কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল

বাণী

		কে নিবি ফুল, কে নিবি ফুল —
		টগর যূথী, বেলা মালতী
		চাঁপা, গোলাপ, বকুল, নার্গিস ইরানি-গুল।।
		আমার যৌবন-বাগানে
		হাওয়া লেগেছে ফুল-জাগানে,
		চ'লে যেতে ঢ'লে পড়ি, খুলে পড়ে এলো চুল;
		তনু-মন আকুল আঁখি ঢুলুঢুল্‌।।
(ওগো) 	ফুটেছে এত ফুল, ফুলমালী কই?
		গাঁথিবে মালা কবে? সেই আশে রই;
		এ মালা দেব কা'রে ভেবে সারা হই,
		সহিতে পারি না এ ফুল-ঝামেলা, চামেলি-পারুল।।

মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান

বাণী

মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।।
	এক সে আকাশ মায়ের কোলে
	যেন রবি শশী দোলে,
এক রক্ত বুকের তলে, এক সে নাড়ির টান।।
এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল,
এক সে মায়ের বক্ষে ফলাই একই ফুল ও ফল।
	এক সে দেশের মাটিতে পাই
	কেউ গোরে কেউ শ্মাশানে ঠাঁই
এক ভাষাতে মা’কে ডাকি, এক সুরে গাই গান।। 

নাটিকাঃ‘পুতুলের বিয়ে’

উম্মত আমি গুনাহগার

বাণী

উম্মত আমি গুনাহগার তবু ভয় নাহি রে আমার।
আহমদ আমার নবী যিনি খোদ্ হবিব খোদার।।
যাঁহার উম্মত্ হ’তে চাহে সকল নবী,
তাঁহারি দামন ধরি’ পুলসরাত হব পার।।
	কাঁদিবে রোজ হাশরে সবে
	যবে ‘নফ্‌সি য়্যা নফ্‌সি’ রবে,
‘য়্যা উম্মতী’ ব’লে একা কাঁদিবেন আমার মোখতার।।
কাঁদিবেন সাথে মা ফাতেমা ধরিয়া আরশ্ আল্লার।
হোসায়নের খুনের বদলায় মাফী চাই পাপী সবাকার।
দোজখ্ হয়েছে হারাম যে-দিন পড়েছি কলেমা।
যেদিন হয়েছি আমি কোরানের নিশান-বর্দার।।

মা মেয়েতে খেল্‌ব পুতুল আয় মা

বাণী

মা মেয়েতে খেল্‌ব পুতুল আয় মা আমার খেলাঘরে।
আমি মা হয়ে মা শিখিয়ে দেব পুতুল খেলে কেমন করে।।
কাঙাল অবোধ করবি যারে বুকের কাছে রাখিস্ তারে (মা)
[নইলে কে তার দুখ ভোলাবে
যারে রত্ন মানিক দিবি না মা, উচিত সে তার মাকে পাবে]
আবার কেউ বা ভীষণ দামাল হবে কেউ থাকবে গৃহ কোণে প’ড়ে।।
মৃত্যু সেথায় থাকবে না মা থাকবে লুকোচুরি খেলা
রাত্রি বেলায় কাঁদিয়ে যাবে আসবে ফিরে সকাল বেলা।
কাঁদিয়ে খোকায়, ভয় দেখিয়ে, ভয় ভোলাবি আদর দিয়ে (মা)
[বেশি তারে কাঁদাস না মা, মা ছেড়ে সে পালিয়ে যাবে]
সে খেলে যখন শ্রান্ত হবে ঘুম পাড়াবি বক্ষে ধ’রে।।

সে চ'লে গেছে ব'লে কি গো

বাণী

সে চ'লে গেছে ব'লে কি গো স্মৃতিও হায় যায় ভোলা
ওগো মনে হ'লে তারি কথা আজো মর্মে সে মোর দেয় দোলা।।
	ঐ প্রতিটি ধূলি কণায়
	আছে তার ছোঁওয়া লেগে হেথায়,
আজো তাহারি আসার আশায়, রাখি মোর ঘরেরই সব দ্বার খোলা।।
	হেথা সে এসেছিল যবে
	ঘর ভরেছিল ফুল-উৎসবে,
মোর কাজ ছিল শুধু ভবে তার হার গাঁথা আর ফুল তোলা।।
	সে নাই ব'লে বেশি ক'রে
	শুধু তার কথাই মনে পড়ে,
হেরি তার ছবি ভুবন ভ'‌রে তারে ভুলিতে মিছে বলা।।

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া

বাণী

কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া ফিরে ফুল-বনের গলি।
‘ফিরে যাও চপল পথিক’, দু’লে কয় কুসুম-কলি।
		দু’লে কয় কুসুম-কলি॥
ফেলিছে সমীর দীরঘ শ্বাস —  
আসিবে না আর এ মধুমাস,
কহে ফুল, ‘জনম জনম এমনি গিয়াছ ছলি’।
		জনম জনম গিয়াছ ছলি’॥
কাঁদে বায়, ‘নিদাঘ আসে
আমি যাই সুদূর বাসে’,
ফুটে ফুল হাসিয়া ভাসে, ‘প্রিয়তম যেয়োনা চলি’।
		ওগো প্রিয়তম যেয়োনা চলি’॥