বাণী

ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি
সাঝেঁর বেলা এলে কানন-বীথি।।
চোখে কি মায়া ফেলেছে ছায়া
যৌবন মদির দোদুল কায়া
তোমার ছোঁয়ায় নাচন লাগে দখিন হাওয়ায়
লাগে চাদেঁর স্বপন বকুল চাঁপায়,
কোয়েলিয়া কুহরে কু কু গীতি।।

বাণী

পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয়, পরান-প্রিয়!
চাহিতে যেমন আগের দিনে তেমনি মদির চোখে চাহিও।।
		যদি গো সেদিন চোখে আসে জল,
		লুকাতে সে জল করিও না ছল,
যে-প্রিয় নামে ডাকিতে মোরে সে-নাম ধরে বারেক ডাকিও।।
		তোমার বঁধু পাশে (হায়) যদি রয়,
		মোরও প্রিয় সে, করিও না ভয়,
কহিব তা’রে, ‘আমার প্রিয়ারে আমারো অধিক ভালোবাসিও’।।‌
		বিরহ-বিধুর মোরে হেরিয়া,
		ব্যথা যদি পাও যাব সরিয়া,
রব না হ’য়ে পথের কাঁটা, মাগিব এ বর মোরে ভুলিও।।

বাণী

		না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়।
		গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়।।
			আমার নয়ন ভ’রে
			এখনো শিশির ঝরে,
		এখনো বাহুর ’পরে বঁধূ ঘুমায়।।
			এখনো কবরী-মূলে
			কুসুম পড়েনি ঢুলে,
		এখনো পড়েনি খুলে’ মালা খোঁপায়।।
			নিভায়ে আমার বাতি
			পোহাল সবার রাতি,
(আমি) 	নিশি জেগে’ মালা গাঁথি, প্রাতে শুকায়।।

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ নামের তরীতে কে হবি পার কৃষ্ণ নামের তরীতে!
তরাইতে পাপী পতিত মানবে এলো তরী ভব-নদীতে।।
ডাকিছে আর্তজনে বাঁশির সুরে নাইয়া কানাইয়া ‘আয় আয়’ ব’লে
মধুর নামের তরী টলমল দোলে আশ্রিতে পারে নিতে।।
ঘন দুর্দিন-ঘেরা আঁধার সংসার নাম প্রদীপ আশার;
জপ প্রেম-ভরে তাঁহারই প্রিয় নাম (তরঙ্গে) তরী ডুবিবে না আর।
তাঁর নাম পারের তরী, কান্ডারি শ্রীচরণ শরণ নে রে তোরা তাঁরই
নামের আলোকে যাবি রে গোলকে নাম গাহিতে গাহিতে।।

বাণী

দে গরুর গা ধুইয়ে –
নিয়ে ষন্ডা মার্কা গিন্নি গন্ডা তিনেক আন্ডা বাচ্চা
ঠান্ডা মেরে গেছি দাদা তোমরা ভাব আজি আচ্ছা
আমি থাকি বাছুর ধরে খায় অন্যে গাই দুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
নিতি নূতন পুষ্যি (গজায়) যেন গোদের উপর গ্যাঁজ
যেন দুম্বা ভেড়ার ন্যাজ বাবা
(ঘরে) হাঁড়িতে ইঁদুর ডন ফেলে আর বাহিরে রসুন প্যাঁজ
ভাই হোটেলে রসুন প্যাঁজ
চুটকে আমায় চাটনী করলে সিক্‌নি ঝরে নাক চুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
খামচা খামচি করে নিতুই এ সংসারের সাথে
নুন ছাল উঠে গেল প্রাণের মাথা হল আলু ভাতে
করাত চেরা করে বরাত আমার উপর চিৎ শুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
পাছড়ে ফেলে স্ত্রী পুত্র যেন প্যাঁচড়া আঁচড়ায়
জিসকা ফাটে উসকা ফাটে ধোবি বসে আছড়ায়
ন্যাংটা শিরের মন্ত্র দাদা পেয়েছি দু-কান খুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে — জোরেসোরে।

বাণী

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়
আজিকে যে রাজাধিরাজ কা'ল সে ভিক্ষা চায়।।
অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি
তারও হলো বনবাস রাবণ করে দুর্গতি।
আগুনেও পুড়িল না ললাটের লেখা হায়।।
স্বামী পঞ্চ পাণ্ডব, সখা কৃষ্ণ ভগবান
দুঃশাসন করে তবু দ্রৌপদীর অপমান
পুত্র তার হলো হত যদুপতি যার সহায়।।
মহারাজ হরিশচন্দ্র, রাজ্য দান ক'রে শেষ
শ্মশান-রক্ষী হয়ে লভিল চণ্ডাল-বেশ
বিষ্ণু-বুকে চরণ-চিহ্ন, ললাট-লেখা কে খণ্ডায়।।