বাণী

মহুয়া বনে লো মধু খেতে, সই,
বাহিরে চাঁদ এলো, ঘরে মোর চাঁদ কই।।
আমার নাচের সাথী কোথা পাইনে দেখা
সরে না পা ওলো নাচতে একা
সে বিনে সখী লো আমি আমার নই।।
মিছে মাদলে তাল হানে মাদলিয়া,
সে কি গেল বিদেশ, মোরে না বলিয়া।
দূরে বাঁশি বাজে পলাশ পিয়াল বনে,
বুঝি ঐ বঁধু মোর, যেন লাগে মনে
সে মোরে ভুলে নাচে কাহার সনে?
সে যে জানতো না সজনী কভু আমি বৈ।।

বাণী

পুরুষ		:	মন নিয়ে আমি লুকোচুরি খেলা খেলি প্রিয়ে।
স্ত্রী		:	ধরিতে পারি না পেতে তাই প্রেম ফাঁদ —
			তুমি মেঘ আমি চাঁদ, ফের গো কাঁদিয়ে।।
পুরুষ		:	মন্দ বায় আমি গন্ধ লুটি শুধু —
			চাই না আমি সে মধু;
স্ত্রী		:	চাইনে চাইনে বঁধু —
			তাহে নাই সুখ নাই, আমি পরশ যে চাই।
পুরুষ		:	স্বপন-কুমার ফিরি যে আমি মন ভুলিয়ে।।
উভয়ে	:	চল তবে যাই মোরা স্বপনের দেশে
			জোছনায় ভেসে —
			নন্দন-পারিজাত ফুল ফুটিয়ে।।

বাণী

তুমি আঘাত দিয়ে মন ফেরাবে এই কি তোমার আশা?
আমার যে নাথ অনন্ত সাধ, অনন্ত পিপাসা॥
	দাহন তুমি করবে যত
	প্রেমের শিখা জ্বলবে তত
সে যে আমার মন্ত্র পূজার তোমার কঠিন ভাষা॥
ফুলমালী! ফুলের শাখা কাটো যত পার,
আহত সেই ফুল-শাখাতে ধরবে কুসুম আরো।
	হানলে আঘাত নিথর জলে,
	অধীর বেগে ঢেউ উথলে,
তোমার অবহেলায় বিপুল হ’ল ভীরু ভালোবাসা।
		আমার ভীরু ভালোবাসা॥

বাণী

খোল খোল খোল গো দুয়ার।
নীল ছাপিয়া এল চাঁদের জোয়ার।।
সঙ্কেত-বাঁশরি বনে বনে বাজে
	মনে মনে বাজে।
সজিয়াছে ধরণী অভিসার-সাজে।
নাগর-দোলায় দুলে সাগর পাথার।।
জেগে ওঠে কাননে ডেকে ওঠে পাখি
	চোখ গেল, চোখ গেল, চোখ গেল!
অসহ রূপের দাহে ঝলসি’ গেল আঁখি,
	চোখ গেল, চোখ গেল, চোখ গেল!
ঘুমন্ত যৌবন, তনু মন, জাগো!
সুন্দরী, সুন্দর-পরশন মাগো।
চল বিরহিণী অভিসারে বঁধুয়ার।।

বাণী

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে।।
	উঠানে শূন্য কলসির কাছে
	সারাদিন ধরে ঝ’রে প’ড়ে আছে
তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে।।
বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
	যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
	ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
পিয়া পিয়া ব’লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে।।

বাণী

রাখাল রাজ! কি সাজে সাজালে আমায় আজ!
আমার ঘরের ভূষণ কেড়ে নিয়ে দিলে চির-পথিক সাজ।।
তোমার পায়ের নূপুর আমায় দিয়ে ঘোরাও পথে-ঘাটে নিয়ে,
বেড়াই বাউল একতারা বাজিয়ে হে, (ও মরি হায় রে)
এই ভুবন-নাটে বেড়াই ভুলে শরম-ভরম-লাজ।।
তোমার নৃত্য-খেলার নিত্য-সাথি আনন্দেরি গোঠে হে,
জীবন-মরণ আমার সহজ চরণ-তলে লোটে হে।
আমার হাতে দিলে সর্বনাশী ঘর-ভোলানো তোমার বাঁশি,
কাজ ভুলাতে যখন তখন আসি হে’ (ও মরি হায় রে)
আমার ভবন কেড়ে — দিলে ছেড়ে বিশ্বভুবন-মাঝ।।