খর রৌদ্রের হোমানল জ্বালি’

বাণী

খর রৌদ্রের হোমানল জ্বালি’ তপ্ত গগনে জাগি।
রুদ্র তাপস সন্ন্যাসী বৈরাগী।।
	সহসা কখন বৈকালি ঝড়ে
	পিঙ্গল মম জটা খু’লে পড়ে,
যোগী শঙ্কর প্রলয়ঙ্কর জাগে চিত্তে ধেয়ান ভাঙি’।।
	শুষ্ক কণ্ঠে শ্রান্ত ফটিক জল
	ক্লান্ত কপোত কাঁদায় কানন-তল,
চরণে লুটায় তৃষিতা ধরণী আমার শরণ মাগি’।।

১. মম চিত্তে মাতে নৃত্যে যোগী শঙ্কর ধ্যান ভাঙি।

তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা

বাণী

তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা
মম গৃহ অঙ্গনে এসো সঙ্গী হয়ে আনো আনন্দ বারতা॥
		পূজা সম্ভারে প্রসন্ন দৃষ্টি হানো
		শুভ শঙ্খ বাজাও দশদিক জাগানো
হে মঙ্গলময়! আসি’ অভয় দানো আনো প্রভাত আকাশ সম নির্মলতা॥
		লহ বিহগের গীতি অভিনন্দন
		চাঁদের থালিকা হতে গোপীচন্দন
আনন্দ অমরার নন্দন হে প্রণত কর চরণে কহ কথা কহ কথা॥

আমার হাতে কালি মুখে কালি

বাণী

আমার হাতে কালি মুখে কালি, মা 
আমার কালিমাখা মুখ দেখে মা 
পাড়ার লোকে হাসে খালি।। 
মোর লেখাপড়া হ’ল না মা, 
আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা, 
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে 
নাচি দিয়ে করতালি।। 
কালো আঁক দেখে মা ধারাপাতের 
ধারা নামে আঁখি পাতে, 
আমার বর্ণ পরিচয় হ’লো না মা 
তোর বর্ণ বিনা কালী। 
যা লিখিস মা বনের পাতায় 
সাগর জলে আকাশ খাতায়, 
আমি সে লেখা তো পড়তে পারি 
মূর্খ বলে দিক্‌ না গালি মা, 
লোকে মূর্খ ব’লে দিক্‌ না গালি।। 

উতল হ'ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে

বাণী

উতল হ'ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে
বাদল ধারা ঝরে বুঝি তাই আজ নিশীথে।।
সুর যে তোমার নেশার মত, মনকে দোলায় অবিরত,
ফুলকে শেখায় ফুটতে গো, পাখিকে শিস দিতে।।
কেন তুমি গানের ছলে বঁধু, বেড়াও কেঁদে?
তীরের চেয়েও সুর যে তোমার প্রাণে অধিক বেঁধে।
তোমার সুরে কোন সে ব্যথা, দিলো এতো বিহ্বলতা
আমি জানি (ওগো) সে বারতা তাই কাদিঁ নিভৃতে।।

ভূমিকম্পের প্রলয়-লীলায় সব হ’ল ছারখার

বাণী

ভূমিকম্পের প্রলয়-লীলায় সব হ’ল ছারখার;
ভিক্ষার ঝুলি ছাড়া আজ ভাই সম্বল নাহি আর।
ভিক্ষা দাও গো ভিক্ষা দাও, কাঁদন কি ঐ শুনিতে পাও —
বিত্তবিহীন চিত্ত ভরিয়া সকরুণ হাহাকার।।
	সারা জীবনের শ্রম-সঞ্চিত
	সম্পদ হ’তে হ’য়ে বঞ্চিত
রিক্ত হস্ত জনগণ হের ফিরিতেছে দ্বার দ্বার।
তোমার ক্ষুধার অন্নে আছে এ ক্ষুধিতের অধিকার।।
	আর্ত বিহারী তরে এ ভিক্ষা
	নহে হে বন্ধু, করে প্রতীক্ষা,
দ্বারে তব দীন পীড়িত মানুষ প্রার্থনা সবাকার।
এই পীড়িতেরে ফিরাতে কে পারে, রুধিবে কে আজি দ্বার।।
	আজ যাহা দিবে সম্বলহীনে
	ফিরায়ে তা পাবে তব দুর্দিনে,
ঐশ্বর্যের পরিণতি হের সমুখে তব বিহার।
ভিক্ষার ঝুলি ভরিয়া হে দাতা বর লহ বিধাতার।।

তোমার হাতের সোনার রাখি

বাণী

তোমার হাতের সোনার রাখি আমার হাতে পরালে।
আমার বিফল বনের কুসুম তোমার পায়ে ঝরালে।।
		খুঁজেছি তোমায় তারার চোখে
		কত সে-গ্রহে কত সে-লোকে,
আজ কি তৃষিত মরুর আকাশ বাদল-মেঘে ভরালে।।
দূর অভিমানের স্মৃতি কাঁদায় কেন আজি গো!
মিলন-বাঁশি সহসা ওঠে ভৈরবীতে বাজি’ গো!
		হেনেছ হেলা, দিয়েছ ব্যথা
		মনে পড়ে আজ কেন সে-কথা,
মরণ-বেলায় কেন এ গলায় মালার মতন জড়ালে।।