আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে

বাণী

মজনু		:	আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে, হায়!
			আমার যে প্রাণ-পতঙ্গ ওই প্রদীপ পানেই ধায়॥
লায়লী	:	আমার প্রেম যে অনল শিখা জ্বলে তিমির রাতে
			পতঙ্গরে পোড়াই আমি নিজেও পুড়ি সাথে।
মজনু		:	একি ব্যথা একি নেশা 
			এই কি গো প্রেম গরল-মেশা!
লায়লী	:	তত আলো দান করে সে যত সে জ্বালায়॥

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘লায়লী মজনু’

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ

বাণী

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ আমার সনে
লুকাতে চাও বৃথা হে শ্যাম, ধরা পড় ক্ষণে ক্ষণে।।
গহন মেঘে লুকাতে চাও অম্‌নি রাঙা, চরণ লেগে
যে পথে ধাও সে পথ ওঠে ইন্দ্রধনুর রঙে রেঙে,
চপল হাসি চম্‌কে বেড়ায় বিজলিতে নীল গগনে।।
রবি-শশী-গ্রহ-তারা তোমার কথা দেয় প্রকাশি’
ঐ আলোতে হেরি তোমার তনুর জ্যোতি মুখের হাসি।
হাজার কুসুম ফুটে’ ওঠে লুকাও যখন শ্যামল বনে।
মনের মাঝে যেম্‌নি লুকাও, মন হয়ে যায় অম্‌নি মুনি,
ব্যথায় তোমার পরশ যে পাই, ঝড়ের রাতে বংশী শুনি
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে লুকাও আমার এই নয়নে
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে থাক আমার এই নয়নে।।

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা

বাণী

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা
সেই ফুলেরি খোশবুতে আজ দুনিয়া মাতোয়ালা।।
সে ফুল নিয়ে কাড়াকাড়ি চাঁদ -সুরুজ গ্রহ-তারায়
ঝুঁকে প'ড়ে চুমে সে ফুল নীল গগন নিরালা।।
সেই ফুলেরি রঙ লেগে আজ ত্রিভুবন উজালা।।
চাহে সে ফুল জ্বীন ও ইনসান হুরপরী ফেরেশতায়
ফকির দরবেশবাদশা চাহে করিতে গরার মালা (তারে)
চেনে রসিক ভ্রমর,বুলবুল সেই ফুলের ঠিকানা
কেউ বলে হযরত মোহাম্মদ (বলে) কেউ বা কমলিওয়ালা।।

বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়

বাণী

বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়
কাজল-পরা চোখ নিয়ে আয় আমার আঙিনায় রে।।
(দেখ্‌) নেই বনে কেউ এক্‌লা দুপুর
আয় ঝরা পাতায় বাজিয়ে নুপুর, ঝুমুর ঝুমুর
তোরে ডাকে নোটন পায়রার দল ডাকে মেঘের ঝরোকায় রে।।
কি দেখে তুই ধীরি ধীরি চাস্‌ রে ফিরি ফিরি,
বন্‌-শিকারির তীর নহে ও, ঝরনা ঝিরি ঝিরি।
	মাদল বাজে ঈশান কোণে
	ঝড় উঠেছে আমার মনে
সেই তুফানের তালে তালে নাচ্‌বি চপল পায় রে।।

কে এলে মোর চিরচেনা অতিথি

বাণী

কে এলে মোর চিরচেনা অতিথি দ্বারে মম।
ফুলের বুকে মধুর মত পরাগে সুবাস সম।।
	বর্ষা-শেষে চাঁদের মতন
	উদয় তোমার নীরব গোপন,
জোছনা-ধারায় নিখিল ভুবন ছাইয়া অনুপম।।
	হৃদয় বলে, চিনি চিনি
	আঁখি বলে দেখিনি,
তায়, মন বলে, প্রিয়তম।।

তুমি এলে কে গো চির-সাথী অবেলাতে

বাণী

তুমি	এলে কে গো চির-সাথী অবেলাতে
যবে	ঝুরিছে সন্ধ্যামণি আঙিনাতে।
ওগো	কে এলে গো চির-সাথী অবেলাতে।।
	রোদের দাহে এলে স্নিগ্ধ-বাস ফুল-রেণু
	নিঝুম প্রাণে এলে বাজায়ে ব্যাকুল বেণু
ওগো	চাঁদের তিলক এলে আঁধার রাতে।
ওগো	কে এলে গো চির-সাথী অবেলাতে।।
	ফুল ঝরার বেলা এলে মোর শেষ অতিথি
	কাঁদে হা হা স্বরে রিক্ত কানন-বীথি।
	এলে রে মরুভূমে পিয়াসি চকোর মোর
	শুক্লাতিথির শেষে কাঁদিতে এলে চকোর।
(তুমি)	আসিলে জীবন-সাঁঝে ঘুম ভাঙাতে।
ওগো	কে এলে গো চির সাথী অবেলাতে।।