বাণী

মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
	যাই না আমি শ্মশান মশান
	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
	শিশু যেমন অনায়াসে
	জননীরে ভালোবাসে,
তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥

বাণী

ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।
গেলেন মদিনা যবে হিজরতে হজরত
মদিনা হলো যেন খুশিতে জিন্নত,
ছুটিয়া আসিল পথে মর্দ ও আওরত
লুটায়ে পায়ে নবীর, গাহে সব উম্মত
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
হাজার সে কাফের সেনা বদরে,
তিন শত তের মমিন এধারে;
হজরতে দেখিল যেই, কাঁপিয়া ডরে
কহিল কাফের সব তাজিমের স্বরে
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
কাঁদিয়া কেয়ামতে গুনাহগার সব,
নবীর কাছে শাফায়তী করিবেন তলব,
আসিবেন কাঁদন শুনি সেই শাহে আরব
অমনি উঠিবে সেথা খুশির কলরব
ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।

বাণী

আমার কালো মেয়ে পালিয়ে বেড়ায় কে দেবে তায় ধ'রে
তারে	যেই ধরেছি মনে করি অমনি সে যায় স'রে।।
		বনে ফাকেঁ দেখা দিয়ে
		চঞ্চলা মোর যায় পালিয়ে,
দেখি	ফুল হয়ে মা'র নূপুরগুলি পথে আছে ঝ'রে।।
তার	কণ্ঠহারের মুক্তাগুলি আকাশ-আঙিনাতে
	তারা হয়ে ছড়িয়ে আছে দেখি আধেক রাতে।
		কোন মায়াতে মহামায়ায়
		রাখবো বেঁধে আমার হিয়ায়
	কাঁদলে যদি হয় দয়া তার তাই কাদিঁ প্রাণ ভ'রে।।

বাণী

আজি মধুর গগন মধুর পবন মধুর ধরতীধাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
বাজত বনমে মধুর মুরলী বোলাতা রাধা নাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
আজ থির যমুনা আধীর ভায়ি
আয়ে গোকুলকে চাঁদ অন্ধেরি গ্যয়ি,
বোলে কোয়েলিয়া ময়ূর পাপিহা পিয়া পিয়া অবিরাম।।
ব্রিজকে কোঁয়ারি বনকে যোগিনী রোতি থী বিরহ মে,
আজ লেকে গাগরি ওড়ে নীল শাড়ি চলে ফের নীর ভরণে।
	আজ হরিকে সাথ হরিভি আয়ে
	রাঙা আবিরমে গোকুল ছায়ে,
বনশী বাজাওয়ে রসিয়া গারে বিভোর ব্রিজধাম।।

বাণী

রূপের কুমার জাগো, নিশি হয় অবসান।
গাহিছে আলোক কুমারীরা, শোন ঘুম-ভাঙানিয়া গান।।
	তুমি জাগিছ না বলি’
	ফোটে না আলোর কলি,
তব ঘুমন্ত আঁখির পাতায় ঘুমায় আলোর প্রাণ।।

নাটিকাঃ ‌‘লায়লী-মজনু’