অসীম বেদনায় কাঁদে মদিনাবাসী

বাণী

অসীম বেদনায় কাঁদে মদিনাবাসী।
নিভিয়া গেল চাঁদের মুখের হাসি।।
শোকের বাদল আছড়ে প’ড়ে
কাঁদছে মরুর বুকের পরে,
ব্যথার তুফানে আরব গেল ভাসি’।।
গোলাব-বাগে গুল্‌ নাহি আজ
			কাঁদিছে বুল্‌বুলি,
ছাইল আকাশ অন্ধকারে
			মরু সাহারার ধূলি।
তরুলতা বনের পাখি,
‌‘কোথায় হোসেন?’ কইছে ডাকি’,
পড়ছে ঝরে তারার রাশি।।

হে চির সুন্দর বিশ্ব চরাচর

বাণী

হে চির সুন্দর, বিশ্ব চরাচর তোমারি মনোহর রূপের ছায়া।
রবি শশী তারকায় তোমারি জ্যোতি ভায় রূপে রূপে তব অরূপ কায়া।।
	দেহের সুবাস তব কুসুম-গন্ধে,
	তোমার হাসি হেরি শিশুর আনন্দে।
জননীর রূপে তুমি আমাদেরে যাও চুমি’, তব স্নেহ-প্রেমরূপ — কন্যা জায়া।।
হে বিরাট শিশু! এ যে তব খেলনা
নিতি নব, ভাঙা গড়া দুখ শোক বেদনা।
	শ্যামল পল্লবে সাগর-তরঙ্গে
	তব রূপ লাবনি দুলে ওঠে রঙ্গে,
বিহগের কণ্ঠে তব মধু কাকলি, মায়াময়। শতরূপে বিছাও মায়া।।

হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ

বাণী

হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
	আমি গুনাহগার বে-খবর,
	নামাজ পড়ার ন্ই অবসর
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
	যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
	খোদায় ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান যাক দূরে, শুনে তকবীরের আওয়াজ।।

তোমার দেওয়া ব্যথা সে যে

বাণী

তোমার দেওয়া ব্যথা, সে যে তোমার হাতের দান।
তাই তো সে দান মাথায় তুলে নিলাম, হে পাষাণ।।
	তুমি কাঁদাও তাই ত বঁধু
	বিরহ মোর হল মধু,
সে যে আমার গলার মালা তোমার অপমান।।
আমি বেদীমূলে কাঁদি, তুমি পাষাণ অবিচল,
জানি হে নাথ, সে যে তোমার পূজা নেওয়ার ছল।
	তোমার দেবালয়ে মোরে
	রাখলে পূজারিণী ক’রে,
সেই আনন্দে ভুলেছি নাথ সকল অভিমান।।

ওরে আজই না হয় কালই তোরে

বাণী

ওরে		আজই না হয় কালই তোরে কালী কালী বল্‌তে হবে।
তুই 		কাঁদ্‌বি ধ’রে কালীর চরণ মহাকাল আসিবে যবে।।
		তুই জন্মের আগে ছিলি শিখে মা বল্‌তে মা কালীকে,
তুই 		ভুল্‌লি আদি-জননীকে দু’দিন মা পেয়ে ভবে।।
তুই 		কালি দিয়ে লিখ্‌লি হিসাব কেতাব-পুঁথি শিখ্‌লি পড়া,
তোর		মাঠে ফসল ফুল্ ফুটালো কালো মেঘের কালি-ঝরা।
		তোর চোখে জ্বলে কালীর কালো তাই জগতে দেখিস্ আলো,
(কালি)	প্রসাদ গুণে সেই আলো তুই হৃদ্‌পদ্মে দেখ্‌বি কবে।।

ব্রজবাসী মোরা এসেছি মথুরা

বাণী

ব্রজবাসী মোরা এসেছি মথুরা, দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।
মথুরার রাজা হ’য়েছে মোদের কানাই গোঠ বিহারী।।
[মথুরার রাজা হয়েছে হায় তোমাদের রাজা হয়েছে ভাই —
কানাই গোঠ বিহারী, দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।]*
রাজ-দণ্ড কেমন মানায় শোভিত যে হাতে বাঁশি
[শোভিত যে হাতে বাঁশি]*
মুকুট মাথায় কেমন দেখায় শিরে শিখী-পাখা ধারী।।
[সে শিরে শিখী-পাখা ধারী
দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।]*
শ্যামলী ধেনুর দুগ্ধের ক্ষীর এনেছি কানুর লাগিয়া
পাঠায়েছে তারে মথিয়া নবনী, যশোদা-নিশীথ জাগিয়া,
বনমালী লাগি নব-নীপ-মালা আনিয়াছি হের [মোরা] গাঁথিয়া,
কুড়ায়ে এনেছি ফেলে এসেছিল যে বাঁশরি বনচারী।।
ব্রজের দুলাল রাখাল ব’সেছে রাজার আসন ’পরে,
সারা গোকুলের এনেছি আশিস তাই রে তাহার তরে।
পাঠায়েছে গোপী-চন্দন তাই রাই অনুরাগ ভরে
(পাঠায়েছে রাই অনুরাগ ভরা গোপী চন্দন,
পাঠায়েছে রাই [তাই] হরির লাগিয়া হরি চন্দন।)
নয়ন-যমুনা ছানিয়া এনেছি আকুল অশ্রুবারি।।
[দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।।]*

* রেকর্ডে গীত