সখি আমি-ই না হয় মান করেছিনু

বাণী

সখি		আমি-ই না হয় মান করেছিনু তোরা তো সকলে ছিলি। 
		ফিরে গেল হরি, তোরা পায়ে ধরি, কেন নাহি ফিরাইলি।। 
		তা'রে ফিরায় যে পায়ে ধরি' (তার) পায়ে পায়ে ফেরেন হরি 
		পরিহরি মান, অভিমান (তা'রে) কেন নাহি ফিরাইলি। 
		তোরা তো হরির স্বভাব জানিস। 
তা'র		স্ব-ভাবের চেয়ে পরভাব বেশি তোরা তো হরির স্বভাব জানিস্। 
		তা'র স্বভাব জেনেও রহিলি স্ব-ভাবে ডাকিলি না পরবোধে। 
তা'রে		প্রবোধ কেন দিলি নে সই, তোরা তো চিনিস্ হরিরে 
		প্রবোধ কেন দিলি নে সই।   
		(কেন) ডাকিলি না পরবোধে। 
		(হরি) প্রহরী হইয়া রহিত রাধার ঈষৎ অনুরোধে 
		(তা'রে) অনুরোধ কেন করলি নে সই 
		তোরা যে আমার অন্তরাধা অনুরোধ কেন করলি নে সই। 
		তোরা যে রাধার অনুবর্তিনী 
		অনুরোধ কেন করলি নে সই (কেন) ডাকিলি না পরবোধে।। 

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে

বাণী

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে।
তুমি আসিলে না, (হায়!) আশার সূর্য ডুবিল সাগর-নীরে।।
	চলে যাই যদি, চিরদিন মনে
	তোমার সে-কথা রহিবে স্মরণে
শুধু সেই কথা শোনার লাগিয়া হয়তো আসিব ফিরে।।
শুধু সেই আশে হয়তো এ তনু মরণে হবে না লীন
পথ চেয়ে চেয়ে, তব নাম গেয়ে বাজাব বিরহ-বীণ।
	হের গো, আমার যাবার সময় হলো
	তোমার সে-কথা মিথ্যা হবে না বলো,
কোন শুভক্ষণে নিমেষের তরে জড়াবে কন্ঠ ঘিরে।।

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম

বাণী

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম রইবে আমার চোখের জলে।
ওগো বঁধু! তোমার আসন গভীর ব্যথায় হিয়ার তলে।।
	আসবে যখন তিমির রাতি
	রইবে না কেউ জাগার সাথী,
আসবে সে-দিন জ্বালব বাতি — মুছব নয়ণ-জল আঁচলে।।
নাইবা হলাম প্রিয় তোমার, বন্ধু হ’তে দোষ কি বঁধু?
মুখের ‘মধু’র তৃষ্ণা শেষে আমি দিব বুকের মধু।
আমি ভালোবাসিনি ত’, ভালোবাসা পাবার ছলে।।
	বাহুর পাশে প্রিয়ায় বেঁধে’
	আমার তরে উঠ্‌বে কেঁদে,
সেই তো আমার জয় গো, প্রিয়, অন্তরে রই, রই না গলে।।

আমি নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

আমি নিজেরে আড়াল রাখি, বঁধু সারাদিন গৃহ-কাজে।
হাসে গুরুজন আশেপাশে তাই চাহিতে পারি না লাজে।।
	ওগো প্রিয় তুমি অহরহ
	কেন বাহির ভবনে রহ?
তব মৌন এ অভিমান বুকে কাঁটার মতন বাজে।।
আমি তোমারি ঘরের বধূ, বঁধু এ-লাজ তোমারি লাগি’,
আমি দিনের কুমুদ কলি, ওগো চাঁদ আমি রাতে জাগি।
	মোর দেহ গৃহ-কাজ করে
	তব পায়ে থাকে মন প’ড়ে,
মোর লাজ-গুণ্ঠন টানি’ লাজ দিও না সভার মাঝে।।

ঝরঝর অঝোর ধারায় ঝুরছে

বাণী

ঝরঝর অঝোর ধারায় ঝুরছে মনে রঙের ঝুরি।
দোলন-খোঁপায় দোল্ দিয়ে যায় দুলাল-চাঁপার তরুণ কুঁড়ি।।
চঞ্চলতার আবেশ লেগে আঁচল আমার রয় না গায়ে,
জরীন্ ফিতার বাঁধন টু’টে ব্যাকুল বেণী লুটায় পায়ে।
খেল্‌ছে চোখে মন্মথ আজ রতির সাথে লুকোচুরি,
নাচের তালে আপনি বাজে চপল হাতে কাঁকন চুড়ি।।

কেন করুণ সুরে হৃদয়পুরে বাজিছে বাঁশরি

বাণী

কেন করুণ সুরে হৃদয় পুরে বাজিছে বাঁশরি
ঘনায় গহন নীরদ সঘন নয়ন মন ভরি॥
বিজলি চমকে পবন দমকে পরান কাঁপে রে
বুকের বঁধুরে বুকে বেঁধে ঝুরে বিধুরা কিশোরী॥