আমি মূলতানী গাই

বাণী

	আমি মূলতানী গাই
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
	ঘন ঘন তোলে হাই।।
জাপটে সুরের দাড়ি
শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
	জাপটে সুরের দাড়ি
পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
হায় হায় রে হায়-
বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
	মোড়-মোড়-মোড়
আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।

বসন্ত আজ আসল ধরায়

বাণী

বসন্ত আজ আসল ধরায় ফুল ফুটেছে বনে বনে।
শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন-বনে।।
ফুলগুলি হায় ঝরেছিল হিমেল হাওয়ার পরশনে,
দখিন হাওয়ার হিল্লোলে আজ প্রিয়তমের স্পর্শ নে’।
	উদাসী এই মাতাল বাতাস
	জাগায় ধরায়, মাতায় আকাশ,
হাসিতে তার কিসের আভাস মন জানে, মনে মনে।।

ও কূল-ভাঙ্গা নদী রে

বাণী

	ও, কূল-ভাঙ্গা নদী রে,
	আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
	যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
	মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
	আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
	উজান বেয়ে ফিরে' নদী, উজান বেয়ে ফিরে'।।
		আমার মন বোঝে না, নদী —
তাই	বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
	তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
		তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।

পথহারা পাখি কেঁদে ফিরে একা

বাণী

পথহারা পাখি কেঁদে ফিরে একা
আমার জীবনে শুধু আঁধারের লেখা।।
বাহিরে অন্তরে ঝড় উঠিয়াছে
আশ্রয় যাচি হায় কাহার কাছে
	বুঝি দুখ-নিশি মোর
	হবে না হবে না ভোর
ফুটিবে না আশার আলোক রেখা।।

নাটকঃ ‘সিরাজদ্দৌলা’

এই দেহেরই রঙমহলায় খেলিছেন

বাণী

এই দেহেরই রঙমহলায় খেলিছেন লীলা-বিহারী।
মিথ্যা মায়া নয় এ কায়া কায়ায় হেরি ছায়া তাঁরি।।
	রূপের রসিক রূপে রূপে
	খেলে বেড়ায় চুপে চুপে,
মনের বনে বাজায় বাঁশি মন-উদাসী বন-চারী।।
	তার খেলা-ঘর তোর এ দেহ
	সে ত নহে অন্য কেহ
সে যে রে তুই, — তবু মোহ ঘুচল না তোর হায় পূজারি।।
	খুঁজিস্ তারে ঠাকুর-পূজায়
	উপাসনায় নামাজ রোজায়,
চাল কলা আর সিন্নি দিয়ে ধর্‌বি তারে হায় শিকারি!
পালিয়ে বেড়ায় মন-আঙিনায় সে যে শিশু প্রেম-ভিখারি।।

হে পার্থসারথি বাজাও বাজাও

বাণী

হে পার্থসারথি! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ
চিত্তের অবসাদ দূর কর কর দূর
	ভয়–ভীত জনে কর হে নিঃশঙ্ক।।
ধনুকে টঙ্কার হানো হানো,
গীতার মন্ত্রে জীবন দানো;
	ভোলাও ভোলাও মৃত্যু–আতঙ্ক।।
মৃত্যু জীবনের শেষ নহে নহে —
শোনাও শোনাও — অনন্ত কাল ধরি’
অনন্ত জীবন প্রবাহ বহে।
দুর্মদ দুরন্ত যৌবন–চঞ্চল
ছাড়িয়া আসুক মা’র স্নেহ–অঞ্চল;
বীর সন্তানদল করুক সুশোভিত মাতৃ–অঙ্ক।।