বাণী

উতল হ'ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে
বাদল ধারা ঝরে বুঝি তাই আজ নিশীথে।।
সুর যে তোমার নেশার মত, মনকে দোলায় অবিরত,
ফুলকে শেখায় ফুটতে গো, পাখিকে শিস দিতে।।
কেন তুমি গানের ছলে বঁধু, বেড়াও কেঁদে?
তীরের চেয়েও সুর যে তোমার প্রাণে অধিক বেঁধে।
তোমার সুরে কোন সে ব্যথা, দিলো এতো বিহ্বলতা
আমি জানি (ওগো) সে বারতা তাই কাদিঁ নিভৃতে।।

বাণী

ভগবান শিব জাগো জাগো, ছাড়িয়া গেছেন দেবী শিবানী সতী।
শক্তিহীন আজি সৃষ্টি চন্দ্র-সূর্য তারা হীন-জ্যোতি।।
	হে শিব, সতীহারা হয়ে নিষ্প্রাণ
	ভূ-ভারত হইয়াছে শবের শ্মশান,
কোলে ল’য়ে প্রাণহীন জড়-সন্তান — শিবনাম জপে ধ’রা অশ্রুমতী।।

বাণী

টলমল টলে হৃদয়-সরসী।
নীর ভরণে এলে কে ষোড়শী।।
এলে কি নাহিতে, পরশ চাহিতে
এলে কি অলস তরণী বাহিতে,
এলে কি ভুলিতে কমল তুলিতে —
	আমার স্বপন-মানসী।।

বাণী

	নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী
	একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।।
	হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে
	যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে
ঐ	ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস
তায়	চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে
	পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।।
	তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্
	একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্।
	দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী
	কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল ।
	ওঠে ডিঙি পান্‌সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।

বাণী

		এবার যখন উঠ্‌বে সন্ধ্যাতারা — সাঁঝ আকাশে
		দেখতে পাবে দু’টি নতুন তারা — তাহার পাশে।।
			চেয়ে’ দেখ ভালো ক’রে
			কা’র দু’টি চোখ যেন ম’রে,
		তারা হয়ে ধরার পানে চাহে তোমার আঁখি দেখার আশে।।
		যে দু’টি চোখ নিত্য লোকের মাঝে তোমায় দিত লাজ
		পড়বে মনে গো —
		সেই দু’টি চোখ চিরতরে এই পৃথিবী হতে হারিয়ে গেছে আজ।
			পায়নি গো, তাই অভিমানে
			চ’লে গেলে দূর বিমানে,
(দেখো)	সেদিন যেন আজের মত চাইতে ওদের পানে
							দ্বিধা নাহি আসে।।

বাণী

(মা)		আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার ছেলের সাজে সাজিয়ে তোরে।
(ওমা)		মা’র কাছে তুই রইবি নিতুই, যাবি না আর শ্বশুর ঘরে।।
				মা হওয়ার মা কী যে জ্বালা
				বুঝবি না তুই গিরি-বালা
		তোরে না দেখলে শূন্য এ বুক কী যে হাহাকার করে।।
		তোরে টানে মা শঙ্কর-শিব আসবে নেমে জীব-জগতে,
		আনন্দেরই হাট বসাব নিরানন্দ ভূ-ভারতে।
				না দেখে যে মা, তোর লীলা
				হ’য়ে আছি পাষাণ-শীলা
		আয় কৈলাসে তুই ফির্‌বি নেচে বৃন্দাবনের নূপুর প’রে।।