আলোর টানে বন-তল
		মৌমাছি প্রজাপতি দলে দল
পুড়ে		মরিতে সে রূপ-শিখাতে
প্রাণ		সঁপিতে বাসন্তিকাতে;
		পরিমল অঞ্জন মাখিয়া নয়নে
হের		ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
জ্বলে		গগনে তারার দীপালি
আজি		ধরাতে আকাশে মিতালি
ধরা		চাঁপার গেলাস ভরিয়া
মধু		উর্ধ্বে তুলে গো ধরিয়া
পান		করিতে সে মধু পরীরা
আসে		নেমে কাননে স-শরীরা;
		বাজে উৎসব বাঁশি গগনে পবনে
		হের ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।

আমার মা আছে রে সকল নামে

বাণী

(আমার)	মা আছে রে সকল নামে মা যে আমার সর্বনাম।
	যে নামে ডাক শ্যামা মাকে পুর্‌বে তাতেই মনস্কাম।।
		ভালোবেসে আমার শ্যামা মাকে
		যার যাহা সাধ সেই নামে সে ডাকে,
	সেই নামে মা দেয় রে সাড়া কেউ শ্যামা কয়, কেহ শ্যাম।।
	এক সাগরে মিশে গিয়ে সকল নামের নদী,
	সেই হরি হর কৃষ্ণ ও রাম, দেখিস্ তাঁকে যদি।
		নিরাকারা সাকারা সে কভু
		সকল জাতির উপাস্য সে প্রভু,
	নয় সে নারী নয় সে পুরুষ, সর্বলোকে তাঁহার ধাম।।

১. দেয় রে ধরা।

হিন্দোলি’ হিন্দোলি’ ওঠে নীল সিন্ধু

বাণী

হিন্দোলি’ হিন্দোলি’ 
		ওঠে নীল সিন্ধু
গগনে উঠিল তার
		কোন্ পূর্ণ ইন্দু।।
শত শুক্তি-আঁখি দিয়া
পিইছে চাঁদ-অমিয়া,
শিশির রূপে ঝরিয়া
		পড়ে জোছনা-বিন্দু।।

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন

বাণী

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন
শুধু নাম শুনে যাঁর জাগে জোয়ার পরানে এমন।।
	শুধু যাহার বাঁশির সুরে
	আমার এত নয়ন ঝুরে
ওগো না জানি তার রূপ কেমন মদন-মোহন।।
সে বুঝি লো' অপরূপ সে চির-নতুন
বাঁশির সুরের মতো আঁখি-সকরুণ।
	তারে আমি দেখি যদি
	কাঁদিব কি নিরবধি
ওগো, যেমন ক'রে ঐ যমুনা কাঁদে অনুক্ষণ।।

আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

বাণী

আমি	সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
তুমি	সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি।।
		আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
		সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
	রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী।।
	রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
	ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাশিঁ।
		পরিয়া তোমার রূপ-অঞ্জন
		ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
	উছলি' উঠুক মোর সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি।।