নাই চিনিলে আমায় তুমি

বাণী

নাই চিনিলে আমায় তুমি রইব আধেক চেনা।
চাঁদ কি জানে কোথায় ফোটে চাঁদনি রাতে হেনা।।
	আধো আঁধার আধো আলোতে
	একটু চোখের চাওয়া পথে —
জানিতাম তা ভুলবে তুমি, আমার আঁখি ভুলবে না।।
আমার ঈষৎ পরিচয়ের এই সঞ্চার লয়ে
হয় না সাহস কোথায় যাব মনের কথা কয়ে।
	একটু জানার মধু পিয়ে
	বেড়াই কেন গুন্‌গুনিয়ে —
তুমি জান, আমি জানি, আর কেহ জানে না।।

মিনতি রাখো রাখো পথিক থাকো থাকো

বাণী

মিনতি রাখো রাখো পথিক থাকো থাকো,
	এখনি যেয়ো না গো, না না না।
ক্ষণিক অতিথি বিদায়ের গীতি
	এখনি গেয়ো না গো, না না না।।
চৈতী পূর্ণিমা চাঁদের তিথি,
পুষ্প পাগল এ বনবীথি,
ধূলায় ছেয়ো না গো, না না না।।
বলি বলি ক'রে হয়নি যা বলা,
যে কথা ভরিয়াছিল বুকের তলা;
সে কথা না শুনে সুন্দর অতিথি হে
	যেতে চেয়ো না গো, না না না।।

আমার হৃদয়-বৃন্দাবনে নাচেরে

বাণী

মীরা		:	আমার হৃদয়-বৃন্দাবনে নাচেরে গিরিধারী বনমালিয়া।
			সব সংশয়-ভঞ্জন নিতি মম চিত-রঞ্জন নবীন বারিদ গঞ্জন-কালিয়া।।
শ্রীকৃষ্ণ		:	তুমি এমন ক’রে আমায় ধ’রে রাখলে চিরদিন
			আমি এমনি ক’রে যুগে যুগে শুধছি প্রেমের ঋণ,
			তাই নেমে ধরায় নয়ন ধারায় ভাসায়েছি নদীয়া।।
মীরা		:	চির উজ্জ্বল হিয়া তলে
			হে নাথ আসিবে ব’লে
			রেখেছি প্রেমের শিখা জ্বালিয়া।।
শ্রীকৃষ্ণ		:	আমারে কাঁদালে আপনি কাঁদিয়া
মীরা		:	এসো নাথ এসো নাথ
			ধোয়াব রাতুল চরণ যুগল নয়ন সলিল ঢালিয়া।।

নাটিকা : ‘মীরাবাঈ’

মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ

বাণী

মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ এলোমেলো
মাতলা হাওয়া এলো বনে।
ময়ূরী নাচে কালো জামের গাছে
পিয়া পিয়া বন-পাপিয়া
ডাকে গো আপন মনে।।
বেত-বনের আড়ালে ডাহুকী ডাকে,
ডাকে না এমন দিনে কেহ আমাকে,
বেণীর বিনুনী খুলে পড়ে
একলা মন টেকে না ঘরের কোণে।।
জঙ্গল পাহাড় কাঁপে বাজের আওয়াজে,
বুকের মাঝে তবু নূপুর বাজে।।
ঝিঁঝিঁ তার ডাক ভুলে
ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ বৃষ্টির বাজ্‌না শোনে।।

আঁখি তোল আঁখি তোল না

বাণী

	আঁখি তোল আঁখি তোল না,
	দানো করুণা, ওগো অরুণা,
	মেলি’ নয়ন জীর্ণ কানন কর তরুণা।।
	আঁখি যে তোমার বনের পাখি —
	ঘুম যে ভাঙায় আঁধারে ডাকি’,
	আলোর-সাগর জাগাও বরুণা।।
তব 	আনত আঁখির পাতার কোলে
	তরুণ আলোর মুকুল দোলে।
	রঙের কুমার দুয়ারে জাগে,
	তোমার আঁখির প্রসাদ মাগে,
	পাণ্ডুর ভোর হোক তরুণারুণা।।

গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম

বাণী

গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম কৃষ্ণনাম।
মহাকাল যে নামের করে প্রাণায়াম।।
যে নামের গুণে কংস কারার খোলে দ্বার।
বসুদেব যে নামে যমুনা হ’ল পার।
যে নাম মায়ায় হল তীর্থ ব্রজধাম।।
দেবকীর বুকের পাষাণ গলে,
যে নাম দোলে যশোদার কোলে।
যে নাম লয়ে কাঁদে রাই রসময়ী,
কুরুক্ষেত্রে যে নামে হল পান্ডব জয়ী।
গোলকে নারায়ণ, ভূলোকে রাধাশ্যাম।।