কে এলে হংস-রথে কোথা যাও

বাণী

কে এলে হংস-রথে, কোথা যাও?
তার লিপি এনেছ কি? দাও মোরে দাও।।
যা’র বিরহে মোর হৃদয়-কমল
অশ্রু-সরসী-নীরে কাঁপে টলমল,
শুনেছি তার সাথে তুমি কথা কও —
কার কথা হয় সেথা — শোনাও শোনাও।।
আনন্দ-দূত তুমি, লিপি আন নাই?
দেখিতে কি আসিয়াছ — কত দুঃখ পাই?
সে এত প্রেম দিয়ে কেন লুকিয়ে থাকে
কেন দেখা দেয় না এত যে ডাকে,
কেন মোর আর ভালো লাগে না কিছুই?
মনে ক’রে বলো যদি তার দেখা পাও।।

যেন ফিরে না যায় এসে

বাণী

যেন	ফিরে না যায় এসে আজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।
সখি	দিস্‌নে তোরা তা’রে লাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	পথ ভুল ক’রে যায় আন-ঘরে জানি সই,
তবু	আমারি সে রাজাধিরাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	ফুল চুরি ওর পেশা ও শুধু চোখের নেশা, জানি সই,
একা	আমারি ছবি তার হিয়া-মাঝ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	সুন্দর ব’লে তায় সকলে পাইতে চায়,
সে	পরালে মোরে প্রেমের তাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।

জানি জানি প্রিয় এ জীবনে মিটিবে না সাধ

বাণী

জানি	জানি প্রিয়, এ জীবনে মিটিবে না সাধ
আমি	জলের কুমুদিনী ঝরিব জলে
তুমি	দূর গগনে থাকি’ কাঁদিবে চাঁদ।।
	আমাদের মাঝে বঁধু বিরহ বাতাস
	চিরদিন ফেলে যাবে দীরঘ শ্বাস
	পায় না বুকে কভু পায় না বুকে তবু মুখে মুখে
	চাঁদ কুমুদীর নামে রটে অপবাদ।।
তুমি	কত দূরে বঁধু, তবু বুকে এত মধু কেন উথলায়?
	হাতের কাছে রহো রাতের চাঁদ গো
	ধরা নাহি যায় তবু ছোঁওয়া নাহি যায়।
	মরু-তৃষা ল’য়ে কাঁদে শূন্য হিয়া
	সকলে বলে আমি তোমারি প্রিয়া
সেই	কলঙ্ক-গৌরব সৌরভ দিল গো
	মধুর হ’ল মোর বিরহ-বিষাদ।।

উদার অম্বর দরবারে তোরই

বাণী

উদার অম্বর দরবারে তোরই প্রশান্ত প্রভাত বাজায় বীণা।
শতদল-শ্রভ্রা পদতল-লীনা, প্রশান্ত প্রভাত বাজায় বীণা।।
	সহস্র কিরণ-তারে হানি’ ঝঙ্কার
	ধ্বনি তোলে অনাহত গভীর ওঙ্কার,
সেই সুরে উদাসীন, পরমা প্রকৃতি ধ্যান-নিমগ্না মহাযোগাসীনা।।
	আনন্দ-হংস বিমুগ্ধ গতিহীন
	স্থির হ’য়ে ব্যোমে শোনে সে জ্যোতির্বীণ,
ঝরা ফুল-অঞ্জলি তা’রি চরণে প্রণতা ধরণী বাণী-বিহীনা।।

তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা

বাণী

তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা আমার প্রথম পূজার ফুল।
ভজন, পূজন জানি না মা হয়ত হবে কতই ভুল।।
	দাঁড়িয়ে দ্বারে ‘মা মা’ বলে
	ভাসি আমি নয়ন জলে।
ভয় হয় মা ছুঁই কেমনে মা তোর পূজার বেদী-মূল।।
আশ্রয় মোর নাই জননী ত্রিভুবনে কোথাও হায়!
দাঁড়াই মাগো কাহার কাছে তুইও যদি ঠেলিস পায়।
	হানে হেলা সবাই যা’রে
	তুই নাকি কোল দিস্‌ মা তা’রে	
আমি সেই আশাতে এসেছি মা অকূলে তুই দে মা কূল।।

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো

বাণী

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো।
আজ যে যাবার সময় হলো।।
নিব্‌বে যখন আমার বাতি 
আসবে তোমার নূতন সাথি, 
আমার কথা তা'রে বলো।।
ব্যথা দেওয়ার কী যে ব্যথা 
জানি আমি, জানে দেবতা।
জানিলে না কী অভিমান 
করেছে হায় আমায় পাষাণ, 
দাও যেতে দাও, দুয়ার খোলো।।