মট্‌কু মাইতি বাঁটকুল রায়

বাণী

মট্‌কু মাইতি বাঁটকুল রায়
ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যায়
বেঁটে খাটো নিটপিটে পায়
তারা ছেৎ’রে চলে, কেৎ’রে চায়।।
পায়ে পরে গাবদা বুট আর পট্টি
আর গড়াইয়া চলে যেন গাঁঠরি ও মোটটি,
ওগো হুনুলুলু সুরে গায় গান উদভট্টি
হাঁটি হাঁটি পা পা ডাইনে বাঁয়।।
রাস্তায় তেড়ে এলো এঁড়ে এক দামড়া
ঢুস খেয়ে বাটকুর ছড়ে গেল চামড়া।
ভয়ে মট্‌কুর চোখ হয়ে গেল আমড়া
সে উলটিয়ে সাতপাক ডিগবাজি খায় হায়, হায়।।

আমি কেমন ক’রে কোথায় পাব

বাণী

আমি	কেমন ক’রে কোথায় পাব কৃষ্ণ চাঁদের দেখা।
	অন্ধকারে খুঁজি তাঁহার ব্রজের পথ-রেখা।।
		মেঘে ঢাকা আকাশ সম
		পাপে মলিন হৃদয় মম
	সে-আকাশে উঠবে কি সে কৃষ্ণ-শশী-লেখা।।
		অশান্ত তার বেণু বাজে
		আমার ব্যাকুল বুকের মাঝে,
	(আমি) শুনেছি, সে ডাকে তা’রেই যে বিরহী একা।।

নাটক : ‘বিল্বমঙ্গল’ (বিল্বমঙ্গলের গান)

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া

বাণী

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুঁ গো আঁখি খোলো।
প্রিয়তম! এতদিনে বিরহের নিশি বুঝি ভোর হলো।।
মজনুঁ! তোমার কাঁদন শুনিয়া মরু–নদী পর্বতে
বন্দিনী আজ ভেঙেছে পিঞ্জর বাহির হয়েছে পথে।
আজিদখিনা বাতাস বহে অনুকূল,
		ফুটেছে গোলাপ নার্গিস ফুল,
ওগো বুলবুল, ফুটন্ত সেই গুলবাগিচায় দোলো।।
বনের হরিণ–হরিণী কাঁদিয়া পথ দেখায়েছে মোরে,
হুরী ও পরীরা ঝুরিয়া ঝুরিয়া চাঁদের প্রদীপ ধ’রে।
		আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া
		কি বলিতে চাও, হে পরান–পিয়া!
নাম ধ’রে ডাকো ডাকো মোরে স্বামী
		ভোলো অভিমান ভোলো।।

ঐ কাজল-কালো চোখ

বাণী

			ঐ কাজল-কালো চোখ।
আদি কবির আদি রসের যেন দু’টি শ্লোক।।
	দু’টি কুসুম আছে ফু’টে
	পুষ্প-লতার পত্র-পুটে,
সেই আলোকে১ রেঙে উঠে — বনের গহন লোক।।
রূপের সাগর সাঁত্‌রে বেড়ায় পান কৌড়ি পাখি
			ঐ কাজল-কালো আঁখি,
মদির আঁখির নীল পেয়ালায় শরাব বিলাও নাকি,
			ওগো কাজল-কালো আঁখি।
	তোমার দু’টি আঁখি-তারা
	তারার মত তন্দ্রাহারা,
আমার মুখে চেয়ে চেয়ে অশ্রু-সজল হোক।।

১. হাসিতে

জাগো জাগো বধূ নব-বাসরে

বাণী

জাগো — জাগো বধূ নব-বাসরে।
গৃহ-দীপ জ্বালো কল্যাণ-করে।।
ভুবনের ছিলে, এলে ভবনে
স্বপন হ’তে এলে জাগরণে,
শ্রীমতী আসিলে শ্রী হীন ঘরে।।
স্বপন-বিহারিণী অকুণ্ঠিতা
পরিলে গুণ্ঠন সলাজ ভীতা’,
কমলা আসিলে কাঁকন প’রে।।

এ জনমে মোদের মিলন হবে না

বাণী

এ জনমে মোদের মিলন হবে না আর, জানি জানি।
মাঝে সাগর, এপার ওপার করি মোরা কানাকানি।।
	দুজনে দুকূলে থাকি’
	কাঁদি মোরা চখা-চখি,
বিরহের রাত পোহায় না আর বুকে শুকায় বুকের বাণী।।
	মোদের পূজা আরতি হায়
	চোখের জলে, গহন ব্যথায়,
মোদের বুকে বাজায় বীণা বেদনারি বীণাপাণি।।
	হেথায় মিলন-রাতের মালা
	ম্লান হয়ে যায় প্রভাত বেলা,
সকালে যার তরে কাঁদি, বিকালে তায় হেলাফেলা।
	মোদের এ প্রেম-ফুল না শুকায়
	নিঠুর হাতে কঠোর ছোঁওয়ায়,
ব্যথার মাঝে চির-অমর মোদের মিলন-কুসুমদানি।।