এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল

বাণী

এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল কাজল বর্ণা
এসো জল ছিটিয়ে ফুল ফুটিয়ে এসো।।
উপল নুড়িতে কাঁকন চুড়িতে
রিনি ঠিনি ছন্দে বন্য আনন্দে এসো
এসো ছলছল ঝলমল আঁচল লুটিয়ে এসো।।
তৃষ্ণায় ডাকে কূলে কূলে হরিণী
আনো কৃষ্ণার জল নির্ঝরিণী।
ফুলবনে ভ্রমর দল জুটিয়ে এসো।।
এসো তপ্ত ধরার বক্ষে, শান্তি ধারা আনো চক্ষে
শীতল হোক খরতর বায়ু, নির্জীব প্রান্তরে আনো পরমায়ু
এসো পাষাণ-কারারঘুম টুটিয়ে এসো।।

নাটকঃ‘মদিনা’

দেশপ্রিয় নাই শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে

বাণী

‘দেশপ্রিয় নাই’ শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে জাগি’।
আকাশে ললাট হানিয়া কাঁদিছে ভারত চির-অভাগী।।
দেশবন্ধুর পার্শ্বে জ্বলিছে দেশপ্রিয়ের চিতা
এতদিন পরে বক্ষে এসেছে দুঃখের সাথি মিতা,
বহিছে অশ্রুগঙ্গা, জ্বলিছে শোকের দীপাম্বিতা —
নিভে যাবে চিতা, রয়ে যাবে ধুম, চিরদিন বুকে জাগি’।।
তুমি এসেছিলে হিন্দু-মুসলমানের মিলন-হেতু
পদ্মা ও ভাগীরথীর মাঝারে তুমি বেঁধেছিলে সেতু,
অন্ধকারের বুকে ছিলে তুমি দীপ্ত চন্দ্র-কেতু —
বন্ধন হল নন্দন-ফুল-হার তোমার ছোয়া লাগি’।।

দ্বিতীয় খন্ড

ঘরে আয় ফিরে ফিরে আয়

বাণী

ঘরে আয় ফিরে, ফিরে আয় পথহারা ওরে ঘর-ছাড়া ফিরে আয়।
ফেলে যাওয়া তোর বাঁশরি রে কানাই কাঁদে লুটায়ে ধূলায়।।
	ব্রজে আয় ফিরে ওরে ও-কিশোর
	কাঁদে বৃন্দাবন কাঁদে রাধা তোর,
বাঁধিব না আর ওরে ননীচোর — অভিমানী মোর ফিরে আয়।।
	তোর মা’র মতন ল’য়ে শূন্য কোল্‌
	জাগে শূন্য মাঠ গ্রহ শোক-বিভোল
ঝরে যায় যে ফুল মরে যায় ফসল — ওরে শ্যামল তোর বেদনায়।।
	আসিলে ফিরে ওরে পথ-বেভুল
	আবার উঠবে রোদ, আবার ফুঠবে ফুল,
ধানে ভরবে মাঠ আবার বসবে হাট — জোয়ার বইবে হৃদ-যমুনায়।।

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন

বাণী

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন
শুধু নাম শুনে যাঁর জাগে জোয়ার পরানে এমন।।
	শুধু যাহার বাঁশির সুরে
	আমার এত নয়ন ঝুরে
ওগো না জানি তার রূপ কেমন মদন-মোহন।।
সে বুঝি লো' অপরূপ সে চির-নতুন
বাঁশির সুরের মতো আঁখি-সকরুণ।
	তারে আমি দেখি যদি
	কাঁদিব কি নিরবধি
ওগো, যেমন ক'রে ঐ যমুনা কাঁদে অনুক্ষণ।।

ওগো দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই

বাণী

ওগো	দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই (গদাইচন্দ্র) বিবাহ না করে,
	কুক্ষণে তার বিয়ে দিয়ে দিল সবাই ধ’রে॥
	আইবুড়ো সে ছিল যখন, মনের সুখে উড়ত
	হাল্‌কা দু’খান পা দিয়ে সে (গদাই) নাচ্‌ত, কুঁদ্‌ত ছুঁড়ত॥
ওগো	বিয়ে করে গদাই
	দেখলে সে আর উড়তে নারে, ভারি ঠেকে সদাই।
তার	এ্যাডিশনাল দু’খানা ঠ্যাং বেড়ায় পিছে ন’ড়ে॥
	গদাই-এর পা দু’খানা মোটা, আর তার বৌ-এর পা দু’খানা সরু,
	ছোট বড় চারখানা ঠ্যাং ঠিক যেন ক্যাঙারু
গদাই	(দেখতে) ঠিক যেন ক্যাঙ্গারু।
	আপিসে পদ বৃদ্ধি হয় না (গদাইচন্দ্রের), কিন্তু ঘরে ফি-বছরে,
	পা বেড়ে যায় গড়পড়তায় দু’চারখান ক’রে।
তার	বৌ শোনে না মানা —
তিনি	হন্যে হয়ে কন্যে আনেন মা, ষষ্টির ছানা
	মানুষ থেকে চার পেয়ে জীব, শেষ ছ’পেয়ে মাছি,
	তারপর আটপেয়ে পিঁপড়ে, বাবা গদাই বলে, একেবারে গেছি
	আর বলে, ও বাবা বিয়ে করে মানুষ এই কেলেঙ্কারীর তরে (বাবা)॥

কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি

বাণী

কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি।
যে কৃষ্ণ নাম জপেন ইন্দ্র-ব্রহ্মা-মহেশ্বর
যে নাম করে ধ্যান যোগী-ঋষি-সুরাসুর-নর,
এই অসীম বিশ্ব সীমা যাঁহার পায় নাকো খুঁজি -
আমি জীবনে মরণে যেন সেই নামই ভজি।।
যাঁর অনন্ত লীলা যাঁহার অনন্ত প্রকাশ
মধু কৈটভ মর কংসে যুগে যুগে করেন নাশ,
ন্যায় পাণ্ডবের হলেন সখা সারথি সাজি’
এই পাপ কুরুক্ষেত্রে কাঁদি তাঁহারেই খুঁজি’।।
যাঁর মুখে গীতা হাতে বাঁশি নূপুর রাঙা পায়
কভু শ্রীকৃষ্ণ গোকুলে কভু গোরা নদীয়ায়,
ফেরে প্রেম-যমুনার তীরে চির-রাধিকায় খুঁজি’
মোর মন গোপিনী উন্মাদিনী সেই নামে মজি’।।