আমি গত জনমে হে প্রিয়

বাণী

আমি গত জনমে, হে প্রিয়, যত কথা বলেছিনু তব কাছে।
ফুল হয়ে সেই কথা আজ পৃথিবীতে ফুটিয়াছে।।
	কাঁদিয়া কাঁদিয়া যত আঁখি মম
	নিভিয়া গিয়াছে ওগো প্রিয়তম
তারা হয়ে সেই আঁখিগুলি মোর তব পথ চেয়ে আছে।।
যত দীপ জ্বেলে নিশি জেগেছিনু একা বাতায়ন তলে,
কমল কুমুদ হয়ে সেই দীপ ফুটেছে সায়র জলে।
	চকোরিনী হয়ে অপূর্ণ সাধ
	আজো কেঁদে যায় ওগো মোর চাঁদ,
চাতকিনী হয়ে আজো মোর প্রাণ তৃষ্ণার জল যাচে।।

আমি ভুলিতে পারি না সেই

বাণী

আমি ভুলিতে পারি না সেই দূর অমরার স্মৃতি।
যার আকাশে বিরাজে চির পূর্ণিমার তিথি।।
	আজও যেন শুনি ইন্দ্র সভায়
	দেবকুমারীরা ডাকে ‘আয় আয়’,
কেঁদে যেন ডাকে অলকানন্দা নন্দন-বন-বীথি।।

নাটক : ‘সুভদ্রা’ (উর্বশীর গীত)

তুমি সুন্দর হতে সুন্দর মম

বাণী

তুমি সুন্দর হতে সুন্দর মম মুগ্ধ মানস-মাঝে।।
ধ্যানে, জ্ঞানে, মম হিয়ার মাঝারে তোমারি মূরতি রাজে।।
	তোমারি বিহনে হৃদয় আঁধার
	তোমারি বিরহে বহে আঁখি-ধার,
আকাশে বাতাসে নিখিল ভুবনে বেদনার বাঁশি বাজে — 
পাব কি গো দেখা বারেকের তরে আমার জীবন-সাঁঝে।।

শিউলি তলায় ভোর বেলায়

বাণী

শিউলি তলায় ভোর বেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।
শেফালি পুলকে ঝ’রে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা।।
		ঘোম্‌টা খুলিয়া তার পিঠে লুটায়
		শিথিল কবরী লুটিছে পায়,
নৃত্যের ভঙ্গে ফুল তোলে রঙ্গে, আধো আঁধার বন তার রূপে উজালা।।
নিলাজ পাঁয়জোরে তার ওঠে ঝঙ্কার রিনিঝিনি, মন কয় চিনি চিনি
		এ কি গো বন-দেবীর সতিনী
শিশির ধরে’ পায় আল্‌তার রঙ্‌ চায় পাখি তারি গান গায় বনে নিরালা।।

সো’জা সো’জা সো’জা জগ নরনারী

বাণী

সো’জা সো’জা সো’জা জগ নরনারী
বাদল গ্যর‍্যজো বিজলি চ্যম্যকে
র‍্যজ্যনী হো রহ্ আঁধিয়ারী।।

নাটিকাঃ ‘জন্মষ্টমী’

নিশীথ হয়ে আসে ভোর

বাণী

নিশীথ হয়ে আসে ভোর, বিদায় দেহ প্রিয় মোর।
রজনী-গন্ধ্যার বনে হের গুঞ্জরিছে ভ্রমর।।
হের ঐ তন্দ্রা ঢুলু ঢুল্, জড়ায়ে হাতে এলোচুল।
বধূ যায় সিনান-ঘাটে পথে লুটায় বসন-আকুল।।
খোল খোল বাহুর মালা, মোছ মোছ প্রিয়া আঁখি,
শোন্ কুঞ্জ-দ্বারে তব কুহু মুহু মুহু ওঠে ডাকি’।
হের লো, শিয়রে তব প্রদীপ হয়ে এলো ম্লান,
দাঁড়াল রাঙা ঊষা ঐ রঙের সাগরে করি’ স্নান।
আকাশ-অলিন্দে কাঁদে পাণ্ডুর-কপোল শশী,
শুকতারা নিবু-নিবু ঐ, মলয়া উঠে উছসি,।
কাঁদে রাতের আঁধার মোর বুকে মুখ রাখি’।।