কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো

বাণী

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো
খোঁপা খুলে কেশ হলো বাউল লো।।
পথে সে বাজালো মোহন–বাঁশি
তোর ঘরে ফিরে যেতে হলো এ ভুল লো।।
কে নিল কেড়ে তোর পৈঁচী চুড়ি
বৈঁচি মালায় ছি ছি খোয়ালি কুল লো।।
ও সে বুনা পাগল পথে বাজায় মাদল
পায়ে ঝড়ের নাচন শিরে চাঁচর চুল লো।।
দিল নাকেতে নাকছাবি বাবলা ফুলি
কুঁচের চুড়ি আর ঝুঁমকো ফুল দুল লো।।
সে নিয়ে লাজ দু’কূল দিল ঘাঘরি
সে আমার গাগরি ভাসালো জলে বাতুল লো।।

নাটকঃ মহুয়া

পাঠাও বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত্

বাণী

	পাঠাও বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত্ পুন সাম্যের বাণী,
(আর)	দেখিতে পারি না মানুষে মানুষে এই হীন হানাহানি।।
		বলিয়া পাঠাও, হে হজরত
		যাহারা তোমার প্রিয় উম্মত,
	সকল মানুষে বাসে তা’রা ভালো খোদার সৃষ্টি জানি’ —
			সবারে খোদারই সৃষ্টি জানি।।
	আধেক পৃথিবী আনিল ঈমান (তোমার) যে উদারতা-গুণে,
	শিখিনি আমরা সে-উদারতা, (কোরানে হাদিসে) কেবলি গেলাম শুনে’।
		তোমার আদেশ অমান্য ক’রে
		লাঞ্ছিত মোরা ত্রিভুবন ভ’রে,
	আতুর মানুষে হেলা ক’রে বলি, ‘আমরা খোদারে মানি’।।

চুম্বক পাথর হায় লোহারে দেয়

বাণী

চুম্বক পাথর হায় লোহারে দেয় গালি,
আমার গায়ে ঢ’লে প’ড়ে কুলে দিলে কালি।।
	লোহা বলে, হায় পাষাণী
	তুমিই লহ বুকে টানি’,
(কেন) সোনা-রূপা ফেলে দিয়ে আমায় টান খালি।।
চুম্বক আর লোহায় চলে দ্বন্দ্ব সারা বেলা,
কে’দে মরে, বুঝতে নারে (এ) কোন্ নিঠুরের খেলা।
	হঠাৎ তাদের দৃষ্টি গেল খুলে
	ঊর্দ্ধ পানে চায় নয়ন তুলে,
(দেখে) খেলেন তাদের নিয়ে রস-শেখর বনমালি।।

বনে বনে দোলা লাগে

বাণী

বনে বনে দোলা লাগে।
মনে মনে দোলা লাগে
	দখিনা-সমীর জাগে।।
একি এ বেদনা লয়ে
ফুটিল কুসুম হৃদয়ে
আবেশে পুলকে ভয়ে
	না-জানা পরশ মাগে।।
কিশোর হৃদয় পুটে
অশোক রঙিন ফোটে
কপোল রাঙিয়া ওঠে
	অতনুর অনুরাগে।।

উদার প্রাতে কে উদাসী এলে

বাণী

		উদার প্রাতে কে উদাসী এলে।
		প্রশান্ত দীঘল নয়ন মেলে’।।
		স্নিগ্ধ সকরুণ তোমার হাসি
		আঘাত করে যেন আমারে আসি’,
পাষাণ সম তব মৌন মূরতি মোর বুকে বিষাদের ছায়া কেন ফেলে।।
		উন্মন ভিখারি গো বল মোর কাছে
		শূন্য হৃদয় তব কোন মন যাচে,
অশ্রু তুষার ঘন বিগ্রহ তব গলিয়া পড়িবে প্রেমে কার মালা পেলে।।

আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে

বাণী

মজনু		:	আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে, হায়!
			আমার যে প্রাণ-পতঙ্গ ওই প্রদীপ পানেই ধায়॥
লায়লী	:	আমার প্রেম যে অনল শিখা জ্বলে তিমির রাতে
			পতঙ্গরে পোড়াই আমি নিজেও পুড়ি সাথে।
মজনু		:	একি ব্যথা একি নেশা 
			এই কি গো প্রেম গরল-মেশা!
লায়লী	:	তত আলো দান করে সে যত সে জ্বালায়॥

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘লায়লী মজনু’