দোহাই তোদের এবার তোরা

বাণী

দোহাই তোদের! এবার তোরা সত্যি করে সত্য বল্।
ঢের দেখালি ঢাক ঢাক গুড় গুড় ঢের মিথ্যা ছল।।
পেটে এক আর মুখে আরেক — এই যে তোদের ভন্ডামি,
এতেই তোরা লোক হাসালি, বিশ্বে হলি কম্‌-দামি।
নিজের কাছেও ক্ষুদ্র হলি আপন ফাঁকির আফসোসে,
বাইরে ফাঁকা পাঁয়তারা তাই, নাই তলোয়ার খাপ-কোষে।
তাই হলি সব সেরেফ আজ কাপুরুষ আর ফেরেব-বাজ
সত্য কথা বলতে ডরাস তোরাই আবার করবি কাজ —
				ফোঁপরা ঢেঁকির নেইক লাজ।
ইলশেগুড়ি বৃষ্টি দেখেই ঘর ছুটিস্‌ সব রাম-ছাগল!
যুক্তি তোদের খুব বুঝেছি, দুধকে দুধ আর জলকে জল।।

ও কে উদাসী বেণু বাজায়

বাণী

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
	গৃহীরে করে সে পরবাসী
	রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
	অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে

বাণী

পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।
‘পিউ পিউ পিউ কাঁহা’ পাপিয়া পিয়া বোলে।।
সে পিয়া পিয়া সুরে বাদল ঝুরে, নদী-তরঙ্গ দোলে।
কূলে কূলে কুলু কুলু নদী-তরঙ্গ দোলে।
ফুটিল দল মেলি’ কেতকী, বেলি, শিখী পেখম খোলে।
দু’লে দু’লে দু’লে নেচে’ শিখী পেখম খোলে।।
পিয়ায় যা’রা নাহি পেল হেথায়, তাহারা কি
এসেছে ধরায় পুন হইয়া পাপিয়া পাখি?
দেখিয়া ঘরে ঘরে তরুণীর কালো আঁখি
‘পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা’ আজিও উঠিছে ডাকি’!
পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।।

বিঁধে গেল তীর তেরছ তার চাহনি

বাণী

বিঁধে গেল তীর তেরছ তার চাহনি।
বিঁধিল মরম-মূলে চাহিল যেমনি।।
হৃদয় বনের নিষাদ সে নিঠুর
তনু তার ফুলবন আঁখি তাহে ফণি।
এলো যখন স্বপন-পরী উড়ায়ে আঁচল সোনালি,
মোর ধেয়ান-লোক হতে যেন এলো রূপ ধরে রূপওয়ালী।
দেহে তার চাঁদিনী-চন্দন মাখা, হায় চাহিল সে যেই
তার চোখের ঐ তীর খেয়ে কেঁদে কহিল হৃদি;
ওগো হেনে গেল তীর।।

সই ভালো করে বিনোদ বেণী

বাণী

সই		ভালো ক’রে বিনোদ–বেণী বাঁধিয়া দে
মোর		বঁধু যেন বাঁধা থাকে বিননী–ফাঁদে।।
সই		বাঁধিতে সে বাঁধন–হারা বনের হরিণ
সই		জড়ায়ে দে জরীণ ফিতা মোহন ছাঁদে।।
সই		চপল পুরুষ সে তাই কুরুশ কাঁটায়
		রাখিব খোঁপারি সাথে বিঁধিয়া লো তায়।
তাহে		রেশমি জাল বিছায়ে দে ধরিতে চাঁদে।।
		প্রথম প্রণয়–রাগের মত আলতা রঙে
		রাঙায়ে দে চরণ মোর এমনি ঢঙে।
সই		পায়ে ধ’রে সে যেন লো আমারে সাধে।।

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা

বাণী

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচ্‌কারিতে
আজ শ্যামে লো করব ঘায়েল আবির হাসির টিট্‌কারিতে।।
রঙে রাঙা হয়ে শ্যাম আজ হবে যেন রাই কিশোরী
যমুনা জল লাল হবে আজ আবির ফাগের রঙে ভরি
কপালে কলঙ্ক মোদের ধুয়ে যাবে রঙ ঝারিতে।।
গুরুজনার গঞ্জনা আজ
সইব না লো মানব না লাজ
কূল ভুলে গোকুল পানে ভেসে যাব রাঙা গীতে।।