আমি গিরিধারী মন্দিরে নাচিব

বাণী

আমি গিরিধারী মন্দিরে নাচিব,
			আমি নাচিব প্রেম যাচিব।।
নেচে নেচে রস শেখরে মোহিব
মধুর প্রেম তার যাচিব (আমি)
প্রেম-প্রীতির বাঁধিব নূপুর রূপের বসনে সাজিব (আমি)।।
মানিব না লোক-লাজ কুলের ভয় আনন্দ রাসে মাতিব।
শ্যামের বেদীতে বিরাজিব বামে হরিরে মীরার রঙে রাঙিব (আমি)।।

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল

বাণী

কাল কাল ক’রে গেল কতকাল কালের নাহিক শেষ।
কাল যাই যথা বন্ধু রে ল’য়ে যাব আমি সেই দেশ।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’

নিশীথ জাগিয়া সে কি মোর

বাণী

নিশীথ জাগিয়া সে কি মোর গান শোনে।
যে গান ভাসিয়া যায় আজি নিশি-পবনে।।
বলাকা মালার মত আকাশের কোলে,
তারা যেতে যেতে হায়,
ছায়া ফেলিয়া কি যায় —
		তার মন-বাতায়নে।।
মোর কুণ্ঠিতা বাণী সুরের গুণ্ঠনে শিহরায় আবেশে,
শুনিয়া আমার গান আমার চেয়ে কি গো মোর কথা ভাবে সে।
আমার সঙ্গীত-ইঙ্গিত তাহারে,
আনিবে না কি মোর পথের ধারে।
সুমুখে যে কথা তায়,
বলিতে পারি না হায় —
গানের আড়ালে তাই জানাই গোপনে।।

শিউলি তলায় ভোর বেলায়

বাণী

শিউলি তলায় ভোর বেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।
শেফালি পুলকে ঝ’রে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা।।
		ঘোম্‌টা খুলিয়া তার পিঠে লুটায়
		শিথিল কবরী লুটিছে পায়,
নৃত্যের ভঙ্গে ফুল তোলে রঙ্গে, আধো আঁধার বন তার রূপে উজালা।।
নিলাজ পাঁয়জোরে তার ওঠে ঝঙ্কার রিনিঝিনি, মন কয় চিনি চিনি
		এ কি গো বন-দেবীর সতিনী
শিশির ধরে’ পায় আল্‌তার রঙ্‌ চায় পাখি তারি গান গায় বনে নিরালা।।

আজি ঘুম নহে নিশি জাগরণ

বাণী

আজি	ঘুম নহে, নিশি জাগরণ।
	চাঁদেরে ঘিরি’ নাচে ধীরি ধীরি তারা অগণন।।
	প্রখর-দাহন দিবস-আলো,
	নলিনী-দলে ঘুম তখনি ভালো।
	চাঁদ চন্দন চোখে বুলালো
		খোলো গো নিঁদ-মহল-আবরণ।।
	ঘুরে ঘুরে গ্রহ, তারা, বিশ্ব, আনন্দে
	নাচিছে নাচুনি ঘূর্ণির ছন্দে।
	লুকোচুরি-নাচ মেঘ তারা মাঝে
	নাচিছে ধরণী আলোছায়া-সাজে,
	ঝিল্লির ঘুমুর ঝুমুঝুমু বাজে
		খুলি’ খুলি’ পড়ে ফুল-আভরণ।।

হাজার তারার হার হয়ে গো

বাণী

হাজার তারার হার হয়ে গো দুলি আকাশ-বীণার গলে।
তমাল-ডালে ঝুলন ঝুলাই নাচাই শিখী কদম-তলে।।
	‘বৌ কথা কও’ ব’লে পাখি
	করে যখন ডাকাডাকি,
ব্যথার বুকে চরণ রাখি’ নামি বধূর নয়ন-জলে।।
ভয়ঙ্করের কঠিন আঁখি আঁখির জলে করুণ করি,
নিঙাড়ি’ নিঙাড়ি’ চলি আকাশ-বধূর নীলাম্বরী।
	লুটাই নদীর বালুতটে,
	সাধ ক’রে যাই বধুর ঘটে,
সিনান-ঘাটের শিলাপটে ধরি চরণ-ছোঁওয়ার ছলে।।