জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী

বাণী

জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপে জাগো,
তব কনিষ্ঠা কন্যা ধরণী কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
	বরষ বরষ কৃথা কেঁদে যাই
	কৃথাই মা তোর আগমনী গাই
সেই কবে মা আসিলি ত্রেতায় আর আসিলি না গো।।
কোটী নয়নের নীল পদ্ম মা ছিঁড়িয়া দিলাম চরণে তোর,
জাগিলিনে তুই, এলিনে ধরায় মা কবে হয় হেন কঠোর।
	দশ ভুজে দশ গ্রহরণ ধরি’
	আয় মা দশ দিক আলো করি’
দশ হাতে আন্‌ কল্যাণ ভরি’ নিশীথ-শেষে ঊষা গো।।

কেন কাঁদে পরান কি বেদনায় কারে কহি

বাণী

কেন কাঁদে পরান কি বেদনায় কারে কহি।
সদা কাঁপে ভীরু হিয়া রহি’ রহি’।।
সে থাকে নীল নভে আমি নয়ন-জল-সায়রে
সাতাশ তারার সতীন-সাথে সে যে ঘুরে মরে
কেমনে ধরি সে চাঁদে রাহু নহি।।
কাজল করি’ যারে রাখি গো আঁখি-পাতে
স্বপনে যায় সে ধুয়ে গোপনে অশ্রু-সাথে।
বুকে তায় মালা করি’ রাখিলে যায় সে চুরি
বাঁধিলে বলয়-সাথে মলয়ায় যায় সে উড়ি’
কি দিয়ে সে উদাসীর মন মোহি’।।

চল্ রে চপল তরুণ-দল বাঁধন হারা

বাণী

চল্‌ রে চপল তরুণ-দল বাঁধন হারা
চল্‌ অমর সমরে, চল ভাঙি’ কারা
জাগায়ে কাননে নব পথের ইশারা।।
প্রাণ-স্রোতের ত্রিধারা বহায়ে তোরা ওরে চল!
জোয়ার আনি, মরা নদীতে পাহাড় টলায়ে মাতোয়ারা।।
ডাকে তোরে স্নেহভরে ‘ওরে ফিরে আয় ফিরে ঘরে’
তারে ভোল্‌ ওরে ভোল্‌ তোরা যে ঘর-ছাড়া।।
তাজা প্রাণের মঞ্জুরি ফুটায়ে পথে তোরা চল্‌,
রহে কে ভুলে ছেঁড়া পুঁথিতে তাদের পরানে দে রে সাড়া।
রণ-মাদল আকাশে ঘন বাজে গুরু গুরু।
আঁধার ঘরে কে আছে প’ড়ে তাহার দুয়ারে দে রে নাড়া।।

বরষ গেল আশ্বিন এলো উমা এলো কই

বাণী

বরষ গেল, আশ্বিন এলো, উমা এলো কই
শূন্য ঘরে কেমন করে পরান বেঁধে রই।।
‌	ও গিরিরাজ! সবার মেয়ে
	মায়ের কোলে এলো ধেয়ে,
আমারই ঘর রইল আঁধার, আমি কি মা নই?
নাই শাশুড়ি ননদ উমার, আদর করার নাই (কেহ)
মা অনাদরে কালী সেজে বেড়ায় নাকি তাই।
	মোর গৌরী বড় অভিমানী,
	সে বুঝবে না মার প্রাণ-পোড়ানী;
আনতে তারে সাধতে হবে তার যে স্বভাব ঐ।।

অন্নপূর্ণা মা এসেছে অন্নহীনের ঘর

বাণী

অন্নপূর্ণা মা এসেছে অন্নহীনের ঘর
উলু দে রে শঙ্খ বাজা প্রদীপ তুলে ধর।।
		তপস্যাহীন পাপীর দেশে
		মা এসেছে ভালোবেসে,
বিনা পূজায় মায়ের রূপে এলো বিধির বর।।

নাটিকাঃ ‘সুরথ উদ্ধার’

আমি রব না ঘরে

বাণী

আমি রব না ঘরে।
ওমা ডেকেছে আমারে হরি বাঁশির স্বরে।।
	আমি আকাশে শুনি আমি বাতাসে শুনি
	ওমা নিশিদিন বাঁশরি বাজায় সে গুণী,
ওমা তাহারি সুরের সুরধুনী বহে অন্তরে বাহিরে ভুবন ভ’রে।।
যবে জাগিয়া থাকি,
হেরি’ শ্রীহরির পদ্ম-পলাশ আঁখি।
যদি ভুলিয়া কভু আমি ঘুমাই মাগো
সে-ঘুম ভেঙে দেয় বলে, জাগো জাগো,
সে শয়নে স্বপনে মোর সাধনা গো —
আমি নিবেদিতা মাগো তাহারি তরে।।