ওরে যোগ-সাধনা পরে হবে

বাণী

ওরে	যোগ-সাধনা পরে হবে নাম জপ্ তুই আগে।
	সকল কাজে সকাল সাঁঝে গভীর অনুরাগে।।
	ওরে	যে ঠাকুরে পরান যাচে
	সে	নামের মাঝে লুকিয়ে আছে,
যেমন	বীজের মাঝে মহাতরু সঙ্গোপনে জাগে।।
	বীজ না বুনে আগে ভাগেই ফসল খুঁজিস্ তুই,
	তাই চিরকাল পোড়ো জমি রইল মনের ভুঁই।
তোর	কোন্ পথ নাম জপের শেষে
	দেখিয়ে দেবেন তিনিই এসে,
তোর	জীবন হবে প্রেমে রঙীন রঙ যদি রে লাগে।
	তাঁর মধুর নামের রঙ যদি রে লাগে।।

কাঁদবো না আর শচীদুলাল তোমায় ডেকে ডেকে

বাণী

কাঁদবো না আর শচীদুলাল তোমায় ডেকে ডেকে
		মোরা কাঁদবো না —
(প্রিয়) তুমি গেছ চলে তোমার প্রেম গিয়েছ রেখে 
		তাই কাঁদব না॥
	ত্যাগ যেখানে প্রেম যেখানে
	তোমার মধু-রূপ সেখানে
ওগো জগন্নাথের দেউল তোমায় রাখবে কোথায় ঢেকে॥
হল বৈরাগিনী ধরা তোমার চরণ ধূলি মেখে
তোমার মন্ত্র নিল অসীম আকাশ চাঁদের তিলক এঁকে।
	সুন্দর যা কিছু হেরি
	ওগো রূপ সে শচী-নন্দনেরি
তোমার ডাক শুনি যে আজো হৃদয়পুরীর সাগর থেকে।
তোমার ডাক শুনি যে ওহে প্রিয়
ডাক শুনি যে আজো হৃদয়পুরীর সাগর থেকে॥

কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা

বাণী

কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা কার।
ভেসে এসে হতে চায় গো আমার গলার হার।।
		আমি তারে নাহি জানি
		তার সুরের সূত্রখানি,
তবু বিজড়িত হয় কেন গো, আমার কঙ্কনে বারবার।।
তার সুরের তুলির পরশে, ওঠে আমার ভুবন রাঙ্গি’,
কোন বিস্মৃত জনমের যেন কত স্মৃতি ওঠে জাগি’।
		আমার রাতের নিদে
		তার সুর এসে প্রাণে বিঁধে,
যার সুর এত চেনা, কবে দেখা পাবো সেই অচেনার।।

বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ

বাণী

বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ বন্ধনে কাঁদিছে শ্যাম রাই।
মিলনের মাঝে এত বেদনা যে বাজে গো – দেখি নাই, শুনি নাই।।
সাগরে মিশে নদী, তবু কাঁদে নিরবধি, বুঝি না কেন গো –
বুকে যত পায়, তত তৃষ্ণা বেড়ে যায়, সাধ মেটে না যেন গো।।
সাধ কি মেটে গো চাঁদকে হেরে চকোরিণীর সাধ কি মেটে গো –
মেঘ দেখে চাতকিনীর সাধ কি মেটে গো।
হের, নব নাগরি নব নাগর মাতিল প্রেম-রসে,
নব প্রভাত-কমলে যেন বন ভ্রমর বসে।
নব সোনার শতদলে যেন নব মেঘের ছায়া
কনকমালা ঘিরিল যেন বন নীল গিরি কায়া।
গিরিধারীরে ধরিল, ধিরিধিরি রাধা গিরিধারীরে ধরিল।।
আধ অধরে ধরে নাক’ হাসি, আধ-অধরে বাঁশি,
হেরি’ আধ অঙ্গ দাস হতে চায়, আধ অঙ্গ দাসী;
শ্রীচরণ ঘিরিয়া মন মধুকর গাহে, চরণাম্বুজ-রজ মাধুকরী চাহে।।
বলে, ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও –
ওই চরণ কমল-মধু ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও,
ঐ যুগল-রূপ রাধা-শ্যাম দেখি যেন অবিরাম (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
আমি আনন্দ-যমুনা হয়ে, চরণ ধুয়ে যাব বয়ে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
আমি নিত্য হৃদি-ব্রজধামে
হেরিব মোর রাধা-শ্যামে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)।।

বেতার গীতিচিত্রঃ ‌‘যুগল মিলন’

দূরের বন্ধু আছে আমার

বাণী

দূরের বন্ধু আছে আমার ঐ গাঙের পারের গাঁয়ে।
ঝরা পাতার পত্র আমার যায় ভেসে তার পায়ে।।
জানি জানি আমার দেশে আমার নেয়ে আসবে ভেসে,
চির-ঋণী আছে সে যে আমার প্রেমের দায়ে।।
নতুন আশার পাল তুলে সে আসবে ফিরে ঘরে,
ফুটেছে তাই কাশ-কুসুমের হাসি শুকনো চরে।
পিদিম জ্বেলে তা'রি আশায় গহীন গাঙের সোঁতে ভাসাই
ঐ পিদিমের পথ ধরে সে আসবে সোনার নায়ে।।

তুমি যেয়ো না তুমি যেয়ো না

বাণী

তুমি যেয়ো না তুমি যেয়ো না।
মিলনের সাধ না মিটিতে চাঁদ বিদায় চেয়ো না।।
	শোনো গো আমার বক্ষের মাঝে
	সাত সাগরের ক্রন্দন বাজে,
জোয়ারের তরী এখনই বন্ধু ভাটার স্রোতে বেয়ো না।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (স্বপনপরীর গান)