তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা

বাণী

তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা আমার প্রথম পূজার ফুল।
ভজন, পূজন জানি না মা হয়ত হবে কতই ভুল।।
	দাঁড়িয়ে দ্বারে ‘মা মা’ বলে
	ভাসি আমি নয়ন জলে।
ভয় হয় মা ছুঁই কেমনে মা তোর পূজার বেদী-মূল।।
আশ্রয় মোর নাই জননী ত্রিভুবনে কোথাও হায়!
দাঁড়াই মাগো কাহার কাছে তুইও যদি ঠেলিস পায়।
	হানে হেলা সবাই যা’রে
	তুই নাকি কোল দিস্‌ মা তা’রে	
আমি সেই আশাতে এসেছি মা অকূলে তুই দে মা কূল।।

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর

বাণী

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর।
প্রশান্ত সন্ধ্যার উদার শান্তি দাও —
শ্রান্ত মনের ভার হর, হে গিরিধর।।
যে নিবিড় সমাধির গভীর আনন্দে
হিমালয় লীলায়িত নীরব ছন্দে,
সেই মহাযোগে কর মোরে মগ্ন —
যে মহাভাবে ভোর মৌন নীলাম্বর।। 
অপগত-দুখশোক নিশীথ সুষুপ্তির মাঝে,
নিথর সিন্ধুর অতল তলে যে শান্ত বিরাজে।
যে সুধা লভিয়া ঋষি মধুছন্দা
আনিল বেদবাণী অলকানন্দা
অন্তরে বাহিরে সেই অমৃত দাও —
কর পুরুষোত্তম অজর অমর।।

জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন

বাণী

জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন।
ভুবনে আনো নব দিনের শুভ প্রভাত লগ্ন।।
	অনন্ত শয্যা ছাড়ি’ অলখ লোকে
	এসো জ্যোতির পথে,
দেব-লোকের তিমির-কারা-প্রাচীর কর ভগ্ন।।
ভয়হীন, দ্বিধাহীন উদার আনন্দে,
তোমার আবির্ভাব হোক প্রবল ছন্দে।
হোক মানব স্বপ্রাকশ আপন স্বরূপে
বিরাট রূপে, সফল কর আমার সোহং স্বপ্ন।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘ষট ভৈরব’

সোনার চাঁপা ভাসিয়ে দিয়ে গহীন সাগর-জলে

বাণী

সোনার চাঁপা ভাসিয়ে দিয়ে গহীন সাগর-জলে
দূরে ব’সে কাঁদে কে রে কাঁদে আয় ফিরে আয় ব’লে।।
		কার আঁচলের মানিক ওরে
		অকূল স্রোতে পড়লি ঝরে রে
কোন্ মায়ের কোল্ খালি ক’রে এলি রে তুই চ’লে।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

তোমার হাতের সোনার রাখি

বাণী

তোমার হাতের সোনার রাখি আমার হাতে পরালে।
আমার বিফল বনের কুসুম তোমার পায়ে ঝরালে।।
		খুঁজেছি তোমায় তারার চোখে
		কত সে-গ্রহে কত সে-লোকে,
আজ কি তৃষিত মরুর আকাশ বাদল-মেঘে ভরালে।।
দূর অভিমানের স্মৃতি কাঁদায় কেন আজি গো!
মিলন-বাঁশি সহসা ওঠে ভৈরবীতে বাজি’ গো!
		হেনেছ হেলা, দিয়েছ ব্যথা
		মনে পড়ে আজ কেন সে-কথা,
মরণ-বেলায় কেন এ গলায় মালার মতন জড়ালে।।

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

বাণী

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
	ভালোবাসা তোমরা যারে
	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
	কঠিন পুরুষেরি মন
	গলিয়া বহে গো যখন
বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।