আকাশে ভাই চাঁদ উঠেছে

বাণী

আকাশে ভাই চাঁদ উঠেছে
(আহা) দেখবি যদি আয় না!
রূপে পরান পাগল করে,
তারে হাতে ধরা যায় না।
হাতে ধরা যায় না – 
আমার সাধের ‘আয়না’ –
আমার বুকে ফুট্‌লো রে ভাই
কোন্ বাগিচার ফুল
কোন্ সে দেশের হাসনুহানা
কোন্ বসোরার গুল্,
ওরে গন্ধে পরান পাগল করে,
তারে গলায় পরা যায় না।।

নাটিকা : ‘কাফন-চোরা’

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া

বাণী

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া
			কৃষ্ণ কানাইয়া হরি।
মাখি’গোখুর ধূলিরেণু গোঠে চরাইয়া ধেনু
			বাজায়ে বাঁশের বাঁশরি।।
গোপী চন্দন চর্চিত অঙ্গে
প্রাণ মাতাইয়া প্রেম তরঙ্গে
বামে হেলায়ে ময়ুর পাখা দুলায়ে তমাল শাখা
			দীপবনে, দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গে।
এসো লয়ে সেই শ্যাম-শোভা ব্রজ বধু মনোলোভা
			সেই পীত বসন পরি’।।
এসো গগনে ফেলি নীল ছায়া
আনো পিপাসিত চোখে মেঘ মায়া।
এসো মাধব মাধবী তলে
এসো বনমালী বন-মালা গলে
এসো ভক্তিতে প্রেমে আঁখি জলে
এসো তিলক লাঞ্ছিত সুর নর বাঞ্ছিত
			বামে লয়ে রাই কিশোরী।।

যেতে নারি মদিনায় আমি হে প্রিয় নবী

বাণী

যেতে নারি মদিনায়, আমি নারি, হে প্রিয় নবী
আমারই ধ্যানে এসো প্রাণে এসো আল-আরবি।।
তপ্ত যে নিদারুণ আরবের সাহারা গো
শীতল হৃদে মম রাখিব তোমারই ছবি।।
ভালবাস যদি না মরুভূ ধূসর গো
জ্বালায়ে, হৃদি মম করিব সাহারা গোবি।।
হে প্রিয়তম, গোপনে তব তরে আমি কাঁদি
তোমারে দিয়াছি মোর, দুনিয়া আখের সবই।।

একি সুরে (কোন্‌ সুরে) তুমি গান শুনালে

বাণী

একি সুরে (কোন্ সুরে) তুমি গান শুনালে ভিনদেশি পাখি
এ যে সুর নহে, মদির সুরা, রে সুরের সাকি।।
		বসি’ মোর জানালা পাশে
		কেন বুক-ভাঙা নিরাশে
যাও ঘুম ভাঙায়ে নিতি সকরুণ সুরে ডাকি।।
তোর ও সুরে কাঁদছে ঊষা অস্ত চাঁদের গলা ধ’রে
ভোর-গগনের কপোল বেয়ে শিশির-অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
		আমি রইতে নারি ঘরে
		কেন প্রাণ কেমন করে
আমার মন লাগে না কাজে, আর জলে ভরে আঁখি।।

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়

বাণী

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়
বহু রাত্রি হল আর জাগাসনে মায়।।
কোলে লয়ে তোরে ধীরে ধীরে দোলাবো
ঘুম-পাড়ানিয়া গান তোরে শোনাবো
গায়ে হাত বুলাবো পাঙ্খা ঢুলাবো
মন ভুলাবো কত রূপকথায়।।
তোরে	কে বলে চঞ্চল একচোখো সে
মোর	শান্ত গোপাল থাকে গোষ্ঠে ব’সে
তোরে	কে বলে ঝড় তোলে থির যমুনায়
সে যেদিন রাত ঘোরে তার মা’র পায় পায়।।

এসো এসো এসো ওগো মরণ

বাণী

	এসো এসো এসো ওগো মরণ!
এই	মরণ-ভীতু মানুষ-মেষের ভয় কর গো হরণ।।
	না বেরিয়েই পথে যা’রা পথের ভয়ে ঘরে
	বন্ধ-করা অন্ধকারে মরার আগেই মরে,
তাতা	থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ তাদের বুকের ’পরে —
ভীম	রুদ্রতালে নাচুক তোমার ভাঙন-ভরা চরণ।।
		দীপক রাগে বাজাও জীবন-বাঁশি
		মড়ার মুখেও আগুন উঠুক হাসি’।
	কাঁধে পিঠে কাঁদে যথা শিকল জুতোর ছাপ
	নাই সেখানে মানুষ সেথা বাঁচাও মহাপাপ,
সে	দেশের বুকে শ্মাশান মশান জ্বালুক তোমার শাপ,
সেথা	জাগুক নবীন সৃষ্টি অবার হোক নব নাম-করণ।।
		হাতের তোমার দণ্ড উঠুক কেঁপে’,
		এবার দাসের ভুবন ভবন ব্যেপে’।
	মেষগুলোকে শেষ ক’রে দেশ-চিতার বুকে নাচো!
	শব ক’রে আজ শয়ন, হে শিব, জানাও তুমি আছ।
	মরায় ভরা ধরায়, মরণ! তুমিই শুধু বাঁচো —
এই	শেষের মাঝেই অশেষ তুমি, করছি তোমায় বরণ।।
		জ্ঞান-বুড়ো ঐ বলছে জীবন মায়া,
		নাশ কর ঐ ভীরুর কায়া ছায়া!
	মুক্তি-দাতা মরণ! এসো কাল-বোশেখীর বেশে;
	মরার আগেই মরলো যারা, নাও তাদেরে এসে।
	জীবন তুমি সৃষ্টি তুমি জরা-মরার দেশে,
তাই	শিকল বিকল মাগ্‌ছে তোমার মরণ-হরণ-শরণ।।

‘মরণ-বরণ’