বাণী

		কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর, কেহ বলে তুমি জ্যোতি!
		আমি জানি প্রভু তুমি যে আমার চির-জনমের পতি।।
			কেহ বলে তুমি চিরদিন দূরে রহ
			কেহ বলে, আছে অন্তরে অহরহ,
যার		যাহা সাধ ডাকে সেই নামে (প্রভু) তোমার নাহিক ক্ষতি।।
		অন্ধ দেখে না চন্দ্র-সূর্য তবু জানে আলো আছে,
(আমি) 	দেখিনি, তবুও তোমার প্রকাশ সহজ-আমার কাছে
			রূপ কি অরূপ কাহারেও নাহি দুষি,
			নাই দেখি ফুল সুরভি পেয়েই খুশি,
(আমি)		অঞ্জলি ভরি’ অমৃত চাই, পাত্রে নাহিক মতি।।

বাণী

পুরুষ	:	তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া।
স্ত্রী	:	এসেছি তাই ফিরে পুন পথিকের প্রীতি নিয়া॥
পুরুষ	:	তোমার নয়নে তাই চাহি ফিরে ফিরে,
স্ত্রী	:	হের তব ছবি প্রিয় মোর আঁখি নীরে।
উভয়ে	:	কত জনম শেষে এসেছি ধরণী তীরে
		কার অভিশাপে ছিনু হায় চির পাশরিয়া॥
স্ত্রী	:	আরো প্রিয় আরো হাতে এ নব বাসর রাতে,
পুরুষ	:	যেয়ো না স্বপন সম মিশায়ে নিশীথ প্রাতে।
স্ত্রী	:	তারার দীপালি জ্বলে হের গো গগন তলে
পুরুষ	:	হের শুক্লা একাদশী চাঁদের তরণী দোলে,
উভয়ে	:	মোদের মিলন হেরি নিখিল ওঠে দুলিয়া॥

বাণী

ব্যথিত প্রাণে দানো শান্তি, চিরন্তন, ধ্রুব-জ্যোতি।
দুখ-তাপ-পীড়িত-শোকার্ত এই চিত যাচে তব সান্ত্বনা ত্রিভুবন-পতি।।
বেদনা যাতনা ক্লেশ মুক্ত কর, বিপদ নিবার, সব বিঘ্ন হর,
আঁধার পথে তুমি হাত ধরো, প্রভু অগতির গতি।।
সকল গ্লানি হতে হে নাথ বাঁচাও, চিত্তে অটল প্রসন্নতা দাও
যেন সুখে ও দুখে সদানন্দে থাকি, অবিচল থাকে যেন তব পদে মতি।।

বাণী

কোন্ অজানা জনে দিব প্রাণ মোর।
নেবে আমার মালা সে-কোন কিশোর।।
কাহার লাগি’ একেলা জাগি
কোথা সে আমার প্রেম-অনুরাগী,
কোন্ কাননে রয় সে বনমালী চোর।।
পরি’ বধূর সাজ ভুলিয়া কুল লাজ
বৃথা আছি ব’সে কোথা হৃদয়-রাজ,
মম যৌবন-নিশি জেগে হল ভোর।।

বাণী

মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।।
	এক সে আকাশ মায়ের কোলে
	যেন রবি শশী দোলে,
এক রক্ত বুকের তলে, এক সে নাড়ির টান।।
এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল,
এক সে মায়ের বক্ষে ফলাই একই ফুল ও ফল।
	এক সে দেশের মাটিতে পাই
	কেউ গোরে কেউ শ্মাশানে ঠাঁই
এক ভাষাতে মা’কে ডাকি, এক সুরে গাই গান।। 

নাটিকাঃ‘পুতুলের বিয়ে’

বাণী

যেদিন		রোজ হাশরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
		সেদিন তোমার দিদার আমি পাব কি আল্লাজী।।
		সেদিন নাকি তোমার ভীষণ কাহ্‌হার রূপ দেখে
		পীর পয়গম্বর কাঁদবে ভয়ে ‘ইয়া নফসী’ ডেকে;
		সেই সুদিনের আশায় আমি নাচি এখন থেকে।
আমি		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজী।
আল্লাহ 		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজি।।
		যেরূপে হোক বারেক যদি দেখে তোমায় কেহ
		দোজখ্‌ কি আর ছুঁতে পারে পবিত্র তাঁর দেহ।
সে 		হোক না কেন হাজার পাপী হোক না বে-নামাজী।।
		ইয়া আল্লাহ, তোমার দয়া কত তাই দেখাবে ব’লে
		রোজ-হাশরে দেখা দেবে বিচার করার ছলে, —
		প্রেমিক বিনে কে বুঝিবে তোমার এ কারসাজি।।