অবুঝ মোর আঁখি বারি

বাণী

অবুঝ মোর আঁখি বারি, আমি রোধিতে নারি।।
গ'লেছে যে-নদী জল, কে তারে রোধিবে বল,
পাষাণের সে নারায়ণ তবু সে আমারি।।

চিকন কালো বেদের কুমার

বাণী

	চিকন কালো বেদের কুমার কোন্‌ পাহাড়ে যাও?
কোন্‌	বন-হরিণীর পরান নিতে বাঁশরি বাজাও?
	তুমি শিস্‌ দিয়ে গান গাও
	তুমি কুটিল চোখে চাও।।
	তীর-ধনুক নিয়ে সারাবেলা
	ও শিকারি, এ কি খেলা?
শাল গাছেরই ডাল ভাঙিয়া একটু বাতাস খাও।।
কাঁকর-ভরা কাঁটার পথে (আজ) নাই শিকারে গেলে,
অশথ্‌-তলে বাজাও বাঁশি (তোমার) হাতের ধনুক ফেলে’।
	তোমার কালো চোখের কাজল নিয়ে
	ঝিল উঠেছে ঝিল্‌মিলিয়ে, ঝিল্‌মিলিয়ে।
ঐ কমল ঝিলের শাপলা নিয়ে বাঁশিখানি দাও।।

ভুলে রইলি মায়ায় এসে ভবে

বাণী

দ্বৈত	:	ভুলে রইলি মায়ায় এসে ভবে
		তুই ভুলবি ভুলের খেলা কবে॥
স্ত্রী	:	নিবু নিবু তোর জীবন-বাতি শেষ হলো সুখ-রাতি,
পুরুষ	:	রাত পোহালে সুখের সাথী সঙ্গে নাহি রবি॥
স্ত্রী	:	যাঁর কৃপায় তুই রইলি সুখে ডাক্‌লি না রে তারে
পুরুষ	:	তুই কি নিয়ে হায় তাহার কাছে যাবি পরপারে।
স্ত্রী	:	জমালি যা তুই জীবন ভ’রে পিছু প’ড়ে রবে
পুরুষ	:	দারাসুত লবে বিভব রতন পাপের বোঝা নাহি লবে॥
স্ত্রী	:	স্রোতের মতো সময যে যায় নিয়ে শরণ প্রভুর পায়
পুরুষ	:	কৃপা-সিন্ধুর কৃপা পেলে ত’রে যাবি তুই তবে॥

বিদ্রোহী (প্রথম খন্ড)

বাণী

বল	বীর –
	বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর –
বল	মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
	চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
	ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
	খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
	উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম	ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল	বীর –
আমি	চির উন্নত শির!
আমি	চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
	মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি	মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি	দুর্বার,
আমি	ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি	অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি	দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি	মানি না কো কোন আইন,
আমি	ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি	ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি	বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল	বীর –
	চির-উন্নত মম শির!
আমি	ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি	পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি	নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি	আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি	হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি	চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
	পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
	ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি	চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি	তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,
করি	শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি	উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
	ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা
আমি	মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি	শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ঞ চির-অধীর!
বল	বীর –
আমি	চির উন্নত শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
আমি	বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি	আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি	বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি	ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি	পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি	চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি	ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি	দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি	প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি	মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!
আমি	কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি	অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
	উন্নত মম শির!
	উন্নত মম শির!

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে

বাণী

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
					পোহায় না মোর রাতি।।
ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
					পোহায় না মোর রাতি।।

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে

বাণী

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে।
প্রদীপ-শিখা সম কাঁপিছে প্রাণ মম
তোমায়, হে সুন্দর, বন্দিতে!
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
তোমার দেবালয়ে কি সুখে কি জানি
দু’লে দু’লে ওঠে আমার দেহখানি
আরতি –নৃত্যের ভঙ্গীতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
পুলকে বিকশিল প্রেমের শতদল
গন্ধে রূপে রসে টলিছে টলমল।
তোমার মুখে চাহি আমার বাণী যত
লুটাইয়া পড়ে ঝরা ফুলের মত
তোমার পদতল রঞ্জিতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।