আহা সুনীল নীরদে ঢাকিল অরুণ

বাণী

মদন	:	আহা! সুনীল নীরদে ঢাকিল অরুণ, নীহারে ঢাকিল শশী।
মধু	:	চন্দন মেখে শুকতারা হাসে মোর বাতায়নে বসি।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (মদনকুমার ও মধুমালার গান)

তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি

বাণী

তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি একলা বালুচরে
নদীর পানে চেয়ে চেয়ে মন যে কেমন করে।।
অনেক দূরে তরী বেয়ে আসে যদি কেউ,
আমার বুকে দুলে ওঠে উজান নদীর ঢেউ;
নয়ন মুছে চেয়ে দেখি সে গিয়েছে স'রে।।
আঁচল-ঢাকা ফুলগুলিও শুকায় বুকের তলে
ঘরে ফিরি গাগরি মোর ভ'রে নয়ন জলে।
বিদেশে তো যায় অনেকে আবার ফিরে আসে,
কপাল দোষে তুমি শুধু রইলে পরবাসে;
অধীর নদী রোদন বাজে বুকের পিঞ্জরে।।

পথহারা পাখি কেঁদে ফিরে একা

বাণী

পথহারা পাখি কেঁদে ফিরে একা
আমার জীবনে শুধু আঁধারের লেখা।।
বাহিরে অন্তরে ঝড় উঠিয়াছে
আশ্রয় যাচি হায় কাহার কাছে
	বুঝি দুখ-নিশি মোর
	হবে না হবে না ভোর
ফুটিবে না আশার আলোক রেখা।।

নাটকঃ ‘সিরাজদ্দৌলা’

তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর

বাণী

তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দুর কর নাথ ভক্তি দাও।
যেখানে হোক তুমি আছ — এই বিশ্বাস শক্তি দাও।।
	যে কোন জনমে আমি
	পাইব পাব তোমায় আমি
অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও।।
শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শন্তি নাথ।
কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত।।
	হয়ত কোটি জনম পরে
	পাব তোমায় আমার করে,
তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও।।

ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস

বাণী

(মা)	ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস আমি তাই হয়েছি লক্ষ্মীছাড়া
	ও তোর কৃপা বিনা শক্তিময়ী শুকিয়ে গেল ভক্তিচারা॥
	ওমা তুই আশ্রয় দিলি না তাই, আমি যা পাই তা পথে হারাই
	তোর রসময় ভুবন আমার শ্মশান হল ওমা তারা।
	আজ আনন্দ যমুনা ফেলে এসেছি তাই যমের দ্বারে
	ওমা জীবনে যা পেলাম না তা মরণ যদি দিতে পারে।
মাগো	ওমা তত বাড়ে বুকের জ্বালা, পাই যত যশ খ্যাতির মালা
	রাজপ্রসাদে শুয়ে মাগো শান্তি কি পায় মাতৃহারা॥

দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী

বাণী

দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী।
শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে শ্মশান মাঝে শিব-দুলালী॥
	আজ শান্ত সিন্ধু তীরে
	অশান্ত ঝড় থেমেছে রে,
মা’র কালো রূপ উপ্‌চে পড়ে ছাপিয়ে ভুবন গগন-ডালি॥
আজ অভয়ার ওষ্ঠে জাগে শুভ্র করুণ শান্ত হাসি,
আনন্দে তাই বসন ফেলি’ মহেন্দ্র ঐ বাজায়-বাঁশি,
	ঘুমিয়ে আছে বিশ্ব ভুবন
	মায়ের কোলে শিশুর মতন,
পায়ের লোভে মনের বনে ফুল ফুটেছে পাঁচমিশালি॥