বাণী

আমি	সন্ধ্যামালতী বনছায়া অঞ্চলে
	লুকাইয়া রই ঘন পল্লব তলে ॥
	বিহগের গীতি ভ্রমরের গুঞ্জন, নীরব হয় যখন –
আমি	চাঁদেরে তখন পূজা করি আঁখি-জলে ॥
আমি	লুকাইয়া কাঁদি বনের শকুন্তলা
	মনের কথা এ জনমে হ’ল না বলা।
গভীর নিশীথে বন-ঝিল্লির সুরে, ডাকি দূর বন্ধুরে –
আমি	ঝ’ড়ে পড়ি যবে প্রভাতে সবার হৃদয় মুকুল খোলে ॥

বাণী

ওরে ডেকে দে, দে লো মহুয়া বনে ফুল ফোটাতো বাজিয়ে বাঁশি কে।
বনের হরিণ নাচাতো, পাখিকে গান গাওয়াতো
			ঢেউ ওঠাতো ঝর্ণা জলে পাহাড়তলিতে।।
তার গানের কথা জানিয়ে দিত ফুলের মধুকে
তার সুরের নেশা করতো ব্যাকুল মনের বঁধুকে,
বুকের মাঝে বাজতো নূপুর চপল হাসিতে।।
আঁধার রাতে ফোটাত সে হলুদ গাঁদার ফুল,
সে বন কাঁদাতো মন কাঁদাতো, কাজ করাতো ভুল।
আর সে বাঁশি শুনি না, ধোঁয়ার ছলে কাঁদি না,
রাঙা শাড়ি পরি না, নোটন খোঁপা বাঁধি না —
আমি রইতে নারি না হেরে সেই বন উদাসী কে গো।।

বাণী

	কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়
	শ্যামের নামে হউক এবার আমার পরিচয়।।
		কলঙ্কিনীর তিলক এঁকে
		কলঙ্ক-চন্দন মেখে'
আমি	শোনাব গো ডেকে ডেকে কলঙ্কেরি জয়, কৃষ্ণ-কলঙ্কেরি জয়।।
	ভুবনে মোর ঠাঁই পেয়েছি ভবন হতে নেমে'
হয়ে	বৈরাগিনী আমার কৃষ্ণ-প্রিয়তমের প্রেমে।
	যারে কৃষ্ণ টানে বিপুল টানে
	সে কি কুলের বাধা মানে
এই	বিশ্ববৃজে ভাগ্যবতী সেই শ্রীমতী হয়।।

বাণী

মহুয়া বনে লো মধু খেতে, সই,
বাহিরে চাঁদ এলো, ঘরে মোর চাঁদ কই।।
আমার নাচের সাথী কোথা পাইনে দেখা
সরে না পা ওলো নাচতে একা
সে বিনে সখী লো আমি আমার নই।।
মিছে মাদলে তাল হানে মাদলিয়া,
সে কি গেল বিদেশ, মোরে না বলিয়া।
দূরে বাঁশি বাজে পলাশ পিয়াল বনে,
বুঝি ঐ বঁধু মোর, যেন লাগে মনে
সে মোরে ভুলে নাচে কাহার সনে?
সে যে জানতো না সজনী কভু আমি বৈ।।

বাণী

		ওরে আমার চটি
		আমার ঠনঠনিয়ার চটি
		যাত্রা শুনতে কাহার সাথে গেলি তুই পালটি।।
মোর		শ্রীচরণ ভরসা গেলি কাহার পায়ে গ'লে
তুই		দু'বছর পায়ে ছিলি তোরে জানতাম সতী ব'লে
তুই		কাহার গোদা চরণ দেখে গেলি শেষে পটি'।
তোরে		নিয়ে গেছেন যিনি তার চটিখানি ফেলে
		এ চটি তো নয় রামচটিতং আছেন বদন মেলে'
				সদা আছেন বদন মেলে',
যেন		অষ্টাবক্র বেঁকে হয়ে গিয়েছেন ঠিক আঁশবঁটি
				বেঁকে হয়েছেন আঁশবঁটি।।
		চটি কেন তোরে রাখিনিকো বগল-দাবা ক'রে
বুঝি		এতক্ষণ সে ফাটিয়ে তোরে ফেলেছে পা' ভ'রে
		শেষে আস্তাকুড়েঁ দেছে ফেলে সে যে হয়তো চটিমটি'।।
আমি		ভাবি, এ তার পায়ের জুতো না তার গায়ের  নিমা
		আমারচটির পাশে ইনি ঠিক যেন দিদি মা
ওরে		চটি রে তোর দিদি হলেও চলতো মোটামুটি
তুই		চটপটিয়ে আয় চ'লে নয় সত্যি যা'ব চটি'।।

বাণী

মদির আবেশে কে চলে ঢুলুঢুলু আঁখি।
			মদির কার আঁখি
হেরিয়া পাপিয়া উঠিছে পিউ পিউ ডাকি’।।
আল্‌তা-রাঙা পায়ে আল্পনা আঁকে,
পথের যত ধূলি তাই বুক পেতে থাকে,
দু’ধারে তরুলতা দেয় চরণ ফুলে ফুলে ঢাকি’।।
তা’রি চোখের চাওয়ায় গো দেলা লাগে হাওয়ায়,
তালীবন তাল দিয়ে যায় তাল-ফের্‌তায় দোলা লাগে হাওয়ায়।
আকুল তানে গাহে বকুল-বনের পাখি।।
তারি মুখ-মদের ছিটে যোগায় ফুলে মধু মিঠে
চাঁদের জৌলুসে তাহারি রওশন্‌ মাখি’।।