তেমনি চাহিয়া আছে

বাণী

তেমনি চাহিয়া আছে নিশীথের তারাগুলি।
লতা-নিকুঞ্জে কাঁদে আজও বন-বুলবুলি —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তম।।
ঘুমায়ে পড়েছে সবে, মোর ঘুম নাহি আসে
তুমি যে ঘুমায়ে ছিলে সেদিন আমার পাশে,
সাজানো সে-গৃহ তব ঢেকেছে পথের ধূলি —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তম।।
আমার চোখের জলে মুছে যায় পথ-রেখা
রোহিণী গিয়াছে চলি’, চাঁদ কাঁদে একা একা,
কোন্ দূর তারা-লোকে কেমনে রয়েছে ভুলি’ —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তমা।।

ডাল মেল পত্র মেল ওরে তরুলতা

বাণী

ডাল মেল, পত্র মেল, ওরে তরুলতা!
কইতে পার, কইতে পার আমার প্রাণের বন্ধু গেল কোথা (রে)।।
	ও তরু, তোর পাতার কোলে
	ফোটা ফুলের হাসি দোলে (রে)।
সে কি তোর কুসুমের মালা গলে বসেছিল হোথা (রে)।।
	তোর ফুল ঝরে যে যথা
	তোর ছায়া থাকে যথা।
ঢেউ-এর মালা গলায় পরে নাচিস নদী জল,
তরী বেয়ে বন্ধু আমার কোথায় গেল বল।
	চাঁদের তিলক প’রে আকাশ
	হেসে হেসে কেন তাকাস্?
তোর চাঁদ কি জানে, মোর আকাশের চাঁদেরই বারতা।।

চম্‌’কে চম্‌’কে ধীর ভীরু পায়

বাণী

চম্‌’কে চম্‌’কে ধীর ভীরু পায়,
পল্লী–বালিকা বন–পথে যায় একেলা বন–পথে যায়।।
শাড়ি তার কাঁটা লতায়, জড়িয়ে জড়িয়ে যায়,
পাগল হাওয়াতে অঞ্চল ল’য়ে মাতে —
		যেন তার তনুর পরশ চায়।।
শিরীষের পাতায় নূপুর, বাজে তার ঝুমুর ঝুমুর,
কুসুম ঝরিয়া মরিতে চাহে তার কবরীতে,
		পাখী গায় পাতার ঝরোকায়।।
চাহি’ তা’র নীল নয়নে, হরিণী লুকায় বনে,
হাতে তা’র কাঁকন হ’তে মাধবী লতা কাঁদে,
		ভ্রমরা কুন্তলে লুকায়।।

নবীন বসন্তের রানী তুমি

বাণী

পুরুষ		: 	নবীন বসন্তের রানী তুমি গোলাব-ফুলী রঙ।
স্ত্রী		: 	তব অনুরাগের রঙে আমি উঠিয়াছি আজ রেঙে
						প্রিয় এই অপরূপ ঢঙ।।
পুরুষ		: 	পলাশ কৃষ্ণচূড়ার কলি
			রাঙা ও-পায়ে এলে কি দলি’?
স্ত্রী		:	বেয়ে প্রেমের পথের গলি
			এলাম কঠোর হৃদয় দলি’,
			হের পায়ে তাহারি রঙ।।
পুরুষ		:	হায়, হৃদয়-হীনা হৃদয়-সাথি হয় না তা জানি,
			অবুঝ হৃদয় তবু চাহে তায় জানে সে-পাষাণী।
স্ত্রী		:	ধরিয়া পায়ে প্রেম জানায়ে
			যাও পালায়ে শেষে কাঁদায়ে
			কাঁদাই যতই, কাঁদি যে ততই;
পুরুষ		:	বায়ু কেঁদে যায় ফুল ঝরায়ে।
স্ত্রী		:	না, না, যাও যাও মন চেয়ো না
			গন্ধ লহ, ফুল চেয়ো না;
			আছে কাঁটা ফুলের সঙ্গ।।
উভয়ে		:	যাই চল সেই কাননে
			নাই কাঁটা ফুলের সনে
			যথা নাই বিরহ, শুধু মিলন।।

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা

বাণী

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা
তোর গাঁয়েরি নদীর ঘাটে বাঁধলাম এ মোর না।।
	তোর চরণের আলতা লেগে
	পরান আমার উঠল রেঙে (রে)
ও তোর বাউরি কেশের বিনুনীতে জড়িয়ে গেল পা।
তোর বাঁকা ভুরু বাঁকা আঁখি বাঁকা চলন, সই,
দেখে পটে আঁকা ছবির মতন দাঁড়িয়ে পথে রই।
	উড়ে এলি’ দেশান্তরী
	তুই কি ডানা-কাটা পরী (রে)
তুই শুকতারারি সতিনী সই সন্ধ্যাতারার জা’।।

বল রে জবা বল

বাণী

বল্‌ রে জবা বল্ —
কোন্ সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণতল।।
মায়া–তরুর বাঁধন টু’টে মায়ের পায়ে পড়লি লু’টে
মুক্তি পেলি, উঠলি ফুটে আনন্দ–বিহ্বল।
তোর সাধনা আমায় শেখা (জবা) জীবন হোক সফল।।
কোটি গন্ধ –কুসুম ফোটে, বনে মনোলোভা —
কেমনে মা’র চরণ পেলি, তুই তামসী জবা।
তোর মত মা’র পায়ে রাতুল হবো কবে প্রসাদী ফুল,
কবে উঠবে রেঙে —
ওরে মায়ের পায়ের ছোঁয়া লেগে উঠবে রেঙে,
কবে তোরই মতো রাঙবে রে মোর মলিন চিত্তদল।।