বাণী

চাঁদের পিয়ালাতে আজি জোছনা-শিরাজি ঝরে।
ঝিমায় নেশায় নিশীথিনী সে-শরাব পান ক’রে।।
	সবুজ বনের জল্‌সাতে
	তৃণের গালিচা পাতে,
উতল হাওয়া বিলায় আতর চাঁপার আতরদানি ভ’রে।।
সাদা মেঘের গোলাব-পাশে ঝরিছে গোলাব-পানি,
রজনীগন্ধার গেলাসে রজনী দেয় সুরা আনি’।
	কোয়েলিয়া কুহু কুহু
	গাহে গজল মুহু মুহু,
সুরের নেশা সুরার নেশা লাগে আজি চরাচরে।।

বাণী

কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন শিকায় ঝুলে
কাচের জারে বেচারা তুই মরিস কেন ফেঁপে ফু’লে।।
কাঁচা তেঁতুল পেয়ারা আম
ডাঁশা জামরুল আর গোলাপ জাম —
যেমনি তোরে দেখিলাম অমনি সব গেলাম ভুলে।।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

বাণী

কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে মন উদাস করা দুপুরে (গো)।
সখি কে কাহারে চায়
আজো সুরে সুরে ঝুরে ঝুরে কাহারে ধেয়ায়
মোর মন যেতে চায় বাঁশুরিয়ার সুরের দেশে উড়ে (গো)।।
হেরি যেতে নদী পথে
সে ভাঁট ফুলেরি মালা গেঁথে ভাসায় ভাটির স্রোতে (গো)
আমার সাধ জাগে ঐ মালা যাহার দেখি সেই বঁধু রে (গো)।।

বাণী

উম্মত আমি গুনাহগার তবু ভয় নাহি রে আমার।
আহমদ আমার নবী যিনি খোদ্ হবিব খোদার।।
যাঁহার উম্মত্ হ’তে চাহে সকল নবী,
তাঁহারি দামন ধরি’ পুলসরাত হব পার।।
	কাঁদিবে রোজ হাশরে সবে
	যবে ‘নফ্‌সি য়্যা নফ্‌সি’ রবে,
‘য়্যা উম্মতী’ ব’লে একা কাঁদিবেন আমার মোখতার।।
কাঁদিবেন সাথে মা ফাতেমা ধরিয়া আরশ্ আল্লার।
হোসায়নের খুনের বদলায় মাফী চাই পাপী সবাকার।
দোজখ্ হয়েছে হারাম যে-দিন পড়েছি কলেমা।
যেদিন হয়েছি আমি কোরানের নিশান-বর্দার।।

বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

বাণী

কে বিদেশি		বন-উদাসী'
বাঁশের বাঁশি		বাজাও বনে।
সুর-সোহাগে	তন্দ্রা লাগে
কুসুম-বাগের	গুল-বদনে।।
ঝিমিয়ে আসে	ভোমরা-পাখা
যুথীর চোখে		আবেশ মাখা
কাতর ঘুমে		চাঁদিমা রাকা
ভোর গগনের	দর-দালানে
দর-দালানে		ভোর গগনে।।
লজ্জাবতীর		লুলিত লতায়
শিহর লাগে		পুলক-ব্যথায়
মালিকা সম		বঁধুরে জড়ায়
বালিকা-বঁধু		সুখ-স্বপনে।।
বৃথাই গাঁথি		কথার মালা
লুকাস কবি		বুকের জ্বালা,
কাঁদে নিরালা	বনশিওয়ালা
তোরি উতলা	বিরহী মনে।।