ঘরে যদি এলে প্রিয়

বাণী

ঘরে যদি এলে প্রিয় নাও একটি খোঁপার ফুল।
আমার চোখের দিকে চেয়ে ভেঙে দাও মনের ভুল।।
অধর কোণের ঈষৎ হাসির আলোকে
বাড়িয়ে দাও আমার গহন কালোকে,
যেতে যেতে মুখ ফিরিয়ে দুলিয়ে যেয়ো দুল।।
একটি কথা ক’য়ে যেয়ো একটি নমস্কার
সেই কথাটি গানের সুরে গাইব বার বার,
হাত ধরে মোর বন্ধু ভুলো তোমার মনের সকল ভুল।।

নাটক : ‘মদিনা’

মোহাম্মদ নাম যত জপি

বাণী

মোহাম্মদ নাম যত জপি, তত মধুর লাগে।
নামে এত মধু থাকে, কে জানিত আগে।।
ঐ নামেরি মধু চাহি' মন-ভ্রমরা বেড়ায় গাহি',
আমার ক্ষুধা তৃষ্ণা নাহি ঐ নামের অনুরাগে।।
ও নাম প্রাণের প্রিয়তম, ও নাম জপি মজনু সম,
ঐ নামে পাপিয়া গাহে প্রাণের কুসুম-বাগে।।
ঐ নামে মুসাফির রাহী চাই না তখত শাহানশাহী,
নিত্য ও নাম ইয়া ইলাহী, যেন হৃদে জাগে।।

দোষ দিয়ো না প্রবীণ জ্ঞানী

বাণী

		দোষ দিয়ো না প্রবীণ জ্ঞানী হেরি’ খারাব শারাব-খোর।
		তাহার যে পাপ তারি একার, হয় না লেখা নামে তোর।।
		মন্দ ভালো যা হই আমি, তুই করে যা কাজ আপন,
		কাট্‌ব তাহাই — যে ফসলের বীজ বুনেছি ক্ষেত্রে মোর।।
		হউক মসজিদ হউক মন্দির প্রেমের গতি সবখানেই,
		গাইছে একই প্রেমের গীতি — কেউ সজাগ কেউ নেশায় টোর।।
		জন্মদিনের ললাট-লেখা হবেই হবে পূর্ণ মোর,
		কেউ জানে না পর্দা-আড়ে আলোক না সে আঁধার ঘোর।।
শেয়র	:	ভেঙেছি দ্বার, ফিরব না আর পুণ্যশালার জেল-খানায়,
		আদিম পিতা আদমও ত স্বর্গ পেয়ে ছাড়ল তায়।
		পুণ্যফলের ভরসা করে কাটিয়ো না কেউ বৃথাই কাল,
		তোমার ললাট-লেখার বন্ধু, তুমিই নহ ওয়াকিফ্‌-হাল।
		বেহেশ্‌তের ঐ কুঞ্জ-কানন মধুর, তবু হুঁশিয়ার!
		ঝাউ-এর ছায়া, তরীর কিনার — তাই নিয়ে থাক্‌ সুখ-বিভোর।।
		মরণ-ক্ষণে যদি, হাফিজ, রয় হাতে তোর শারাব-জাম
		মলিন ধরা হতে তোরে তুরন্ত্‌ নেবে বেহেশ্‌ত-দোর।।

হে চির সুন্দর বিশ্ব চরাচর

বাণী

হে চির সুন্দর, বিশ্ব চরাচর তোমারি মনোহর রূপের ছায়া।
রবি শশী তারকায় তোমারি জ্যোতি ভায় রূপে রূপে তব অরূপ কায়া।।
	দেহের সুবাস তব কুসুম-গন্ধে,
	তোমার হাসি হেরি শিশুর আনন্দে।
জননীর রূপে তুমি আমাদেরে যাও চুমি’, তব স্নেহ-প্রেমরূপ — কন্যা জায়া।।
হে বিরাট শিশু! এ যে তব খেলনা
নিতি নব, ভাঙা গড়া দুখ শোক বেদনা।
	শ্যামল পল্লবে সাগর-তরঙ্গে
	তব রূপ লাবনি দুলে ওঠে রঙ্গে,
বিহগের কণ্ঠে তব মধু কাকলি, মায়াময়। শতরূপে বিছাও মায়া।।

কিশোর গোপ-বেশ মুরলিধারী

বাণী

কিশোর গোপ-বেশ মুরলিধারী শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ।
দ্বিভুজ শ্যাম সুন্দর মূরতি অপরূপ অনিন্দ্য।।
	পরমাত্মারূপী পরম মনোহর
	গোলকবিহারী চিন্ময় নটবর,
ময়ূর পাখাধারী চিকুর চাঁচর মণি-মঞ্জীর শোভিত শ্রীচরণারবিন্দ।।
গলে দোলে নব বিকশিত কদম ফুলের মালা
খেলে ঘিরে যাঁরে প্রেমময়ী গোপবালা,
	শোভিত স্বর্ণবর্ণ পীতবাসে
	ওঙ্কার বিজড়িত শ্রীরাধার পাশে,
পদ্মপলাশ আঁখি মৃদু-হাসে — যেরূপ ধেয়ায় মুনি ঋষি দেববৃন্দ।।

শিউলি-মালা গেঁথেছিলাম তোমায় দেব ব’লে

বাণী

শিউলি-মালা গেঁথেছিলাম তোমায় দেব ব’লে।
না নিয়ে সে-মালা নিঠুর তুমি গেলে চ’লে।।
	প্রণাম ক’রে উদ্দেশে তাই
	সেই মালিকা জলে ভাসাই,
তোমার ঘাটে লাগে যদি নিও চরণ-তলে।।
এলো শুভদিন যবে মোর দুখের রাতির শেষে,
তোমার তরী গেল ভেসে সুদূর নিরুদ্দেশে।
	দিন ফুরাবে শিউলি ফোটার
	মোর শুভদিন আসবে না আর,
ভরলো বিফল পূজার থালা নীরব চোখের জলে।।