বরিষণ শেষে ডাকিয়া যূথীরে

বাণী

বরিষণ-শেষে ডাকিয়া যূথীরে কহিল মালতী-কলি — 
‘আমি দুলিব পিয়াল-কোলে পিয়া, পিয়া বলি’।।
	চাহিয়া বারেক রবিকরে
	তুমি বুঝিবে ধূলির ’পরে,
সৌরভ তব থরে থরে, তবু আসিবে না তব অলি।।
	সিক্ত বাতাসে চাঁদের আবেশে
	শ্বেত পুষ্পের স্নিগ্ধ সুবাসে,
প্রেম ও প্রীতির সুরভি-আকাশে — যূথী-দল প’ড়ে ঢলি’।।
বিদায়-বেলায় যূথিকা কহিল — বিলাতে আমি
			আসিনু ধরায় নামি’,
প্রেমের মিলন-বাসরে, আমারে যেয়ো গো দলি’।।

হে গোবিন্দ রাখ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ রাখ চরণে।
মোরা তব চরণে শরণাগত আশ্রয় দাও আশ্রিত জনে হে॥
	গঙ্গা ঝরে যে শ্রীচরণ বেয়ে
	কেন দুখ পাই সে চরণ চেয়ে
এ ত্রিতাপ জ্বালা হর হে শ্রীহরি, চাহ করুণা সিক্ত নয়নে॥
হরি ভিক্ষা চাহিলে মানুষ নাহি ফিরায়
তোমারি দুয়ারে হাত পাতিল যে, ফিরাবে কি তুমি তায়।
	হরি সব তরী ডুবে যায়
	তোমার চরণ তরী ত’ ডোবে না হায়,
তব চরণ ধরিয়া ডুবে মরি যদি রবে কলঙ্ক নিখিল ভুবনে॥

মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে

বাণী

মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে।
শরম বারণ যেন করিল চরণ ধ’রে।।
ছল ক’রে কত শত সে মম রুধিত পথ
লাজ ভয়ে পলায়েছি সে ফিরেছে ব্যথাহত
অনাদরে প্রেম-কুসুম গিয়াছে ম’রে।।
কত যুগ মোর আশে ব’সে ছিল পথ-পাশে
কত কথা কত গান জানায়েছে ভালোবেসে
শেষে অভিমানে নিরাশে গিয়াছে স’রে।।

ভুবনজয়ী তোরা কি হায় সেই মুসলমান

বাণী

ভুবনজয়ী তোরা কি হায়, সেই মুসলমান।
খোদার রাহে আনলো যারা দুনিয়া না-ফরমান।
এশিয়া য়ুরোপ আফ্রিকাতে যাহাদের তক্‌বীর
হুঙ্কারিল, উড়ল যাদের বিজয়-নিশান।।
যাদের নাঙ্গা তলোয়ারের শক্তিতে সেদিন
পারস্য আর রোম রাজত্ব হইল খান-খান।।
শুকনো রুটি খোরমা খেয়ে যাদের খলিফা,
হেলায় শাসন করিল রে অর্ধেক জাহান।।
যাদের নবী কম্‌লিওয়ালা শাহানশাহ্ হয়ে,
আজকে তা’রা বিলাস-ভোগের খুলেছে দোকান।।
সিংহ-শাবক ভুলে আছিস্ শৃগালের দলে,
দুনিয়া আবার পায়ে কি তোর হবে কম্পমান।।

বেসুর বীণায় ব্যথার সুরে

বাণী

বেসুর বীণায়	ব্যথার সুরে বাঁধ্‌ব গো
পাষাণ-বুকে	নিঝর হয়ে কাঁদব গো।।
কুলের কাঁটায়	স্বর্ণলতার দুল্‌ব হার,
ফণীর ডেরায়	কেয়ার কানন ফাঁদ্‌ব গো।।
ব্যাধের হাতে	শুনব সাধের বঙশী-সুর,
আস্‌লে মরণ	চরণ ধ’রে সাধব গো।।

ভিখারিনী করে পাঠাইলি মোরে

বাণী

	ভিখারিনী করে পাঠাইলি মোরে, (মাগো) কি দিয়ে পূজিব বল।
	হাতে আছে শুধু শূন্য প্রণাম, চোখে আছে শুধু জল।।
	পূজা ধূপ নাই, চন্দন নাই, মাগো, লাজে মরি দিতে ভয় পাই
	চুরি করে আনা দুটি জবা ফুল, একটি বিল্বদল।।
তোর	ধনী ছেলে মেয়ে ঘটা করে তোর পূজা করে কত রূপে,
মাগো	ভিখারি মেয়ের বেশে তুই কেন দাঁড়াইলি এসে, মোর কাছে চুপে চুপে
	কিছু নাই মাগো হাতে দিতে তোর, শুধু নামখানি সম্বল মোর,
যদি	চাস তুই ঐ রাঙা পায়ে দিব নামের সে শতদল।।