বল রাঙা হংসদূতি তা’র বারতা

বাণী

		বল রাঙা হংসদূতি তা’র বারতা।
		দাও তা’র বিরহ-লিপি, বল সে কোথা।।
		কেমনে কাটে তা’র অলস বেলা
		আজো কি গাঙের ধারে কাঁদে একেলা,
		দু’জনের আশা-তরী ডুবিল যথা।।
		দীপ জ্বালেনি কি কেউ তাহার ঘরে,
		ভাঙা ঘর বেঁধেছে কি নূতন ক’রে।
		দেখা হ’লে তা’রে কহিও নিরালায়
		আমি মরিয়াছি — মোর প্রেম মরেনি, হায়!
(মোর)	অন্তরে সে আজো অন্তর-দেবতা।।

প্রাণের ঠাকুর লীলা করে আমার দেহের আঙিনাতে

বাণী

প্রাণের ঠাকুর লীলা করে আমার দেহের আঙিনাতে
রসের লুকোচুরি খেলা নিত্য আমার তারই সাথে।।
তারে নয়ন দিয়ে খুঁজি যখন
অন্তরে সে লুকায় তখন
অন্তরে তায় ধরতে গেলে লুকায় গিয়ে নয়ন-পাতে।।
ঐ দেখি তার হাসির ঝিলিক আমার ধ্যানের ললাট-মাঝে
ধরতে গেলে দেখি সে নাই কোন্ সুদূরে নূপুর বাজে।
এত কাছে রয় সে তবু পাই না তারে হাতে হাতে।।

আজ প্রভাতে বাহির পথে

বাণী

আজ প্রভাতে বাহির পথে কে ডাকে কোন্‌ (সই) ইশারায়।
সিঁথিতে তার সিঁদুর মাখা কে পরালে নিরালায়।।
	ঘুম ভরা তার নয়ন দুটি
	ফুলেরি মত উঠল ফুটি,
সুখের আভায় ঢেউ খেলে যায় আজকে ধরার আঙিনায়।।
হাততালি দেয় গ্রামের বঁধু পল্লীপথের ধারে;
জলের পথে যাবার বেলায় কুলের বধূ আড়ে।
	লুট করে আজ তারার আলো
	গহীন রাতে আঁধার কালো
কে এলে আজ বঁধুর বেশে আমার ঘরের কিনারায়।।

বনে বনে জাগে কি আকুল হরষণ

বাণী

বনে বনে জাগে কি আকুল হরষণ।
ফুল-দেবতা এলো দিতে ফুল-পরশন।।
হরিৎতর আজি পল্লব বন-বাস
মুকুল-জাগানিয়া সমীরণ ফেলে শ্বাস,
বেপথু লতা যাচে মধুপের দরশন।।
কিশোর-হিয়া-মাঝে যৌবন-দেবতা,
গোপনে আনে নব জাগরণ-বারতা
বঁধূর সাথে খোঁজে বঁধু বন-নিরজন।।

শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা

বাণী

শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা।
দৃষ্টিতে বৃষ্টির ঝরে ঝরনা।।
অম্বরে জলদ মৃদঙ্গ বাজাই 
কদম-কেয়ায় বন-ডালা সাজই, 
হাসে শস্যে পুষ্পে ধরা নিরাভরণা।।
পুবালি হাওয়ায় ওড়ে কালো কুম্ভল
বিজলি ও মেঘ — মুখে হাসি চোখে জল,
রিমিঝিমি নেচে যাই চল-চরণা।।

১. মোর দৃষ্টিতে

একাকিনী বিরহিণী জাগি আধো রাতে

বাণী

একাকিনী বিরহিণী জাগি আধো রাতে।
বঁধু নাহি পাশে, নিদ নাহি আসে,
কণ্টক ফোটে হায় ফুল-বিছানায়।
আবার ফুটিবে ফুল উঠিবে চাঁদ,
আমারি মনের হায় মিটিল না সাধ,
যামিনীর ফুল যেন এ রূপ-যৌবন
নিশীথে ফুটিয়া লাজে ঝ’রে যায় প্রাতে।।

নাটক : ‘দেবী দুর্গা’