টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব

বাণী

টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব বচন যুদ্ধ ঘোর
কে বড় কে ছোট চাই মীমাংসা, কার আছে কর-জোর॥

টিকি বলে শিরে আমি বিরাজিলে হয় আহা কিবা শোভা।
যেন প্রকান্ড কুষ্মান্ডের বৃন্তটি মনোলোভা।
এ যে চতুর্বর্গ ফলেরি বোঁটা।
শুনে টুপি ফিক্ ক’রে হেসে বল্লেঃ ‘ভায়া, শিরে বিরাজ করবার
শোভার কথা যদি বল তো ও বড়াই আমারি মুখে মানায়,
ও বড়াই আমার মুখে মানায়।’
আমি বাঁকা হয়ে যবে শিরে বসি, দেখে বিবিরা মূর্ছা যায়॥

টিকি বলে, মোরে বলে চৈতন্ কভু বা আর্কফলা
আর আমারি প্রসাদে প্রণামীটা মেলে দুটি বেলা চাল-কলা॥
(মেলে দাদা) দুটি বেলা চাল-কলা॥

[শুনে বাদশাহী চালে টুপি বল্লেঃ ‘আরে তোবা তোবা
চাল আর কলা? ওসব আবার খাদ্য নাকি হে? এ্যাঁ?]
বাদশাহী চালে টুপি বলে ওসব খাদ্য নাকি?
দেখো, আমারি দোয়ায়, আহা তোফা জুটে যায়, গোস্ত ও রামপাখি।

টিকি বলে মিয়া, আমার কৃপায় স্বর্গে free pass মেলে
(আর) আমারঃ through দিয়ে মগজে বুদ্ধি electricity খেলে
মিয়া আমার কৃপায় স্বর্গে free pass মেলে।
এ যে পারে যাবার টিকিট - শুধু টিকিট নয়।
[শুনে টুপি রেগে কাঁই, বল্লেঃ]
বেহেশ্‌তে মোর একচেটে অধিকার
কাফেরের তরে no admission খোদার ইস্তাহার।

(এই রূপে) ক্রমশঃ তর্ক বাড়িল ভীষণ বচনে বেজায় দড়,
এ উহারে কয় মোর ঠাঁই উঁচু তুমি বাপু স’রে পড়॥
সহসা মুন্ড ছিন্ন হইল শক্র কৃপাণ ঘায়।
টুপি আর টিকি একই সঙ্গে ভূঁয়ে গড়াগড়ি যায়॥

শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির–নির্মল

বাণী

শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির–নির্মল শান্ত অচঞ্চল ধ্রুব–জ্যোতি
অশান্ত এ চিত কর হে সমাহিত সদা আনন্দিত রাখো মতি।।
দুঃখ–শোক সহি অসীম সাহসে
অটল রহি যেন সম্মানে যশে
তোমার ধ্যানের আনন্দ–রসে
	নিমগ্ন রহি হে বিশ্বপতি।।
মন যেন না টলে খল কোলাহলে, হে রাজ–রাজ!
অন্তরে তুমি নাথ সতত বিরাজ, হে রাজ–রাজ!
বহে তব ত্রিলোক ব্যাপিয়া, হে গুণী,
ওঙ্কার–সংগীত–সুর–সুরধুনী,
হে মহামৌনী, যেন সদা শুনি
	সে সুরে তোমার নীরব আরতি।।

নাইয়া ধীরে চালাও তরণী

বাণী

	নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী
	একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।।
	হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে
	যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে
ঐ	ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস
তায়	চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে
	পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।।
	তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্
	একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্।
	দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী
	কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল ।
	ওঠে ডিঙি পান্‌সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে

বাণী

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে।
প্রখর রবির তাপে রে।।
চাহিয়া তৃষ্ণার বারি
চাতক ওঠে ফুকারি’
করুণ-শান্ত বিলাপে রে।।
রুদ্রযোগী ও-কে দূর বিমানে,
নিমগ্ন রহিয়াছে যেন ধ্যানে।
শকুন্তলা সম ভয়ে
কাঁপে ধরা র’য়ে র’য়ে,
অগ্নি-ঋষির অভিশাপ রে।।

সখি সাপের মণি বুকে করে কেঁদে নিশি যায়

বাণী

সখি সাপের মণি বুকে করে কেঁদে নিশি যায়
কাল-নাগিনী ননদিনী দেখতে পাছে পায় (লো সখি)।।
	সই প্রানের গোপন কথা মম
	পিঞ্জরেরি পাখির সম
পাখা ঝাপটিয়া কাঁদে বাহির হতে চায়।।
পাড়ার বৌ-ঝি যদি জলের ঘাটে কানে কথা কয়
আমার কথাই কইলো বুঝি মনে জাগে ভয় (সখি)
আমি চাইতে নারি চোখে চোখে
পাছে মনের কথা জানে লোকে।
	আমার একি হলো দায়
	সখি লুকানো না যায়
সখি কাঙাল যেমন পেয়ে রতন থুইতে ঠাঁই না পায়।।

এলো শ্যামল কিশোর তমাল-ডালে

বাণী

এলো শ্যামল কিশোর তমাল-ডালে বাঁধে ঝুলনা।
সুনীল শাড়ি পরো ব্রজনারী পরো নব নীপ-মালা অতুলনা।।
	ডাগর চোখে কাজল দিও,
	আকাশী রং প'রো উত্তরীয়,
নব-ঘন-শ্যামের বসিয়া বামে দুলে দুলে ব'রলা, 'বঁধু, ভুলো না'।।
	নৃত্য-মুখর আজি মেঘলা দুপুর,
	বৃষ্ট্রির নূপুর বাজে টুপুর টুপুর।
	বাদল-মেঘের তালে বাজিছে বেণু,
	পান্ডুর হ'ল শ্যাম মাখি' কেয়া-রেণু,
বাহুতে দোলনায় বাঁধিবে শ্যামরায় ব'লো, 'হে শ্যাম, এ বাঁধন খুলো না'।।