কেঁদে কেঁদে নিশি হল ভোর

বাণী

কেঁদে কেঁদে নিশি হল ভোর।
মিটিল না সাধ উঠিল না চাঁদ ফিরিল কেঁদে চকোর।।
	শিয়রে দীপ নিভিয়া আসে
	ভোরের বাতাস কাঁদে হতাশে,
মালার ফুল ঝরে নিরাশে — যেন মোর আঁখি লোর।।
	আমার নয়নে নয়ন রাখি’
	চাহে শুকতারা ছলছল আঁখি,
পাপিয়ার সনে পিয়া পিয়া ডাকি — এসো এসো চিতচোর।।

প্রভাত বীণা তব বাজে হে

বাণী

প্রভাত বীণা তব বাজে হে
উদার অম্বর মাঝে হে।।
তুষার কান্তি তব প্রশান্তি
শুভ্র আলোকে রাজে হে।।
তব আনন্দিত গভীর বাণী
শোনে ত্রিভুবন যুক্ত পাণি
মন্ত্রমুগ্ধ ভাব গঙ্গা নিস্তরঙ্গা লাজে হে।।

চারু চপল পায়ে যায়

বাণী

চারু চপল পায়ে যায় যুবতী গোরী।।
আঁচলের পাল তুলে সে চলে ময়ূর-পঙ্খি-তরী।।
	আয়রে দেখবি যদি
	ভাদরের ভরা নদী,
চলে কে বে-দরদি — ভেঙে কূল গিরি-দরি।।
	মুখে চাঁদের মায়া
	কেশে তমাল-ছায়া,
এলোচুলে দুলে দুলে নেচে চলে হাওয়া-পরী।।
	নয়ন-বাণে মারে প্রাণে
	চরণ-ছোঁয়ায় জীবন দানে,
মায়াবিনী যাদু জানে — হার মানে ঊর্বশী অপ্সরী।।

ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো

বাণী

ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো
তুই উঠলি রেঙে যেন পাকা কামরাঙ্গার ফল গো।।
তোর মন আইঢাই কি দেখে কে জানে
তুই চুন বলে দিস হলুদ বাটা পানে
তুই লাল নটে শাক ভেবে কুটিস শাড়ির আঁচল গো।।
তুই এ ঘর যেতে ও ঘরে যাস পায়ে বাধে পা
বউ তোর রঙ্গ দেখে হাসছে ননদ জা।
তুই দিন থাকিতে পিদিম জ্বালিস ঘরে
ওলো রাত আসিবে আরো অনেক পরে
কেন ভাতের হাঁড়ি মনে ক'রে উনুনে দিস জল গো।।

এত কথা কি গো কহিতে জানে

বাণী

এত কথা কি গো কহিতে জানে
		চঞ্চল ঐ আঁখি
নীরব ভাষায় কি যে ক'য়ে যায়
	ও সে মনের বনের পাখি।।
বুঝিতে পারি না ঐ আঁখির ভাষা
জলে ডুবে তবু মেটে না পিপাসা,
আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা
	অভিমান মাখামাখি।।
মুদিত কমলে ভ্রমরেরি প্রায়
বন্দী হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়
	সুনীল আকাশে ডাকি'।।

কে নিবি মালিকা এ মধু যামিনী

বাণী

		কে নিবি মালিকা এ মধু যামিনী,
		আয় লো যুবতী কুল কামিনী॥
আমার		বেল ফুলের মালা গুণ জানে গো,
		পরবাসী বঁধুকে ঘরে আনে গো।
আমার		মালার মায়ায় ভালোবাসা পায়
কেঁদে		কাটায় রাতি যে অভিমানিনী॥
আমি		রূপের দেশের মায়া পরী,
(সেই)		আমার মালার গুণে কুরূপা যে সে হয় সুন্দরী।
যে		চঞ্চলে অঞ্চলে বাঁধিতে চায়,
যার		নিঠুর বঁধু সদা পালিয়ে বেড়ায়।
আমার		মালার মোহে ঘরে রহে সে
ফোটে		মলিন মুখে হাসির সৌদামিনী॥