বাণী

এই		শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
এই 		শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।।
তোদের	বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়,
ওরে 		ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন–ভয়।
এই		বাঁধন প’রেই বাঁধন–ভয়কে কর্‌ব মোরা জয়,
এই		শিকল– বাঁধা পা নয় এ শিকল ভাঙা কল।।
তোমার	বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে কর্‌ছ বিশ্ব গ্রাস,
আর 		ভয় দেখিয়েই ক’র্‌বে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস
সেই 		ভয় দেখানো ভূতের মোরা ক’র্‌বো সর্বনাশ,
এবার		আন্‌বো মাভৈঃ বিজয়–মন্ত্র বল–হীনের বল।।
তোমরা	ভয় দেখিয়ে কর্‌ছ শাসন জয় দেখিয়ে নয়;
সেই		ভয়ের টুঁটি ধর্‌ব টিপে কর্‌ব তারে লয়।
মোরা 	আপনি ম’রে মরার দেশে আন্‌ব বরাভয়,
প’রে		ফাঁসি আন্‌ব হাসি মৃত্যু–জয়ের ফল।।
ওরে 		ক্রন্দন নয় বন্ধন এই শিকল–ঝঞ্ঝনা,
এ যে		মুক্তি–পথের অগ্রদূতের চরণ–বন্দনা!
এই		লাঞ্ছিতেরাই অত্যাচারকে হান্‌ছে লাঞ্ছনা,
মোদের	অশ্রু দিয়েই জ্ব’লবে দেশে আবার বজ্রানল।।

বাণী

এলো এলো শবেরাত তোরা জ্বাল্ রে বাতি।
হোক রওশন মুসলিম-জাহানের অন্ধকার রাতি।।
আজ ফিরদৌসের হুর-পরীরা আলোতে রাঙে
চাঁদ সেতারার প্রদীপ ভাসায় আস্‌মানি গাঙে,
ফেরেশ্‌তা সব হয়েছে আজ মোদের সাথি।।
আজ জ্বাল্‌রে বাতি প্রিয়জনের আঁধার গোরে
আজ বরষ পরে লুকিয়ে তারা এসেছে ঘরে,
রাখ্‌ তাদের তরে অশ্রু-ভেজা হৃদয় পাতি।।

বাণী

আজিকে তোমারে স্মরণ করি’
মৃত্যু আড়ালে জীবন তোমার
	ওঠে অপরূপ মহিমায় ভরি’।।
জীবন তোমার তটিনীর মত
বয়ে গেছে বাধা উপল-আহত
আত্মারে রাখি চির জাগ্রত
	অম্বরে শির রেখেছিলে ধরি’।।
তোমার এ স্মৃতি বাসরে আমরা
	তোমারে শ্রদ্ধা তর্পণ দানি,
তোমার ধর্ম তোমার কর্ম
	দিক অভিনব মহিমা আনি।
এসো আমাদের করুণ স্মৃতিতে
নয়নের জলে বিষাদিত চিতে
জীবনের পরপার হতে
	পড়ুক আশিস সান্ত্বনা বারি।।

বাণী

	পদ্মদীঘির ধারে ধারে ঐ সখি লো কমল-দীঘির পারে।
	আমি জল নিতে যাই সকাল সাঁঝে সই,
সখি, 	ছল ক'রে সে মাছ ধরে, আর, চায় সে বারে বারে।।
	মাছ ধরে সে, বঁড়শী আমার বুকে এসে বেঁধে,
			ওলো সই বুকে এসে বেঁধে,
আর,	চোখের জল কলসি আমার সই, আমি ভরাই কেঁদে কেঁদে
				সই যত দেখি তা'রে।।
	ছিপ নিয়ে যায় মাছ জলে তার (ওলো সই) তাকায় না তা’র পানে
	মন ধরে না মীন ধরে সে সখি লো সেই জানে।
	মন-ভিখারি মীন-শিকারি মুখের পানে চায়,
			সখি লো চোখের পানে চায়,
আমি	বঁড়শী-বেঁধা মাছের মত (গো)
			সখি ছুটিয়া মরি হায়, অকূল পাথারে।।

বাণী

অশিব শক্তি হতে হে শঙ্কর
অষ্টসিদ্ধিরে কর ত্রাণ, ত্রাণ কর শঙ্কর।।

নাটক : ‘অন্নপূর্ণা’

বাণী

নিত্য শুদ্ধ কল্যাণ রূপে আছ তুমি মোর সাথে।
সান্দ্র নিবিড় সন্ধ্যায় যেই পথ ভুলি’, ধর হাতে।।
	প্রদোষে স্বরগ-পাশে
	তোমার করুণা ভাসে,
স্নিগ্ধ শান্ত চাঁদ হ’য়ে, প্রভু, আঁধারে পথ দেখাতে।।
মান তাজিয়া যে যায় প্রভু তোমার চরণ-তলে,
পূর্ণ-রূপে নেমে আস তার হৃদয়-পদ্ম-দলে।
	অবতার হও ভুপালিতে প্রভু
	প্রেম-যমুনার পারে রহ কভু,
দগ্ধ-পরানে বিরাজ হে স্বামী, দুঃখ-জ্বালা জুড়াতে।।