আমার হাতে কালি মুখে কালি

বাণী

আমার হাতে কালি মুখে কালি, মা 
আমার কালিমাখা মুখ দেখে মা 
পাড়ার লোকে হাসে খালি।। 
মোর লেখাপড়া হ’ল না মা, 
আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা, 
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে 
নাচি দিয়ে করতালি।। 
কালো আঁক দেখে মা ধারাপাতের 
ধারা নামে আঁখি পাতে, 
আমার বর্ণ পরিচয় হ’লো না মা 
তোর বর্ণ বিনা কালী। 
যা লিখিস মা বনের পাতায় 
সাগর জলে আকাশ খাতায়, 
আমি সে লেখা তো পড়তে পারি 
মূর্খ বলে দিক্‌ না গালি মা, 
লোকে মূর্খ ব’লে দিক্‌ না গালি।। 

ভিখারির সাজে কে এলে

বাণী

	ভিখারির সাজে কে এলে।
	তৃতীয় প্রহর নিশি নিঝ্ঝুম দশ দিশি —
	আমার ঘুমের দুয়ার ঠেলে কে এলে কে এলে।।
	সুন্দর হাতে কেন ভিক্ষার ঝুলি
	চাঁদের অঙ্গে কেন পথের ধূলি?
	আমার কবরীর যূ’ই ফুলগুলি —
তব	চরণের পানে আছে আঁখি মেলি’।
	বনভূমি কাঁদে ঝরা-ফুল-পল্লব ছড়ায়ে,
	হে তরুণ সন্ন্যাসী! বসন্ত কাঁদে তব দুই কর জড়ায়ে।
	ওগো উদাসীন! কোন্ নিষ্ঠুর সাধে
	বিভূতি মাখায়ে হায়! চৈতালী চাঁদে।
	আমার এখন ফাগুন-নিশীথে ধুতুরা-আসব কেন দিলে ঢেলে।।

ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি

বাণী

	ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি।
	তোরণ-দ্বারে বাজে করুণ বিদায়-গীতি।।
তুমি	ভুল ক’রে এসেছিলে ভুলে ভালবেসেছিলে,
	ভুলের খেলা ভুলের মেলা তাই প্রিয় ভেঙে দিলে।
	ঝরা ফুলে হের ঝুরে কানন-বীথি।।
	তব সুখ-দিনে তব হাসির মাঝে অশ্রু মম
	রবির দাহে শিশির সম শুকাইবে প্রিয়তম,
	হাসিবে তব নিশীথে নব চাঁদের তিথি।।
	ফোটে ফুল যায় ঝ’রে গহন বনে অনাদরে
	গোপনে মোর প্রেম-কুসুম তেমনি গেল গো মরে,
	আমার তরে কাঁটার ব্যথা কাঁদুক নিতি।।

আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

বাণী

আমি	সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
তুমি	সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি।।
		আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
		সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
	রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী।।
	রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
	ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাশিঁ।
		পরিয়া তোমার রূপ-অঞ্জন
		ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
	উছলি' উঠুক মোর সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি।।

ভালোবাসি কলঙ্কী চাঁদ মেঘের পাশে

বাণী

ভালোবাসি কলঙ্কী চাঁদ মেঘের পাশে।
মোর ফুল আরো ভালো লাগে ভ্রমর সে ফুলে যদি আসে।।
	ভালোবাসি নিঝুম রাতি
	যদি রহে সুন্দর সাথী,
সেই সুন্দর সাথী প্রিয়তম হয়, যবে চঞ্চল হয়ে ওঠে প্রণয় পিয়াসে।।

নাটক: দেবী দূর্গা

হে প্রিয়তম অন্তরে মম রোদনের একি ঢেউ

বাণী

হে প্রিয়তম অন্তরে মম রোদনের একি ঢেউ নিশিদিন দুলে।
নদী-স্রোতের মত মোরে টানিয়া আনিলে কোন্ বিরহের সাগর কূলে।।
	আঁধার বনে ছিনু বনলতা একা
	কেন ফুল ফোটালে কেন দিলে দেখা,
অসহ বেদনার এত মধু দিলে যদি বুকে কেন নিলে না তুলে’।।
	বাহির ভুবনে রহ যেন তুমি উদাসী
	অন্তরে বসি’ চোর বাজাও বাঁশি,
এই মন হয়ে ওঠে বিরহ-বৃন্দাবন, লোক লাজ গৃহ কাজ সব যাই ভুলে।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘ঠুংরির জলসা’