পায়ে বিঁধেছে কাঁটা সজনী ধীরে চল

বাণী

পায়ে বিঁধেছে কাঁটা সজনী ধীরে চল।
	ধীরে ধীরে ধীরে চল।
চলিতে ছলকি' যায় ঘটে জল ছল ছল।।
	একে পথ আঁকাবাঁকা
	তাহে কন্টক -শাখা
আঁচল ধ'রে টানে, টলে তনু টলমল।।
	ভরা যৌবন-তরী,
	তাহে ভরা গাগরি,
বুঝি হয় ভরা-ডুবি, ছি ছি বল এ কি হলো।।
	পথের বাঁকে ও কে
	হাসে ডাগর চোখে,
হাসিবে পথের লোকে সখি স'রে যেতে বল।।

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী

বাণী

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী (হে বন-লক্ষ্মী)।
তব অপাঙ্গে হইব ভ্রুভঙ্গি।।
মোরে জ্বালায়ে জ্বালো
তব বাসরে আলো,
মোরে নূপুর করি’ বাঁধ চরণে তারি —
	নাচে তোমার সভায় যে কুরঙ্গী।।
তব রূপের দেশে
এনু বাউল বেশে,
যেন ফিরে নাহি যাই
আঁখি-প্রসাদ পাই —
	হব কেশে তব বেণীর ভুজঙ্গী।।

কত আর এ মন্দির দ্বার হে প্রিয় রাখিব খুলি

বাণী

	কত আর এ মন্দির দ্বার, হে প্রিয়, রাখিব খুলি'
	বয়ে যায় যে লগ্নের ক্ষণ, জীবনে ঘনায় গোধূলি।।
	নিয়ে যাও বিদায়-আরতি, হ'ল ম্লান আঁখির জ্যোতি;
	ঝরে যায় শুষ্ক স্মৃতির মালিকা-কুসুমগুলি।।
	কত চন্দন ক্ষয় হ'ল হায়, কত ধূপ পুড়িল বৃথায়;
	নিরাশায় সে পুষ্প কত ও পায়ে হইল ধূলি।।
ও	বেদী-তলে কত প্রাণ — হে পাষাণ নিলে বলিদান;
	তবু হায় দিলে না দেখা — দেবতা, রহিলে ভুলি'।।

অরুণ কিরণ সুধা-স্রোতে ভাসাও প্রভু মোরে

বাণী

অরুণ কিরণ সুধা-স্রোতে, ভাসাও প্রভু মোরে।
গ্লানি পাপ তাপ মলিনতা, যাক ধুয়ে চিরতরে।।
প্রশান্ত স্নিগ্ধ তব হাসি, ঝরুক অশান্তি প্রাণে বুকে
প্রভাত আলোর ধারা, যেমন ঝরে সব ঘরে।।
যেমন বিহগেরা জাগি ভোরে, আলোর নেশার ঘোরে
আকাশ পানে ..., বন্দে প্রেম-মনোহরে।।

১. পান্ডুলিপিতে পরিবর্ত লাইন হিসেবে ‘সবারে আজ যেন ভালোবাসি’ লেখা আছে।
২. পান্ডুলিপিতে গানটির সঙ্গে কবি-কৃত স্বরলিপি আছে।

আজি জ্যোৎস্না বিজড়িত ফাল্গুনী

বাণী

উভয়ে	:	আজি জ্যোৎস্না বিজড়িত ফাল্গুনী রাতে।
		ল’য়ে মঞ্জুল-মল্লিকা মালিকা হাতে।।
		আজি এসেছি মোরা এসেছি
		দোঁহে মিলেছি বাহুপাশে হিন্দোলাতে।।
শ্যাম	:	আজি বিকশিত উন্মুখ চিত্ত
রাধা	:	দিছি পদতলে ঢালি সব বিত্ত
		দিছি তনুমন যৌবন রিক্ত আজি হে
শ্যাম	:	ঊষর প্রাণের এ চির-পিপাসা কর গো তারে সিক্ত
		আজি মিলন প্রেম-বারি পাতে।।
রাধা	:	থর কম্পিত হিয়া-পরে বাঞ্ছিত এসো গো
শ্যাম	:	মম স্পন্দিত বাহুপাশে নন্দিতা এসো গো
রাধা	:	আন অন্তরে নিবিড় চেতনা
		হর মন্তরে এ চির বেদনা
শ্যাম	:	এসো মালতী বল্লরি বিতানে
		এসো মিলন-পুলকিত প্রাণে
		চির উৎসুক বিরহ অবসানে
		নবপ্রেমে আজি প্রাণ মাতে।।

চুম্বক পাথর হায় লোহারে দেয়

বাণী

চুম্বক পাথর হায় লোহারে দেয় গালি,
আমার গায়ে ঢ’লে প’ড়ে কুলে দিলে কালি।।
	লোহা বলে, হায় পাষাণী
	তুমিই লহ বুকে টানি’,
(কেন) সোনা-রূপা ফেলে দিয়ে আমায় টান খালি।।
চুম্বক আর লোহায় চলে দ্বন্দ্ব সারা বেলা,
কে’দে মরে, বুঝতে নারে (এ) কোন্ নিঠুরের খেলা।
	হঠাৎ তাদের দৃষ্টি গেল খুলে
	ঊর্দ্ধ পানে চায় নয়ন তুলে,
(দেখে) খেলেন তাদের নিয়ে রস-শেখর বনমালি।।