যবে আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা

বাণী

(যবে) আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা দু’টি বনের পাখি।
শুধু শিরাজি ঢালি, আমি চোখের বালি আমি পাষাণ সাকি।।
রিক্ত ওদের হৃদয় পেয়ালায় আমি অমৃত ঢালি
আমারই অন্তর শুধু পাইল না প্রেম-মধু রহিল খালি,
আমি রহি আভরণ-হীনা বাঁধি’ ওদের হাতে প্রেমের রাখি।।
আমি হাসিয়া রচি যার কুঞ্জ-বাসর দুয়ারে দাঁড়ায়ে তারি’ জাগি রাতি,
আমি শিয়রে রহি’ হায় নিজেরে দহি যেন মোমের বাতি।
আমি গাঁথিয়া মালা, দিই সখির হাতে
দেখি কে দেয় কার মালা কার গলাতে,
শিরাজি ঢালিতে হায় পিয়ালা ভাঙিয়া যায় —
নিরালায় বন্ধুর মিলন-ছবি আমি হৃদয়ে আঁকি।।

উম্মত আমি গুনাহগার

বাণী

উম্মত আমি গুনাহগার তবু ভয় নাহি রে আমার।
আহমদ আমার নবী যিনি খোদ্ হবিব খোদার।।
যাঁহার উম্মত্ হ’তে চাহে সকল নবী,
তাঁহারি দামন ধরি’ পুলসরাত হব পার।।
	কাঁদিবে রোজ হাশরে সবে
	যবে ‘নফ্‌সি য়্যা নফ্‌সি’ রবে,
‘য়্যা উম্মতী’ ব’লে একা কাঁদিবেন আমার মোখতার।।
কাঁদিবেন সাথে মা ফাতেমা ধরিয়া আরশ্ আল্লার।
হোসায়নের খুনের বদলায় মাফী চাই পাপী সবাকার।
দোজখ্ হয়েছে হারাম যে-দিন পড়েছি কলেমা।
যেদিন হয়েছি আমি কোরানের নিশান-বর্দার।।

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে

বাণী

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে।
শ্রান্ত দিনের রবি ডোবে সরিতে।।
	ঘিরিছে আঁধার
	তটিনী-কিনার,
গোধূলির ছায়া পড়ে বন-হরিতে।।
ধেনু ডাকা বেণু বাজে বংশী-বটে,
পাখি ওড়ে, আঁকা যেন আকাশ-পটে।
	বধূ ঘাটে যায়,
	বঁধু পথে যায়,
চিনি চিনি বাজে চুড়ি গাগরিতে।।

আমার কালো মেয়ে রাগ করেছে

বাণী

আমার কালো মেয়ে রাগ করেছে (মাকে) কে দিয়েছে গালি –
রাগ ক’রে সে সারা গায়ে মেখেছে তাই কালি।।
যখনরাগ করে মোর অভিমানী মেয়ে
আরো মধুর লাগে তাহার হাসি–মুখের চেয়ে –
কেকালো দেউল ক’রলে আলো অনুরাগের প্রদীপ জ্বালি’।।
পরেনি সে বসন–ভূষণ, বাঁধেনি সে কেশ, -
তারি কাছে হার মানে যে ভুবন–মোহন বেশ।
রাগিয়ে তারে কাঁদি যখন দুখে, (দয়াময়ী মা –)
দয়াময়ী মেয়ে আমার ঝাঁপিয়ে পড়ে বুকে;
আমাররাগী মেয়ে, তাই তারে দিই জবা ফুলের ডালি।।

এসো এসো রস-লোক বিহারী

বাণী

এসো এসো রস-লোক বিহারী এসো মধুকর-দল।
এসো নভোচারী — স্বপন-কুমার এসো ধ্যান-নিরমল।।
	এসো হে মরাল কমল-বিলাসী,
	বুলবুল পিক সুর-লোক-বাসী,
এসো হে স্রষ্টা এসো অ-বিনাশী এসো জ্ঞান-প্রোজ্জ্বল।।
	দীওয়ানা প্রেমিক এসো মুসাফির —
	ধূলি-ম্লান তবু উন্নত শির,
আমরা-অমৃত-জয়ী এসো বীর আনন্দ বিহ্বল।।
	মাতাল মানব করি’ মাতামাতি
	দশ হাতে যবে লুটে যশ খ্যাতি,
তোমরা সৃজিলে নব দেশ জাতি অগোচর অচপল।।
	খেল চির-ভোলা শত ব্যথা স’য়ে
	সংঘাত ওঠে সঙ্গীত হ’য়ে,
শত বেদনার শতদল ল’য়ে লীলা তব অবিরল।।
	ভুলি’ অবহেলা অভাব বিষাদ
	ধরণীতে আনো স্বর্গের স্বাদ,
লভি’ তোমাদের পুণ্য প্রসাদ পেনু তীর্থের ফল।।

শ্রীকৃষ্ণ মুরারী গদাপদ্মধারী

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ মুরারী গদাপদ্মধারী
মধুবন-চারী গিরিধারী ত্রিভুবন-বিহারী।।
	লীলা-বিলাসী গোলকবাসী
	রাধা তুলসী প্রেম-পিয়াসী
মহা বিরাট বিষ্ণু ভূ-ভার হরণকারী।।
	নব-নীরদ-কান্তি-শ্যাম
	চির কিশোর অভিরাম
রসঘন-আনন্দ-রূপ মাধব বনোয়ারী।।