আমি গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা

বাণী

আমি	গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা
	কনক গাঁদার ফুল গো।
	গোধূলির শেষে হেসে উঠি আমি
	এক নিমেষের ভুল গো।
আমি	কণিকা,
আমি	সাঁঝের অধরে ম্লান আনন্দ-কণিকা
আমি	অভিমানিনীর খুলে ফেলে দেওয়া মণিকা
আমি	দেব-কুমারীর দুল গো।।
	আলতা রাখার পাত্র আমার আধখানা চাঁদ ভাঙা
	তাহারি রং গড়িয়ে পরে (ঐ) অস্ত-আকাশ রাঙা।
আমি	একমুঠো আলো কৃষ্ণা-সাঁঝের হাতে
আমি	নিবেদিত ফুল আকাশ-নদীতে রাতে
	ভাসিয়া বেড়াই যাঁর উদ্দেশে গো
	তার পাই না চরণ-মূল।।

আজি প্রথম মাধবী ফুটিল কুঞ্জে

বাণী

আজি প্রথম মাধবী ফুটিল কুঞ্জে মাধব এলো না সই।
এই যৌবন-বরমালা কারে দিব মোর বনমালী বই।।
	সারা নিশি জেগে বৃথাই নিরালা
	গাঁথিলাম নব মালতীর মালা,
অনাদরে হায় সে মালা শুকায় দেখিয়া কেমনে রই।।
	মম অনুরাগ-চন্দন ঘ’ষে,
	লাজ ভু’লে সাঁঝ হ’তে আছি ব’সে,
শুকাইয়া যায় চন্দন হায় রাধিকারমণ কই।।
	চলিলাম আমি যথা মন চায়,
	প্রভাতে আসিলে মোর শ্যামরায়
বলিস্ আঁধারে হারাইয়া হায় গেছে রাধা রসময়ী।।

হে মোহাম্মদ এসো এসো

বাণী

হে মোহাম্মদ এসো এসো আমার প্রাণে আমার মনে।
এসো সুখে এসো দুখে আমার বুকে মোর নয়নে।।
আমার দিনের সকল কাজে
যেন তোমার স্মৃতি বাজে,
এসো আমার ঘুমের মাঝে —
	এসো আমার জাগরণে।।
কোরান দিলে, দিলে ঈমান, বেহেশ্‌তের দিশা দিলে,
পাপে তাপে মগ্ন আমায় খোদার রাহে ডেকে নিলে।
	তোমায় আমি ভুলব কিসে
	আছ আমার রুহে মিশে,
আমি তোমার প্রেমের পাগল রেখো আমায় ঐ চরণে।।

যে নামে মা ডেকেছিল সুরথ

বাণী

যে নামে মা ডেকেছিল সুরথ আর শ্রীমন্ত তোরে।
সেই নাম তুই শিখিয়ে দে মা, ডাকব আমি তেমনি ক’রে।।
	বেদ-পুরাণে যে নাম শুনি
	যে নাম জপে ঋষি-মুনি
সেই নাম দে, যে নাম নিতে বক্ষ ভাসে অশ্রু-নীরে।।
ভয় যদি তোর ভক্তি দিতে, কর মা অসুর দানব মোরে
আসবি যখন শাস্তি দিতে, দেখব তোরে নয়ন ভরে।।
	তোর হাতে মা মরণ হলে
	ঠাঁই পাব যে তোরই কোলে
আঘাত করে ছেলেকে মা কাঁদে যেমন বক্ষে ধরে।।

আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী

বাণী

আমার	কোন্‌ কূলে আজ ভিড়লো তরী
			এ কোন সোনার গাঁয়
আমার	ভাটির তরী আবার কেন
			উজান যেতে চায়
		তরী	উজান যেতে চায়
	কোন কূলে মোর ভিড়লো তরী
	এ কোন্‌ সোনার গাঁয়।।
আমার	দুঃখেরে কান্ডারী করি’
আমি	ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরী
তুমি	ডাক দিলে কে স্বপন–পরী
			নয়ন ইশারায়।।
	নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
	ডেকেছিলে ঝড়ের রাতি
তুমি	কে এলে মোর সুরের সাথী গানের কিনারায়।
তুমি 	কে এলে? ওগো কে এলে মোর সুরের সাথী
			গানের কিনারায়?
	সোনার দেশের সোনার মেয়ে,
ওগো তুমি	হবে কি মোর তরীর নেয়ে,
	ভাঙ্গা তরী চলো বেয়ে রাঙা অলকায়।।

১. ‘অন্তরা’ অংশ গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।

ঝলমল জরীণ বেণী দুলায়ে

বাণী

ঝলমল জরীণ বেণী দুলায়ে প্রিয়া কি এলে 
সজল শাওন-মেঘে কাজল নয়ন মেলে।।
কেয়া ফুলের পরিমল, ঝুরে মরে তব পথে,
হেরি দীঘল তব তনু তাল পিয়াল তরু পড়ে হেলে’।।
পরিবে বলিয়া খোঁপায় ঝরিছে বকুল চাঁপা
তোমায় খুঁজিছে আকাশ তারার প্রদীপ জ্বেলে।।
তোমারি লাবনি প্রিয়া ঝরিছে শ্যামল মেঘে,
ফুটালে ফুল মরুভূমে চঞ্চল চরণ ফেলে।।