বাণী

বিরহের গুলবাগে মোর ভুল ক'রে আজ ফুটলো কি বকুল।
অবেলায় কুঞ্জবীথি মুঞ্জরিতে এলে কি বুলবুল।
এলে কি পথ ভুলে মোর আঁধার রাতে ঘুম-ভাঙানো চাঁদ,
অপরাধ ভুলেছ কি, ভেঙেছে কি অভিমানের বাঁধ।
মরণ আজ মধুর হলো পেয়ে তব চরণ রাতুল।।
ওগো প্রদীপ নিভে আসে ইহারি ক্ষীণ আলোকে,
দেখে নিই শেষ দেখা যত সাধ আছে চোখে।
হে চির-সুন্দর মোর, বিদায়-সন্ধ্যা মম
রাঙালে এ কি রঙে উদয় ঊষার সম
ঝ'রে পড়ুক তব পায়ে আমার এই জীবন-মুকুল।।

বাণী

আঁধার রাতে			কে গো একেলা
নয়ন-সলিলে		ভাসালে ভেলা।।
কাঁদিয়া কারে 		খোঁজ ওপারে
আজো যে তোমার		প্রভাত বেলা।।
কি দুখে আজি		যোগিনী সাজি’
আপনারে ল’য়ে		এ হেলা-ফেলা।।
সোনার কাঁকন		ও দুটি করে
হের গো জড়ায়ে		মিনতি করে।
খুলিয়া ধূলায়		ফেলো না গো তায়,
সাধিছে নূপুর		চরণ ধ’রে।
হের গো তীরে		কাঁদিয়া ফিরে
আজি ও-রূপের		রঙের মেলা।।

বাণী

খর রৌদ্রের হোমানল জ্বালি’ তপ্ত গগনে জাগি।
রুদ্র তাপস সন্ন্যাসী বৈরাগী।।
	সহসা কখন বৈকালি ঝড়ে
	পিঙ্গল মম জটা খু’লে পড়ে,
যোগী শঙ্কর প্রলয়ঙ্কর জাগে চিত্তে ধেয়ান ভাঙি’১।।
	শুষ্ক কণ্ঠে শ্রান্ত ফটিক জল
	ক্লান্ত কপোত কাঁদায় কানন-তল,
চরণে লুটায় তৃষিতা ধরণী আমার শরণ মাগি’।।

১. মম চিত্তে মাতে নৃত্যে যোগী শঙ্কর ধ্যান ভাঙি।

বাণী

প্রিয়	মুহরে-নবুয়ত-ধারী হে হজরত
		(প্রিয়) তারিতে উম্মত এলে ধরায়
	মোহাম্মদ মোস্তফা, আমহদ মুরতজা
		নাম জপিতে নয়নে আঁসু ঝরায়।।
দিলে 	মুখে তক্‌বির, দিলে বুকে তৌহিদ
দিলে 	দুঃখেরই সান্ত্বনা খুশির ঈদ
দিলে 	প্রাণে ঈমান, দিলে হাতে কোরআন
		শিরে শিরতাজ নাম মুসলিম আমায়।।
তব	সব নসিহত মোরা গিয়াছি ভুলে
শুধু	নাম তব আছে জেগে প্রাণের কূলে
	ও-নামে এ প্রাণ-সিন্ধু তব দুলে
		আমি ঐ নামে ত’রে যাব, আছি আশায়।।

বাণী

আমি যদি বাবা হতুম বাবা হ’ত খোকা
না হলে তার নাম্‌তা পড়া মারতাম মাথায় টোকা।।
	রোজ যদি হ’ত রবিবার!
	কি মজাটাই হ’ত গো আমার!
কেবল ছুটি! থাকত নাক’ নামতা লেখাজোঁখা
থাকত না কো যুক্ত অক্ষর, অঙ্কে ধর্‌ত পোকা।।

বাণী

অরুণ-রাঙা গোলাপ-কলি
	কে নিবি সহেলি আয়।
গালে যার গোলাপী আভা
	এ ফুল-কলি তারে চায়।।
ডালির ফুল যে শুকায়ে যায়
কোথায় লায়লী, শিরী কোথায়
কোথায় প্রেমিক বিরহী মজনু
	এ ফুল দেব কাহার পায়।।
পূর্ণ চাঁদের এমন তিথি
ফুল-বিলাসী কই অতিথি
বুলবুলি বিনে এ গুল্‌ যে
	অভিমানে মুরছায়।।