তুমি সুখে থাক প্রিয়া

বাণী

তুমি সুখে থাক প্রিয়া আমি আজ চ’লে যাই।
তোমারে চাহিয়া জনমে জনমে এই ব্যথা যেন পাই।।
	দুদিনের সাথী দু’দিনের লাগি’
	এসেছিনু আমি তব অনুরাগী,
হৃদয় বাণীতে চেয়েছিনু শুধু আর কিছু চাহি নাই।।
আকাশে তব দিয়ে গেনু ফুল কণ্ঠে গানের মালা,
হয়তো একদা অন্তরে তব জাগিবে স্মৃতির জ্বালা।
	হয়তো বা তব নয়নের কোণে
	নতুনের ছায়া জাগিবে গোপনে,
স্মৃতিটি আমার মুছে যাবে জানি তবু কিছু ক্ষতি নাই —
			এই ব্যথা যেন পাই।।

বন-বিহারিণী চঞ্চল হরিণী

বাণী

বন-বিহারিণী	চঞ্চল হরিণী
চিনি আঁখিতে,	চিনি কানন
			নটিনী রে।।
ছুটে চলে যেন	বাঁধ ভাঙ্গা
			তটিনী রে।।
নেচে নেচে চলে	ঝর্ণার
			তীরে তীরে
ছায়াবীথি-তলে	কভু ধীরে চলে,
চকিতে পালায়	ছুটি, ছায়া হেরি,
			গিরি-শিরে।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

অন্নপূর্ণা মা এসেছে অন্নহীনের ঘর

বাণী

অন্নপূর্ণা মা এসেছে অন্নহীনের ঘর
উলু দে রে শঙ্খ বাজা প্রদীপ তুলে ধর।।
		তপস্যাহীন পাপীর দেশে
		মা এসেছে ভালোবেসে,
বিনা পূজায় মায়ের রূপে এলো বিধির বর।।

নাটিকাঃ ‘সুরথ উদ্ধার’

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়

বাণী

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ?
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী বলে না তো কিছু চাঁদ।।
	চেয়ে’ চেয়ে’ দেখি ফোটে যবে ফুল
	ফুল বলে না তো সে আমার ভুল
মেঘ হেরি’ ঝুরে’ চাতকিনী, মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।।
জানে সূর্যেরে পাবে না তবু অবুঝ সূর্যমুখী
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখে তার দেবতারে দেখিয়াই সে যে সুখী।
	হেরিতে তোমার রূপ–মনোহর
	পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর।
মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর নয়নের সেই সাধ।।

সাত ভাই চম্পা জাগো রে

বাণী

সাত ভাই চম্পা জাগো রে, ঐ পারুল তোদের ডাকে।
ভাই আর কত ঘুমাবি সবুজ পাতা-ঘেরা শাখে।।
কি যাদু করলি তোদের বিদেশী সৎ-মায়ে,
রাজার দুলাল ঘুমিয়ে আছিস আঁধার কানন-ছায়ে,
নিজেরা না জাগলে কবে মুক্ত করবি মা’কে।।
তোদের বোন এনেছে জিয়ন-কাঠি প্রাণের পরশ-মণি,
মায়া-নিদ্রা ভোলাতে ঐ গায় সে জাগরণী।
গুবরে পোকায় মউ খেয়ে যায় তোদের ঐ মৌচাকে।।
তোদের চাঁপা রঙে চাপা আছে অরুণ-কিরণ-রেখা;
তোরা জাগবি রে যেই, অমনি পাবি দিনমণির দেখা,
বোনের সাথে ভাই জাগিলে ভয় করি আর কা’কে।।

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী

বাণী

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।