চীন আরব হিন্দুস্থান নিখিল ধরাধাম

বাণী

চীন আরব হিন্দুস্থান নিখিল ধরাধাম।
জানে আমায় চেনে আমায় মুসলিম আমার নাম।।
অন্ধকারে আজান দিয়ে ভাঙনু ঘুমঘোর,
আলোর অভিযান এনেছি রাত করেছি ভোর;
এক সমান করেছি ভেঙে উচ্চ নীচ তামাম।।
চেনে মোরে সাহারা গোবি দুর্গম পর্বত,
মন্থন করেছে সাগর, আমার সিন্ধু রথ;
বয়েছি আফ্রিকা ইউরোপ আমারই তাঞ্জাম।।
পাক মুলুকে বসিয়েছি খোদার মসজিদ,
জগৎ সাক্ষী পাপীদেরকে পিইয়েছি তৌহীদ্‌;
বিরান বনে রচেছি রে হাজার নগর গ্রাম।।

চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে

বাণী

চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে।
নয়ন-পলকে বিজলি ঝলকে চাঁচর অলক ওড়ে পবনে।।
		রিম্‌ঝিম্‌ বৃষ্টির নূপুর বোলে
		মৃদঙ্গ বাজে গুরু গম্ভীর রোলে;
হেরি’ সেই নৃত্য ধরার চিত্ত ডুবু ডুবু বরিষার প্রেম-প্লাবনে।।
		উদাসী বেণু তার অশান্ত বায়ে
		বাজে রহি’ রহি’ দূর বনছায়ে;
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে ভাবের বন্যা বহে বৃন্দাবনে।।

কেন চঞ্চল অঞ্চল দুলিয়া ওঠে

বাণী

কেন চঞ্চল অঞ্চল দুলিয়া ওঠে রহি’ রহি’।
মুহু মুহু কুহু কুহু কুহু যে কহে এলে কে বিরহী।।
কেন নূপুর বেজে ওঠে ছন্দে
দোলা লাগে অঙ্গে আনন্দে,
দখিন হাওয়া কেন অধীর হল হেন —
কুসুমের কানে যায় কি কথা কহি’।।

কেন আমায় আন্‌লি মাগো

বাণী

	কেন আমায় আন্‌লি মাগো মহাবাণীর সিন্ধু কূলে।
মোর	ক্ষুদ্র ঘটে এ সিন্ধু-জল কেমন ক’রে নেবো তুলে।।
	চতুর্বেদে এই সিন্ধুর জল
	ক্ষুদ্র চারিবিন্দু হয়ে করছে টলমল,
	এই বাণীরই বিন্দু যে মা গ্রহ তারা গগন মূলে।
	ইহারই বেগ ধরতে শিরে, শিবের জটা পড়ে খুলে।।
	অনন্তকাল রবি-শশী এই সে-মহাসাগর হ’তে,
	সোনার ঘটে রসের ধারা নিয়ে ছড়ায় ত্রিজগতে।
	বাঁশিতে মোর স্বল্প এ আধারে
	অনন্ত সে-বাণীর ধারা ধরতে কি মা পারে?
	শুনেছি মা হয় সীমাহীন ক্ষুদ্রও তোর চরণ ছুঁলে।।

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে

বাণী

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে।
প্রদীপ-শিখা সম কাঁপিছে প্রাণ মম
তোমায়, হে সুন্দর, বন্দিতে!
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
তোমার দেবালয়ে কি সুখে কি জানি
দু’লে দু’লে ওঠে আমার দেহখানি
আরতি –নৃত্যের ভঙ্গীতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
পুলকে বিকশিল প্রেমের শতদল
গন্ধে রূপে রসে টলিছে টলমল।
তোমার মুখে চাহি আমার বাণী যত
লুটাইয়া পড়ে ঝরা ফুলের মত
তোমার পদতল রঞ্জিতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।

লাল নটের ক্ষেতে লাল টুকটুকে বৌ যায়

বাণী

	লাল নটের ক্ষেতে, লাল টুকটুকে বৌ যায় গো।
তার	আলতা পায়ের চিহ্ন এঁকে নালতা শাকের গায় গো।।
	লাল নটের ক্ষেতে মৌমাছি ওঠে মেতে
	তার রূপের আঁচে পায়ের তলার মাটি ওঠে তেতে।
	লাল পুঁইয়ের লতা নুয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে পায় গো।।
	কাঁকাল বাঁকা রাখাল ছোঁড়া আগলে দাঁড়ায় আ’ল —
	রাঙা বৌ-এর চোখে লাগে লাল লঙ্কার ঝাল।
	বৌ-এর ঘেমে ওঠে গা, লাজে সরে না পা
	সে মুখ ফিরিয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায় গো।।