সন্ধ্যা হলো ঘরকে চলো ও ভাই মাঠের চাষি

বাণী

	সন্ধ্যা হলো ঘরকে চলো, ও ভাই মাঠের চাষি
	ভাটিয়ালি সুরে বাজে রাখাল ছেলের বাঁশি।।
	পিদিম নিয়ে একলা জাগে একলা ঘরের বধূ
	হৃদয়-পাতে লুকিয়ে রেখে সারা দিনের মধু;
	পথ চেয়ে সে বসে আছে কাজ হয়েছে বাসি রে তার
		কাজ হয়েছে বাসি।
(যে)	মন সারাদিন ছিল পড়ে হালের গরুর পানে,
	দিনের শেষে ঘরের জরু সেই মনকে টানে
	সেথা মেটে ঘরের দাওয়ায় লুটায় রে
	মেটে ঘরের দাওয়ায় লুটায় কালো চোখের হাসি রে ভাই
		কালো চোখের হাসি।
	পুবান হাওয়া ঢেউ দিয়ে যায় আউশ ধানের ক্ষেতে,
	এই ফসলের দেখব স্বপন শুয়ে শুয়ে রেতে;
		ও ভাই শুয়ে শুয়ে রেতে
	সকাল বেলা আবার যেন মাঠে ফিরে আসি রে
		এই মাঠে ফিরে আসি।।

মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম

বাণী

মোরা		ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম, মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল।
মোরা		বিধাতার মত নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মত সচ্ছল।।
			আকাশের মত বাঁধাহীন,
মোরা			মরু সঞ্চার বেদুঈন,
(মোরা)		বন্ধনহীন জন্ম–স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল।।
মোরা		সিন্ধু–জোয়ার কল–কল
মোরা		পাগলা–ঝোরার ঝরা জল
			কল–কল–কল্ ছল–ছল–ছল্ কল–কল–কল্ ছল–ছল–ছল্
মোরা		দিল–খোলা খোলা প্রান্তর,
মোরা		শক্তি অটল মহীধর
			হাসি গান শ্যাম উচ্ছল
মোরা		বৃষ্টির জল বনফল খাই, শয্যা শ্যামল বন–তল।।

পুরবের তরুণ অরুণ

বাণী

পুরবের তরুণ অরুণ পুরবে আস্‌লো ফিরে।
কাঁদায়ে মহাশ্বেতায় হিমানীর শৈল-শিরে।।
	কুহেলির পর্দা ডারি’
	ঘুমাত রূপ-কুমারী,
জাগালে স্বপনচারী — তাহারে নয়ন-নীরে।।
তোমার ঐ তরুণ গলার শুনি গান সিন্ধু-পারে,
দুলিছ মধ্যমণি সুরমার কণ্ঠ-হারে।
	ধেয়ানী দিলে ধরা
	হ’ল সুর স্বয়ম্বরা,
এলে কি পাগল-ঝোরা — পাষাণের বক্ষ চিরে’।

মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়

বাণী

কিশোরীরা		:	মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়।
১ম কিশোরী	:	আমি অনুরাগ-রাঙা, আমি গোলাব-শাখায়।।
২য় কিশোরী	:	বন-কুন্তলে গরবী, আমি কানন-করবী।
৩য় কিশোরী	:	আমি সরসী-কমলা, আমি ষোড়শী কমলা
৪র্থ কিশোরী	:	আমি চম্পক খোঁপায়।।
				নিভিল আলেয়া-আলো পথ চলিতে,
প্রজাপতিদ্বয়	:	তোমরা আসিলে কি গো মন ছলিতে।
কিশোরীরা		:	মোরা অনির্বাণ-শিখা দীপ্তিমতী,
				আমরা কুসুম-রাঙা আমরা জ্যোতি।
প্রজাপতিদ্বয়	:	আমরা চাহি নাকো প্রেম, চাহি মোহিনী মায়ায়।।

নাটক : ‘আলেয়া’

মত্তময়ূর ছন্দে নাচে কৃষ্ণ প্রেমানন্দে

বাণী

মত্তময়ূর ছন্দে নাচে কৃষ্ণ প্রেমানন্দে!
রুমু ঝুম্‌ঝুম্‌ মঞ্জির বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে।।
রিমঝিম্ রিমঝিম্ ঝিম্ কেকা-বর্ণ ঘন বরয়ে
তৃষ্ণা-তৃপ্ত আত্মা নাচে নন্দনলোকে হরষে,
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝরতাল বাজে শুন্যে মেঘ-মন্দ্রে।।
পল্লব ঘন-চক্ষে ঝরে অশ্রু-রসধারা
পূব হাওয়াতে বংশী ডাকে আয় রে পথহারা,
বন্দে দামিনী বর্ণা রাধা বৃন্দাবন চন্দে।।

ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হ’য়ে

বাণী

ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হ’য়ে আমার গানের বুলবুলি —
করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঁঝের ঝরা ফুলগুলি।।
ফুল ফুটিয়ে ভোর বেলাতে গান গেয়ে
নীরব হ’ল কোন নিষাদের বান খেয়ে;
বনের কোলে বিলাপ করে সন্ধ্যা–রাণী চুল খুলি’।।
কাল হ’তে আর ফুটবে না হায় লতার বুকে মঞ্জরী,
উঠছে পাতায় পাতায় কাহার করুণ নিশাস্‌ মর্মরি’।
গানের পাখি গেছে উড়ে, শূন্য নীড় —
কণ্ঠে আমার নাই যে আগের কথার ভীড়
আলেয়ার এ আলোতে আর আসবে না কেউ কূল ভুলি’।।