বনদেবী জাগো সহকার-করে

বাণী

বনদেবী জাগো সহকার-করে বাঁধো বল্লরি-কঙ্কণ।
আকাশে জাগাও তব নব কিশলয়-কেতন-কম্পন।।
	অশান্ত দক্ষিণা সমীরণ
	গেয়ে যাক বসন্ত আবাহন,
বনে বনে হোক ফুল-আল্‌পনা-অঙ্কন।।
মধূপ গুঞ্জরে ঝিল্লীর মণি-মঞ্জিরে তোলো ঝংকার,
মুহু মুহু কুহু রবে আনো আনন্দিত ছন্দ ধরণীতে অলকানন্দার।
	ঝরা পল্লব মর্‌মরে
	মৃদু ঝরনার ঝর্‌ঝরে,
মুখরিত হোক তব বন-ভূমি-অঙ্গন।।

ছড়ায়ে বৃষ্টির বেলফুল

বাণী

ছড়ায়ে বৃষ্টির বেলফুল, দুলায়ে মেঘলা চাঁচর চুল
চপল চোখে কাজল মেঘে আসিল কে।।
		বাজায়ে মেঘর মাদল
		ভাঙালে ঘুম ছিটিয়ে জল,
একা-ঘরে বিজলিতে এমন হাসি হাসিল কে।।
	এলে কি দুরন্ত মোর ঝোড়ো হাওয়া,
	চির-নিঠুর প্রিয় মধুর পথ-চাওয়া।
		হৃদয়ে মোর দোলা লাগে
		ঝুলনেরই আবেশ জাগে,
ফেলে-যাওয়া বাসি মালায় — আবার ভালোবাসিল কে।।

আল্লাহ রসুল বোল রে মন আল্লাহ রসুল বোল

বাণী

		আল্লাহ রসুল বোল রে মন আল্লাহ রসুল বোল।
		দিনে দিনে দিন গেল তোর দুনিয়াদারি ভোল।।
রোজ		কেয়ামতের নিয়ামত এই আল্লাহ-রসুল বাণী
তোর		আখেরের ভুখের খোরাক পিয়াসের ঐ পানি
তোর		দিল দরিয়ায় আল্লাহ-রসুল জপের লহর তোল।।
তোর		স্ত্রী-পুত্র ভাই-বেরাদর কেউ হবে না সাথি
   		আঁধার গোরে রইবি প’ড়ে জ্বালবে না কেউ বাতি।
যে		নামে হেসে পার হবি তুই পুল-সেরাতের পোল।।
(ওরে)		হাড়-ভাঙা খাটুনি খেটে ঘুরে ঘুরে পথে
		আনিস যা তুই লাগবে না তা তোর কাজে আকবতে।
যে		যে নাম জ’পে পাবি রে তুই মোস্তফারই কোল।।

আজি মনে মনে লাগে হোরী

বাণী

আজি মনে মনে লাগে হোরি
আজি বনে বনে জাগে হোরি।।
ঝাঁঝর করতাল খরতালে বাজে
বাজে কঙ্কন চুড়ি মৃদুল আওয়াজে
লচকিয়া আসে মুচকিয়া হাসে
প্রেম-উল্লাসে শ্যামল গোরী।।
কদম্ব তমাল রঙে লালে লাল
লাল হলো কৃষ্ঞ ভ্রমর ভ্রমরী
রঙের উজান চলে কালো যমুনা-জলে
আবির রাঙা হলো ময়ূর-ময়ূরী।।
মোর হৃদি-বৃন্দাবন যেন রাঙে
রাধা শ্যাম-যুগল চরণ-রাগে
ও চরণ-ধূলি যেন ফাগ হ’য়ে নিশিদিন
অন্তরে পড়ে মোর ঝরি’।।

ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে

বাণী

(সখি) ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে
দেখা হ'লে রাতে ফুল-বনে।।
কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
এ বনফুল লাগি' না আসে কাঁটা' দলি'
আপনি যাব চলি' বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।

কঠিন ধরায় ফোটাতে ফসল-ফুল

বাণী

কঠিন ধরায় ফোটাতে ফসল-ফুল।
কে জানে মহা-সিন্ধু কেন গো হইয়া ওঠে ব্যাকুল।।
	মেঘ হ’য়ে কেন আকাশ ভরিয়া
	বারিধারা রূপে পড়ে গো ঝরিয়া,
কত লোক ভাবে উৎপাত এলো, কত লোক ভাবে ভুল।।
কার বাঁধা-ঘর ভেঙে গেল হায় বোঝে না’ক তাহা মেঘ,
কুলে কুলে আনে ফুলের বন্যা তাহার প্রেমের বেগ।
	জানে না কাহার করিল সে ক্ষতি
	সে জানে স্নিগ্ধ হ’ল বসুমতী,
যে অকূলের পথে টানে, সে বোঝে না ভাসিল কাহার কুল।।