কে ডাকিলে আমারে আঁখি তুলে

বাণী

কে	ডাকিলে আমারে আঁখি তুলে'।
	এই প্রভাতে তটিনী-কূলে কূলে।।
ঐ	ঘুমায়ে সকলি, জাগেনি কেউ 
	জল নিতে এখনো আসেনি বউ, 
	শুধু তব নদীতে জেগেছে ঢেউ — 
	মেলেছ নয়ন কানন-ফুলে।।
	যে সুবাস ঝরে ও-এলোকেশে 
	কমলে তা' দিলে নাহিতে এসে', 
	তব তনু-মন দীঘিতে ভেসে' —
	মাতাইছে, মধুপ পথ ভুলে।
ও	শিশির-কপোল-স্বেদ বারি 
	পড়িল ঝরি' নয়নে আমারি, 
	জাগিয়া হেরি রূপ-মনোহারী —
	দাঁড়ায়ে উষসী তোরণ-মূলে।।

ও মন চল অকুল পানে

বাণী

	ও মন চল অকুল পানে, মাতি হরিপ্রেম-গুণগানে।
	নদী যেমন ধায় অকূলে কূল যত তায় টানে।।
তুই	কোন্ পাহাড়ে ঠেক্‌লি এসে কোন্‌ পাথারের জল
	হরির প্রেমে গ’লে এবার সেই অসীমে চল্,
তুই	স্রোতের বেগে দুল্‌বি রে কূল-বাধা যদি হানে।।
	এ পারের সব যাত্রী যাবে তোর বুকে ওপারে
	তোর কূলে শ্যাম বাজিয়ে বাঁশি আস্‌বে অভিসারে,
	শ্যামের ছবি ধর্‌বি বুকে মাত্‌বি প্রেম-তুফানে।।

আজি ঘুম নহে নিশি জাগরণ

বাণী

আজি	ঘুম নহে, নিশি জাগরণ।
	চাঁদেরে ঘিরি’ নাচে ধীরি ধীরি তারা অগণন।।
	প্রখর-দাহন দিবস-আলো,
	নলিনী-দলে ঘুম তখনি ভালো।
	চাঁদ চন্দন চোখে বুলালো
		খোলো গো নিঁদ-মহল-আবরণ।।
	ঘুরে ঘুরে গ্রহ, তারা, বিশ্ব, আনন্দে
	নাচিছে নাচুনি ঘূর্ণির ছন্দে।
	লুকোচুরি-নাচ মেঘ তারা মাঝে
	নাচিছে ধরণী আলোছায়া-সাজে,
	ঝিল্লির ঘুমুর ঝুমুঝুমু বাজে
		খুলি’ খুলি’ পড়ে ফুল-আভরণ।।

জাগে না সে জোশ ল'য়ে আর মুসলমান

বাণী

জাগে না সে জোশ ল'য়ে আর মুসলমান। 
হায় করিল জয় যে তেজ ল'য়ে দুনিয়া জাহান।। 
যাহার তক্‌বির-ধ্বনি, তক্‌দির বদলালো দুনিয়ার
না-ফরমানের জামানায় আনিল ফরমান খোদার,
হায় পড়িয়া বিরান আজি সে গুল্‌-গুলিস্তান।।
নাহি সাচ্চাই সিদ্দিকের, উমরের নাহি সে ত্যাগ আর
নাহি আর বেলালের ঈমান, নাহি আলীর জুল্‌ফিকার,
হায় নাহি আর সে জেহাদ-লাগি' বীর শহীদান।।
নাহি আর বাজুতে কুওত, নাহি খালেদ, মুসা, তারেক
নাহি বাদ্‌শাহি তখ্‌তে তাউস, ফকির আজ দুনিয়ার মালেক
হায় ইসলাম কিতাবে শুধু মুসলিম গোরস্তান।।

হায় পলাশী

বাণী

হায় পলাশী!
এঁকে দিলি তুই জননীর বুকে কলঙ্ক-কালিমা রাশি,
পলাশী, হায় পলাশী।।
আত্মঘাতী স্বজাতি মাখিয়া রুধির কুম্‌কুম্‌,
তোরই প্রান্তরে ফুটে ঝরে গেল পলাশ কুসুম।
তোরই গঙ্গার তীরে পলাশ-সঙ্কাশ সূর্য ওঠে যেন দিগন্ত উদ্ভাসি’।।

রুম ঝুম রুম ঝুম কে বাজায়

বাণী

রুম্ ঝুম্ রুম ঝুম্ কে বাজায় জল-ঝুম্‌ঝুমি।
চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি ॥
		দুরন্ত অরণ্যা গিরি- নির্ঝরিণী
		রঙ্গে সঙ্গে ল’য়ে বনের হরিণী,
শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙায় ভীরু মুকুলের কপোল চুমি’ ॥
কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ি কুহু পিয়াল-ডালে,
পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি সমীরণ তা’রি তালে তালে।
		সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
		সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশি রাখালিয়া’,
পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি’ বলে —  ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’ ॥

১. ‘বউ কথা কও কোকিল পাপিয়া’ পঙক্তিটি অতিরিক্ত আছে।