বাণী

রঙ্গিলা আপনি রাধা তারে হোরির রঙ দিও না
ফাগুনের রাণীরে শ্যাম আর ফাগে রাঙিয়ো না।।
	রাঙা আবির রাঙ্গা ঠোঁটে
	গালে ফাগের লালী ফোটে
রঙ সায়রে নেয়ে উঠে অঙ্গে ঝরে রঙের সোনা।।
	অনুরাগ –রাঙা মনে
	রঙের খেলা ক্ষণে ক্ষণে
অন্তরে যার রঙের লীলা তারে বাহিরে রঙ লাগিয়ো না।।

বাণী

আর লুকাবি কোথা মা কালী
বিশ্ব-ভুবন আঁধার ক’রে তোর রূপে মা সব ডুবালি।।
সুখের গৃহ শ্মশান ক’রে বেড়াস্ মা তায় আগুন জ্বালি’
দুঃখ দেবার রূপে মা তোর ভুবন-ভরা রূপ দেখালি।।
পূজা ক’রে, পাইনি তোরে মা গো এবার চোখের জলে এলি
বুকের ব্যথায় আসন পাতা ব’স্ মা সেথা দুখ্‌-দুলালী।।

বাণী

বনে বনে দোলা লাগে।
মনে মনে দোলা লাগে
	দখিনা-সমীর জাগে।।
একি এ বেদনা লয়ে
ফুটিল কুসুম হৃদয়ে
আবেশে পুলকে ভয়ে
	না-জানা পরশ মাগে।।
কিশোর হৃদয় পুটে
অশোক রঙিন ফোটে
কপোল রাঙিয়া ওঠে
	অতনুর অনুরাগে।।

বাণী

(মম)	প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা (হায়)।
	ক্ষণে ভালোবাসা হায় ক্ষণে অবহেলা।।
	সকালে গাঁথিয়া মালা পায়ে দল বিকালে তায়।
	তেমনি দলিতে চাহ আমার পরান কি হায়।
	সহিতে পারি না আর এই হেলাফেলা।।
	জলরূপী একি কোন্ মরীচিকা তুমি কি গো।
	ডেকে এনে মরুভূমে বধিবে এ বনমৃগ।
	বুঝিয়াছি কখন হায় ফুরায়েছে বেলা।।

বাণী

এ কোন্‌ মধুর শরাব দিলে আল আরাবি সাকি,
নেশায় হলাম দিওয়ানা যে রঙিন হল আঁখি।।
	তৌহিদের শিরাজি নিয়ে
	ডাকলে সবায় যারে পিয়ে,
নিখিল জগৎ ছুটে এলো রইল না কেউ বাকি।।
বসলো তোমার মহ্‌ফিল দূর মক্কা মদিনাতে,
আল্‌-কোরানের গাইলে গজল শবে কদর রাতে।
	নরনারী বাদশা ফকির
	তোমার রূপে হয়ে অধীর
যা ছিল নজ্‌রানা দিল রাঙা পায়ে রাখি’।

বাণী

শূন্য এ–বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল অকালে ঝরিয়া যায়।।
		তুই নাই ব’লে ওরে উন্মাদ
		পান্ডুর হ’ল আকাশের চাঁদ,
কেঁদে নদী–জল করুণ বিষাদ ডাকে: ‘আয় ফিরে আয়’।।
		গগনে মেলিয়া শত শত কর
		খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড় লুটায় লতা ধূলায়!
		তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
		আবার ফুটিবে বন ফুল–দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল তোর চোখের চাওয়ায়।।