বাণী
ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে শ্রাবণ রজনী আঁধার। বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে মন চাহে প্রেম অভিসার॥ কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়? ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়, কদম-কেয়া-বনে ডাহুকী আনমনে — সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ ত্রিতাল
ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে শ্রাবণ রজনী আঁধার। বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে মন চাহে প্রেম অভিসার॥ কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়? ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়, কদম-কেয়া-বনে ডাহুকী আনমনে — সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥
রাগঃ
তালঃ ত্রিতাল
তুমি বর্ষার ঝরা চম্পা, তুমি যূথিকা-অশ্রুমতী। তুমি কুহেলি-মলিন ঊষা, তুমি বেদনা-সরস্বতী।। কদম-কেশর-কীর্ণা তুমি পুষ্প-বীথিকা শীর্ণা, হ’লে ধরণীতে অবতীর্ণা — ক্ষীণ তারকা স্নিগ্ধ জ্যোতি।। মন্দ-স্রোতা মন্দাকিনী তুমি কি অলকানন্দা, আঁধারের কালো-কুন্তল-ঢাকা তুমি কি ধূসর সন্ধ্যা? পাষাণ-দেবতা-চরণে তুমি মরেছ অমর মরণে, তুমি অঞ্জলি ঝরা কুসুমের, তুমি ব্যর্থ ব্যথা-আরতি।।
রাগঃ সিন্ধু মিশ্র
তালঃ দাদ্রা
কেঁদে কেঁদে নিশি হল ভোর। মিটিল না সাধ উঠিল না চাঁদ ফিরিল কেঁদে চকোর।। শিয়রে দীপ নিভিয়া আসে ভোরের বাতাস কাঁদে হতাশে, মালার ফুল ঝরে নিরাশে — যেন মোর আঁখি লোর।। আমার নয়নে নয়ন রাখি’ চাহে শুকতারা ছলছল আঁখি, পাপিয়ার সনে পিয়া পিয়া ডাকি — এসো এসো চিতচোর।।
রাগঃ ভৈরবী
তালঃ একতাল / আদ্ধা-কাওয়ালী
কিশোর গোপ-বেশ মুরলিধারী শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ। দ্বিভুজ শ্যাম সুন্দর মূরতি অপরূপ অনিন্দ্য।। পরমাত্মারূপী পরম মনোহর গোলকবিহারী চিন্ময় নটবর, ময়ূর পাখাধারী চিকুর চাঁচর মণি-মঞ্জীর শোভিত শ্রীচরণারবিন্দ।। গলে দোলে নব বিকশিত কদম ফুলের মালা খেলে ঘিরে যাঁরে প্রেমময়ী গোপবালা, শোভিত স্বর্ণবর্ণ পীতবাসে ওঙ্কার বিজড়িত শ্রীরাধার পাশে, পদ্মপলাশ আঁখি মৃদু-হাসে — যেরূপ ধেয়ায় মুনি ঋষি দেববৃন্দ।।
রাগঃ
তালঃ
কেঁদো না কেঁদো না মাগো কে বলেছে কালো? ইষৎ হাসিতে তোর ত্রিভুবন আলো, কে বলেছে কালো।। কে দিয়েছে গালি তোরে, মন্দ সে মন্দ! যে বলেছে কালি তোরে, অনধ সে অন্ধ! মোর তারায় সে দেখে নাই তার নয়ন-তারা য়নাই আলো! তাই তারায় সে দেখে নাই।। রাখে লুকিয়ে মা তোর নয়ন-কমল (মাগো) কোটি আলোর সহস্র দল তোর রূপ দেখে মা লজ্জায় শিব অঙ্গে ছাই মাখালো।। তোর নীল -কপোলে কোটি তারা, চন্দনেরি ফোটার পারা ঝিকিমিকি করে গো — মা তোর দেহলতায় অতুল কোটি রবি -শশীর মুকুল ফোটে আবার ঝরে গো — তুমি হোমের শিখা বহ্নি- জ্যোতি, তুমি স্বাহা দীপ্তিমতী আঁধার ভুবন ভবনে মা কল্যাণ-দীপ জ্বালো তুমি কল্যাণ-দীপ জ্বালা।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (দাদ্রা ও কাহার্বা)

খোল খোল খোল গো দুয়ার। নীল ছাপিয়া এল চাঁদের জোয়ার।। সঙ্কেত-বাঁশরি বনে বনে বাজে মনে মনে বাজে। সজিয়াছে ধরণী অভিসার-সাজে। নাগর-দোলায় দুলে সাগর পাথার।। জেগে ওঠে কাননে ডেকে ওঠে পাখি চোখ গেল, চোখ গেল, চোখ গেল! অসহ রূপের দাহে ঝলসি’ গেল আঁখি, চোখ গেল, চোখ গেল, চোখ গেল! ঘুমন্ত যৌবন, তনু মন, জাগো! সুন্দরী, সুন্দর-পরশন মাগো। চল বিরহিণী অভিসারে বঁধুয়ার।।
রাগঃ আড়ানা
তালঃ কাওয়ালি
শিল্পীঃ জয়শ্রী চৌধুরী ত্রিবেদী