আসিছেন হাবিব-এ খোদা

বাণী

আসিছেন হাবিব-এ খোদা আরশ্‌পাকে তাই উঠেছে শোর,
চাঁদ পিয়াসে ছুটে আসে আকাশ পানে যেমন চকোর।
কোকিল যেমন গেয়ে ওঠে ফাগুন আসার আভাস পেয়ে,
তেমনি ক’রে হরষিত ফেরেশ্‌তা সব উঠলো গেয়ে:
দেখ আজ আরশে আসেন মোদের নবী কম্‌লিওয়ালা।
হের সেই খুশিতে চাঁদ-সুরুজ আজ হ’ল দ্বিগুণ আলা।।
ফকির দরবেশ্‌আউলিয়া যাঁরে, ধ্যানে জ্ঞানে ধ’রতে নারে,
যাঁর মহিমা বুঝিতে পারে এক সে আল্লাহ তালা।।
বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম, চিরতরে হয় দোজখ্‌হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাঁহার কওসরের পিয়ালা।।
‘মিম্‌’ হরফ না থাকলে সে আহাদ, নামে মাখা তার শিরিন শাহাদ্,
নিখিল প্রেমাষ্পদ আমার মোহাম্মদ ত্রিভুবন উজালা।।

পাষাণ-গিরির বাঁধন টুটে

বাণী

পাষাণ-গিরির বাঁধন টুটে নির্ঝরিণী আয় নেমে আয়।
ডাকছে উদার নীল-পারাবার আয় তটিনী আয় নেমে আয়।।
	বেলাভূমে আছড়ে প’ড়ে
	কাঁদছে সাগর তোরই তরে,
তরঙ্গেরি নূপুর প’রে জল-নটিনী আয় নেমে আয়।।
দুই ধারে তোর জল ছিটিয়ে, ফুল ফুটিয়ে আয় নেমে আয়,
শ্যামল-তৃণে চঞ্চল-অঞ্চল লুটিয়ে আয় নেমে আয়।।
	ডাগর তোর চোখের চাওয়ায়
	সাগর-জলে জোয়ার জাগায়,
সেই নয়নের স্বপন দিয়ে বন-হরিণী আয় নেমে আয়।।

১. সজল যে

মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে

বাণী

মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে (রে)
সেই দেশে মেঘ জল ঢালিও তাহার আকুল কেশে।।
	তাহার কালো চোখের কাজল
	শাওন মেঘের চেয়ে শ্যামল
চাউনিতে তার বিজলি ছড়ায় চমক বেড়ায় ভেসে (রে)।।
সে ব’সে থাকে পা ডুবিয়ে ঘুমতী নদীর জলে
কভু দাঁড়িয়ে থাকে ছবির মত একলা তরু-তলে (রে)।
	কদম ফুলের মালা গেঁথে
	ছড়িয়ে সে দেয় ধানের ক্ষেতে
তারে দেখতে পেলে আমার কথা (তারে) কইও ভালোবেসে।।

আঁধার ভীত এ চিত যাচে মা গো

বাণী

আঁধার ভীত এ চিত যাচে মা গো আলো আলো।
বিশ্ববিধাত্রী আলোকদাত্রী নিরাশ পরানে আশার সবিতা জ্বালো
				জ্বালো, আলো, আলো।।
	হারায়েছি পথ গভীর তিমিরে
	লহ হাতে ধ’রে প্রভাতের তীরে
পাপ তাপ মুছি’ কর মা গো শুচি, আশিস-অমৃত ঢালো।।
দশ প্রহরণধারিণী দুর্গতিহারিণী দুর্গে মা অগতির গতি
সিদ্ধি-বিধায়িনী দনুজ-দলনী বাহুতে দাও মা শকতি।
	তন্দ্রা ভুলিয়া যেন মোরা জাগি —
	এবার প্রবল মৃত্যুর লাগি’,
রুদ্র-দাহনে ক্ষুদ্রতা দহ’ বিনাশ গ্লানির কালো।।
১. প্রভু, ২. নাথ, ৩, পান্ডুলিপিতে এখানে দুটি পঙ্ক্তি বেশি আাছে
		অচেতন প্রাণে জাগরণ তৃষ্ণা আনো আনো
		জড়তার বুকে জীবন-পিপাসা দানো দানো।

রঘুকুলপতি রামচন্দ্র আওধকে অধিকারী

বাণী

রঘুকুলপতি রামচন্দ্র আওধকে অধিকারী।
সুর-নর-জন পূজে চরণ, মুনি-জন ভয়হারী।।
	ঝলকে অরুণ বদন-কমল,
	নীল-পদ্ম নয়ন যুগল
দশরথ-সুত সীতাপতি তপবন বনচারী।।
সত্য ধর্ম পালক-প্রভু, রাজমুকট-ত্যাগী
রত্নাকর শাসক অরু, অনুজকে অনুরাগী।
	শিলা সতী অহল্যা ত্রাতা,
	জগৎ-পূজ্য, জগৎ-পাতা।
লঙ্কা-পতি মোক্ষদাতা অসুর-নিধনকারী।।

হে নিঠুর তোমাতে নাই আশার আলো

বাণী

হে নিঠুর ! তোমাতে নাই আশার আলো।
তাই কি তোমার রূপ কৃষ্ণ কালো।।
তুমি ত্রিভঙ্গ তাই তব সকলি বাঁকা
চোখে তব কাজলের ছলনা মাখা।
নিষাদের হাতে বাঁশি সেজেছে ভালো।।

নাটকঃ ‘বিদ্যাপতি’