নীলাম্বরী শাড়ি পরি নীল যমুনায়

বাণী

নীলাম্বরী–শাড়ি পরি’ নীল যমুনায় কে যায়?
যেন জলে চলে থল–কমলিনী ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।।
		কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে,
		চমকায় উন্মন চম্পা বনকে,
দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে, পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।।
অঙ্গের ছন্দে পলাশ–মাধবী অশোক ফোটে,
নূপুর শুনি’ বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।
		মেঘ–বিজড়িত রাঙা গোধূলি
		নামিয়া এলো বুঝি পথ ভুলি,
তাহার অঙ্গ তরঙ্গ–বিভঙ্গে কুলে কুলে নদী জল উথলায়।।

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

বাণী

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
	ভালোবাসা তোমরা যারে
	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
	কঠিন পুরুষেরি মন
	গলিয়া বহে গো যখন
বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।

যবে ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি

বাণী

যবে	ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি
	ঘুম ভাঙায়ে হাতে বাঁধিও রাখি।।
		রাতের বিরহ যবে
		প্রভাতে নিবিড় হবে
	অকরুণ কলরবে গাহিবে পাখি।।
যেন	অরুণ দেখিতে গিয়া তরুণ কিশোর
	তোমারে প্রথম হেরি' ঘুম ভাঙে মোর।
		কবরীর মঞ্জরি
		আঙিনায় রবে ঝরি'
	সেই ফুল পায়ে দলি এসো একাকী।।

ওগো চৈতী রাতের চাঁদ যেয়ো না

বাণী

ওগো	চৈতী রাতের চাঁদ, যেয়ো না
	সাধ না মিটিতে যেতে চেয়ো না।।
হের	তরুলতায় কত আশার মুকুল,
ওগো	মাধবী-চাঁদ আজো ফোটেনি ফুল,
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না —
ঝরা	মুকুলে বনবীথি ছেয়ো না
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না, ওগো যেয়ো না।।
আজো	ফুলের নেশায় পাগল দখিন হাওয়া
আজো	বোলেনি পাপিয়া 'পিয়া পিয়া' গাওয়া
তুমি	এখনি বিদায়-গীতি গেয়ো না
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না।।

আমি তব দ্বারে প্রেম-ভিখারি

বাণী

আমি তব দ্বারে প্রেম-ভিখারি
নয়নের অনুরাগ-দৃষ্টির সাথে চাহি নয়ন-বারি।।
তব পুষ্পিত তনুতে,হৃদয় -কমলে
গোপনে যে প্রেম-মধু উথলে
তোমার কাছে সেই অমৃত যাচে তৃষিত এ পথচারী।।
জনম জনম আমি রূপ ধ'রে আসি গো,
	তোমারি বিরহে কাঁদিতে,
রাহুর মত আমি আসি না
	বাহু-পাশে বাঁধিতে।
আমি ফুলের মধু চাহি,ছিঁড়ি না ফুল গো,
তদূরে রহি,গাহি গান বন-বুলবুল গো,
মনোবনে আছে তব নন্দন-পারিজাত,আমি তা'রি পূজারি।।

যে-হার দিলে ভালোবেসে

বাণী

(তুমি)	যে-হার দিলে ভালোবেসে সে-হার আমার হ’ল ফাঁসি।
(প্রিয়)		সেই হার আজ বক্ষে চেপে আকুল নয়ন-জলে ভাসি।।
			তুমি জান অন্তর্যামী
			দান তো তোমার চাইনি আমি,
		তোমায় শুধু চেয়েছিলাম সাধ ছিল মোর হ’তে দাসী।।
		দুখের মালা কেড়ে নিয়ে কেন দিলে মতির মালা,
		মালায় শীতল হবে কি নাথ! শূন্য আমার বুকের জ্বালা?
		(মোরে) রেখো না আর সোনার রথে
			ডাকো তোমার তীর্থ-পথে,
(আমার)	সুখের ঘরে আগুন জ্বালো শোনাও বাঁশি সর্বনাশী।।

১. চেয়েছিলাম তোমায় স্বামী