রূপের দীপালি-উৎসব আমি দেখেছি

বাণী

	রূপের দীপালি-উৎসব আমি দেখেছি তোমার নয়ন অঙ্গে।
	শথ ফুলশর মুরছায় প্রিয়া, তোমার নয়ন-ভঙ্গে।।
		যে আঁখি পরম সুন্দরে দেখিয়াছে
		সেই আঁখি কাঁদে তোমার পায়ের কাছে,
	দেখেছে সে-আঁখি, বিশ্ব দুলিছে তোমার রূপ-তরঙ্গে।।
	তোমারে দেখিতে আমার আকাশ আনত হইয়া কাঁদে,
(তব)	মণিহার হ’তে বিবাদ করে গো কোটি গ্রহ তারা চাঁদে।
	তুমি দেখিতে যদি গো আপন রূপের আলো
	আমারে ভুলিয়া নিজেরে বাসিতে ভালো,
	তোমারে আড়াল করিয়া গো তাই ছায়া-সম ফিরি সঙ্গে।।

আজ শরতে আনন্দ ধরে না রে ধরণীতে

বাণী

আজ শরতে আনন্দ ধরে না রে ধরণীতে।
একি অপরূপ সেজেছে বসুন্ধরা নীলে হরিতে।।
আনো ডালা ভরি কুন্দ ও শেফালি,
আজ শারদোৎসব জ্বালো দীপালি।
স্নেহ-মাখা সুনিবিড় আকাশ উদার ধীর,
দুলে নদীতীর কার আগমনীতে।।

রেকর্ড-নাটিকা: ‘সুরথ উদ্ধার’

ভোর হোল ওঠ্ জাগ্ মুসাফির

বাণী

ভোর হোল ওঠ্ জাগ্ মুসাফির আল্লা-রসুল বোল্‌
গাফ্‌লিয়াতি ভোল্ রে অলস্ আয়েশ আরাম্ ভোল্॥
	এই দুনিয়ার সরাইখানায়
	জনম্ গেল ঘুমিয়ে হায়
ওঠ রে সুখ-শয্যা ছেড়ে মায়ার বাঁধন খোল্॥
দিন ফুরিয়ে এলো যে রে দিনে দিনে তোর
দীনের কাজে অবহেলা কর্‌লি জীবন ভোর।
	যে দিন আজো আছে বাকি
	খোদারে তুই দিস্‌নে ফাঁকি
আখেরে পার হবি যদি পুল্ সেরাতের পোল্॥

আমি বেলপাতা জবা দেব না

বাণী

আমি	বেলপাতা জবা দেব না মাগো দেব শুধু আঁখিজল।
	মাগো হাত দিয়ে যাহা দেওয়া যায়, পাই হাতে শুধু তার ফল।।
	হাত দিয়ে ফল দিতে যাই
	(মাগো) হাতে হাতে তার ফল পাই,
	পাই অর্থ বিভব যশ
	পাই না অমৃত আনন্দ মাগো, পাই না হৃদয়ে রস।
	তাই আঁখিতে রাখিব ব’লে মা আনিয়াছি আঁখি ছলছল।।
	এবার রাখিব চোখে চোখে তোরে ছাড়িয়া দেব না আর,
	মাগো তুই চ’লে গেলে হয়ে যায় মোর ত্রিলোক অন্ধকার।
		এবার দেখিবে নিত্য হৃদয়
		তোর রাঙা চরণের অরুণ উদয়,
	তাই জবা ফেলে দিয়ে মেলিয়াছি তাই হৃদয়ের শতদল।।

এসো মাধব এসে পিও মধু

বাণী

এসো মাধব এসে পিও মধু।
এসো মাধবী লতার কুঞ্জ বিতানে (মধু) মাধবী রাতে এসো বঁধু।।
এসো মৃদুল মধুর পা ফেলে
এসো ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজায়ে শ্রবণে অমিয়া মধু ঢেলে,
এসো বাজায়ে বাঁশরি যে সুর-লহরী শুনে কুল ভোলে ব্রজবধূ।।
এসো নিবিড় নীরদ বরণ শ্যাম
তমাল কাননে কাজল বুলায়ে দুলায়ে চাঁচর চিকুর দাম,
এসো বামে হেলায়ে শিখী-পাখা ত্রিভঙ্গ ঠামে এসো বঁধু।।
এসো নারায়ণ এসো অবতার
পার্থসারথি বেশে এসো পাপ কুরুক্ষেত্রে আরবার,
তুমি মহাভারতের ভাগ্যবিধাতা গীতি উদ্গাতা নহ শুধু।।

ঝড়-ঝঞ্ঝার ওড়ে নিশান

বাণী

ঝড়-ঝঞ্ঝার ওড়ে নিশান, ঘন-বজ্রে বিষাণ বাজে।
জাগো জাগো তন্দ্রা-অলস রে, সাজো সাজো রণ-সাজে।।
দিকে দিকে ওঠে গান, অভিযান অভিযান!
আগুয়ান আগুয়ান হও ওরে আগুয়ান
ফুটায়ে মরুতে ফুল-ফসল।
জড়ের মতন বেঁচে কি ফল? কে র’বি প’ড়ে লাজে।।
বহে স্রোত জীবন-নদীর, চল চঞ্চল অধীর,
তাহে ভাসিবি কে আয়, দূর সাগর ডেকে যায়।
হ’বি মৃত্যু-পাথার পার, সেথা অনন্ত প্রাণ বিরাজে।।
	পাঁওদল্‌ রণে চল্‌, চল্‌ রণে চল্‌
	পাঁওদল আগে চল্‌, চল্‌ রণে চল্‌
মরুতে ফোটাতে পারে ওই পদতল প্রাণ-শতদল।
	বিঘ্ন-বিপদে করি’ সহায়
	না-জানা পথের যাত্রী আয়,
স্থান দিতে হবে আজি সবায়, বিশ্ব-সভা-মাঝে।।