ব্রজ-দুলাল ঘন শ‍্যাম

বাণী

ব্রজ-দুলাল ঘন শ‍্যাম
মোর হৃদে কর বিহার হে।।
নব অনুরাগের জ্বালায়ে বাতি
অঙ্গে অঙ্গে রাখি তব শেজ পাতি’
গাঁথি অশ্রু-মোতিহার হে।।
আরতি-প্রদীপ আঁখিতে জ্বালায়ে রাখি
পথ-পানে চাহি বার বার হে।।
নিবেদন করি নাথ তব চরণে
নিত্য পূজা-উপচার হে
বিরহ-গন্ধ ধূপ বেদনা চন্দন
পূজাঞ্জলি আঁখি-ধার হে
দেবতা এসো, খোল দ্বার হে।।

প্রভু তোমাতে যে করে প্রাণ নিবেদন

বাণী

প্রভু	তোমাতে যে করে প্রাণ নিবেদন ভয় নাহি আর তার
	শত সে বিপদে আপদে তাহার হাত ধরে কর পার॥
		তার দুঃখে শোকে ভাবনায় ভয়ে
		তব নাম রাজে সান্ত্বনা হয়ে
	পার হয়ে যায় তব নাম লয়ে দুস্তর পারাবার॥
	ঝড় ঝঞ্ঝায় প্রাণ শিখা তার শান্ত অচঞ্চল
	টলমল করে রূপে রসে তার জীবনের শতদল।
		যেমন পরম র্ভিরতায়
		শিশু তার মার বক্ষে ঘুমায়
	তোমারে যে পায় সে জন তেমনি ডরে নাহি সংসার॥

জয়-জগৎ-জননী ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর

বাণী

জয়-জগৎ-জননী, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বন্দিতা,
		জয় মা-ত্রিলোক তারিণী।
জয় আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী নন্দন-লোক-নন্দিতা
			জয় দুর্গতিহারিণী।।
তোমাতে সর্বজীবের বসতি, সর্বাশ্রয় তুমি মা,
জয় হয় সব বন্ধন পাপ-তাপ তব পদ চুমি’ মা।
তুমি শাশ্বতী, সৃষ্টি-স্থিতি, তুমি মা প্রলয়কারিণী।।
তুমি মা শ্রদ্ধা, প্রেম, ভক্তি তুমি কল্যাণ সিদ্ধি
ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ তুমি তিন-জন ঋদ্ধি,
জয় বরাভয়া ত্রিগুণময়ী দশ-প্রহরণ-ধারিণী।।

নাটক : ‘বিদ্যাপতি’ (স্তব)

এত কথা কি গো কহিতে জানে

বাণী

এত কথা কি গো কহিতে জানে
		চঞ্চল ঐ আঁখি
নীরব ভাষায় কি যে ক'য়ে যায়
	ও সে মনের বনের পাখি।।
বুঝিতে পারি না ঐ আঁখির ভাষা
জলে ডুবে তবু মেটে না পিপাসা,
আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা
	অভিমান মাখামাখি।।
মুদিত কমলে ভ্রমরেরি প্রায়
বন্দী হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়
	সুনীল আকাশে ডাকি'।।

আমি গরবিনী মুসলিম বালা

বাণী

আমি গরবিনী মুসলিম বালা
সংসার সাহারাতে আমি গুলে লালা।।
জ্বালায়েছি বাতি (আমি) আঁধার কাবায়
এনেছি খুশির, ঈদে শিরনির থালা।।
আনিয়াছি ঈমান প্রথম আমি
আমি দিয়াছি সবার আগে মোহাম্মদে মালা।।
কত শত কারবালা বদরের রণে
বিলায়ে দিয়াছি স্বামী-পুত্র স্বজনে;
জানে গ্রহ-তারা জানে আল্লাহ তালা।।

আমার নয়নে কৃষ্ণ-নয়নতারা

বাণী

আমার নয়নে কৃষ্ণ-নয়নতারা হৃদয়ে মোর রাধা-প্যারী।
আমার প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা শ্যাম-সোহাগী গোপ-নারী।।
	আমার স্নেহে জাগে সদা
	পিতা নন্দ মা যশোদা,
ভক্তি আমার শ্রীদাম-সুদাম আঁখি-জল যমুনা-বারি।।
	আমার সুখের কদম-শাখায়
	কিশোর হরি বংশী বাজায়
আমার দুখের তমাল ছায়ায় — লুকিয়ে খেলে বন-বিহারী।।
মুক্ত আমার প্রাণের গোঠে চরায় ধেনু রাখাল-কিশোর,
আমার প্রিয়জনে নেয় সে হরি’, সেই ত ননী খায় ননী-চোর।
রাধা-কৃষ্ণ-কথা শুনায় — দেহ ও মন শুক-শারী।।