বাণী

ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়ে কেতকী পাতার তরণী কে আসে গো।
বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে বাহি-ছায়া-পথ-সরণী কে আসে গো।।
		দলি শাপলা শালুক শতদল
		আসে রাঙায়ে কাহার পদতল,
নীল লাবনি ঝরায়ে ঢলঢল — ভরাইয়া সারা ধরণী কে আসে গো।।
		মৃদু মধুর মধুর হাসিয়া
		সমীরণ সম ভাসিয়া,
আসে কারে ভালোবাসিয়া — বলো কার মনোহরণী কে আসে গো।

বাণী

অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে।
নিদ্রা নাহি তোমায় চাহি’ আমার নয়ন-পাতে॥
		ভেজা মাটির গন্ধ সনে
		তোমার স্মৃতি আনে মনে,
বাদ্‌লী হাওয়া লুটিয়ে কাঁদে আঁধার আঙিনাতে॥
হঠাৎ বনে আস্‌ল ফুলের বন্যা পল্লবেরই কূলে,
নাগকেশরের সাথে কদম কেয়া ফুট্‌ল দুলে দুলে।
নবীন আমন ধানের ক্ষেতে হতাশ বায়ু ওঠে মেতে,
মন উড়ে যায় তোমার দেশে পূব-হাওয়ারই সাথে॥

বাণী

পায়েলা বোলে রিনিঝিনি।
নাচে রূপ-মঞ্জরি শ্রীরাধার সঙ্গিনী।।
	ভাব-বিলাসে
	চাঁদের পাশে,
ছড়ায়ে তারার ফুল নাচে যেন নিশীথিনী।।
নাচে উড়ায়ে নীলাম্বরী অঞ্চল,
মৃদু মৃদু হাসে আনন্দ রাসে শ্যামল চঞ্চল।
কভু মৃদুমন্দ
কভু ঝরে দ্রুত তালে সুমধুর ছন্দ,
বিরহের বেদনা মিলন-আনন্দ —
ফোটায় তনুর ভঙ্গিমাতে ছন্দ-বিলাসিনী।।

বাণী

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে।
নিঝুম নিশীথে ব্যথিত বুকের মাঝে॥
	মনে প’ড়ে যায় সহসা কখন
	জল ভরা দু’টি ডাগর নয়ন,
পিঠ-ভরা চুল সেই চাঁপা ফুল ফেলে ছু’টে যাওয়া লাজে॥
হারানো সে-দিন পাব না গো আর ফিরে,
দেখিতে পাব না আর সেই কিশোরীরে।
	তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন
	আমি ভুলিয়াছি ভোলেনি সে যেন,
গোমতীর তীরে পাতার কুটীরে (সে) আজও পথ চাহে সাঁঝে।

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।

বাণী

ফুরিয়ে এলো রমজানেরি মোবারক মাস
আজ বাদে কাল ঈদ তবু মন করে উদাস।।
রোজা রেখেছিলি, হে পরহেজগার মোমিন!
ভুলেছিলি দুনিয়াদারি রোজার তিরিশ দিন;
তরক করেছিলি তোরা কে কে ভোগ-বিলাস।।
সারা বছর গুনাহ যত ছিল রে জমা,
রোজা রেখে খোদার কাছে পেলি সে ক্ষমা,
ফেরেশতা সব সালাম করে কহিছে সাবাস।।

নাটিকাঃ ‘ঈদল ফেতর’