কার মঞ্জীর রিনিঝিনি বাজে

বাণী

কার মঞ্জির রিনিঝিনি বাজে — চিনি চিনি।
প্রাণের মাঝে সদা বাজে তারি রাগিণী।।
বন-শিরিষের জিরিজিরি পাতায়
ধীরি ধীরি ঝিরি ঝিরি নূপুর বাজায়,
তমাল-ছায়ায় বেড়ায় ঘুরে মায়া-হরিণী।।
আমার গানে তারি চরণের অনুরণনে
ছন্দ জাগে গন্ধে রসে রূপে বরণে। 
কান পেতে রই দুয়ার পাশে —
তারি আসার আভাস আসে,
ঝঙ্কার তোলে মনের বীণায় বীণ-বাদিনী।।

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া

বাণী

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া ফিরে ফুল-বনের গলি।
‘ফিরে যাও চপল পথিক’, দু’লে কয় কুসুম-কলি।
		দু’লে কয় কুসুম-কলি॥
ফেলিছে সমীর দীরঘ শ্বাস —  
আসিবে না আর এ মধুমাস,
কহে ফুল, ‘জনম জনম এমনি গিয়াছ ছলি’।
		জনম জনম গিয়াছ ছলি’॥
কাঁদে বায়, ‘নিদাঘ আসে
আমি যাই সুদূর বাসে’,
ফুটে ফুল হাসিয়া ভাসে, ‘প্রিয়তম যেয়োনা চলি’।
		ওগো প্রিয়তম যেয়োনা চলি’॥

বাঁকা চোখে চাহে ও কে

বাণী

‌	বাঁকা চোখে চাহে ও কে
	ওকি ভয়ে, না লাজে, না ভালোবাসায়?
	বটের ঝুরি ধ’রে হেসে তাকায়
	দীঘির জলে কভু কল্‌সি ভাসায়॥
(আমার) পাখি শিকার দেখে তাহার আঁখি ছলছল
যেন	দুটি ঝিনুক ভরা কাজলা দীঘির জল
তার	আঁজলা ভরা শাপলা কাঁপে টলমল্ গো
সে	বাঁকিয়ে জোড়া ভুরু মোরে শাসায়॥
কভু	এলায়ে গা বাঁধে খোঁপা কোমরে জড়ায় আঁচল
	মট্‌কায় আঙুল, কভু ঘসে সে পা গো
কভু	জলে ডোবে কভু সাঁতার কাটে
	নানান ছলে সে দেরি করে জলের ঘাটে
মোরে	জানায় যেন ও সে আছে ব’সে
	কাহার আসার আশায়॥

এলো কৃষ্ণ কানাইয়া তমাল বনে সাজো

বাণী

এলো কৃষ্ণ কানাইয়া তমাল বনে সাজো ঝুলনের সাজে
তারে গোপবালিকার মালা পরাব আজি এ রাখাল বাজে।।
নব নীপমালাপরি আসিল কিশোর হরি
বাজিল ঘন মেঘে বাঁশরি বৃষ্টিতে নূপুর বাজে।।
সে এসেছে ঐ মেঘ চন্দন মন্থন তনু গোপী বরণ এসেছে
নীল লাবনিতে ছাইয়া অবনি বিদ্যুত হাসি হেসেছে।
ঘনঘটা গগনে দোলা লাগায় মনে মনে।
দোলা লেগেছে, নয়নে মনে দোলা লেগেছে
শয়নে স্বপনে দোলা লেগেছে-বাঁধো বাঁধো ঝুলনা
খোঁপায় পরিয়া দোপাটি মালিকা সাজো সাজো অতুলনা
নির্দয় হৃদয়হীনে বাঁধিব হৃদয় মাঝে।।

জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা

বাণী

জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা।
জাগো স্বাহা সীমন্তে রক্ত-টিকা।।
দিকে দিকে মেলি’ তব লেলিহান রসনা,
নেচে চল উন্মাদিনী দিগ্‌বসনা,
জাগো হতভাগিনী ধর্ষিতা নাগিনী,
বিশ্ব-দাহন তেজে জাগো দাহিকা।।
ধূ ধূ জ্ব’লে ওঠ ধূমায়িত অগ্নি,
জাগো মাতা, কন্যা, বধূ, জায়া, ভগ্নী!
পতিতোদ্ধারিণী স্বর্গ-স্খলিতা
জাহ্নবী সম বেগে জাগো পদ-দলিতা,
মেঘে আনো বালা বজ্রের জ্বালা
চির-বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা।।

আঁখি তোল আঁখি তোল না

বাণী

	আঁখি তোল আঁখি তোল না,
	দানো করুণা, ওগো অরুণা,
	মেলি’ নয়ন জীর্ণ কানন কর তরুণা।।
	আঁখি যে তোমার বনের পাখি —
	ঘুম যে ভাঙায় আঁধারে ডাকি’,
	আলোর-সাগর জাগাও বরুণা।।
তব 	আনত আঁখির পাতার কোলে
	তরুণ আলোর মুকুল দোলে।
	রঙের কুমার দুয়ারে জাগে,
	তোমার আঁখির প্রসাদ মাগে,
	পাণ্ডুর ভোর হোক তরুণারুণা।।