বাণী

এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল কাজল বর্ণা
এসো জল ছিটিয়ে ফুল ফুটিয়ে এসো।।
উপল নুড়িতে কাঁকন চুড়িতে
রিনি ঠিনি ছন্দে বন্য আনন্দে এসো
এসো ছলছল ঝলমল আঁচল লুটিয়ে এসো।।
তৃষ্ণায় ডাকে কূলে কূলে হরিণী
আনো কৃষ্ণার জল নির্ঝরিণী।
ফুলবনে ভ্রমর দল জুটিয়ে এসো।।
এসো তপ্ত ধরার বক্ষে, শান্তি ধারা আনো চক্ষে
শীতল হোক খরতর বায়ু, নির্জীব প্রান্তরে আনো পরমায়ু
এসো পাষাণ-কারারঘুম টুটিয়ে এসো।।

নাটকঃ‘মদিনা’

বাণী

	মায়ের চেয়েও শান্তিময়ী মিষ্টি বেশি মেয়ের চেয়ে
	চঞ্চলা এই লীলাময়ী মুক্তকেশী কালো মেয়ে।।
সে	মিষ্টি যত দুষ্টু তত এই কালো মেয়ে
	গিরিঝর্ণা সম এলো ধেয়ে এই পাবর্তী মেয়ে
	করুণা অমৃত ধারায় ভুবন ছেয়ে এলো এই কালো মেয়ে।।
	মাকে চোখে চোখে রাখি
	যদি কভু দেয় সে ফাঁকি
	আমি ভয়ে ভয়ে থাকি গো
	এই মায়াময়ী মেয়ে নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকি গো।
আমি	বহু সাধ্য-সাধনাতে পেয়েছি এই মা-কে রে
	কোটি জনম তপস্যাতে পেয়েছি এই মা-কে রে
	কোথায় রাখি, আমি কাঙালিনী
	কোথায় রাখি স্বর্গের এই রত্ন পেয়ে
আমি	কোথায় রাখি স্বর্গের এই রত্ন পেয়ে।।

বাণী

সেদিন নিশীথে মোর কানে কানে যে কথাটি গেছ বলে
প্রথম মুকুল হয়ে সেই বাণী মালতী লতায় দোলে।।
	সে-কথাটি আবার শুনিবে বলিয়া
	আড়ি পাতে চাঁদ মেঘে লুকাইয়া
চাহে চুপি চুপি পিয়াসি পাপিয়া ঘন পল্লব তলে।।
বসে আছি সেই মালতী বিতানে আজ তুমি নাই কাছে —
ম্লান মুখে পথ চাহে ফুলগুলি আঁধার বকুল গাছে।
	দখিনা বাতাস করে হায় হায়
	ঝরিছে কুসুম শুকনো পাতায়
নিবু নিবু হল তোমার আশায় চাঁদের প্রদীপ জ্বলে।।

বাণী

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে।
হায় আকাশে সখি আজো কি সেই চাঁদ ওঠে।।
	সখি তাহার হাতের হেনা গাছে
	বুঝি প্রথম মুকুল ধরিয়াছে।
হায় যমুনায়, বাঁশি বাজে কি আর ছায়ানটে।।
শিয়রে জানালা খুলে দে বাহিরে চাহিয়া দেখি
আমার বাগানে আবার বসন্ত আসিয়াছে কি?
দেখি সে ডালিম ফুলে হায় আছে কি সে রঙ আগেকার।
ও-বাড়ির ছাদের টবে সই বেলফুল ফুটলো কি আবার?
	আজি আসিবে সে মনে লাগে
	তারি আসার আভাস মনে জাগে
হায় বুঝি তাই, মোর মরণ মধুর হয়ে ওঠে।।

বাণী

দেবযানীর মনে প্রথম প্রীতির কলি জাগে।
কাঁপে অধর-আঁখি অরুণ অনুরাগে।।
	নব-ঘন-পরশে
	কদম শিহরে যেন হরষে,
ভীরু বুকে তা’র তেমনি শিহরণ লাগে।।
দেব-গুরু-কুমার ভোলে সঞ্জীবনী-মন্ত্র,
তপোবনে তার জাগে ব্যাকুল বসন্ত।
	নব-সুর-ছন্দ
	আনিল অজানা আনন্দ,
পূজা-বেদী তার রাঙিল চন্দন-ফাগে।।
১. হরষণ

বাণী

কেন গো যোগিনী! বিধুর অভিমানে।
যৌবনে মগন গভীর ধ্যানে।।
হের গো কুসুম ঝরিয়া পায়ে,
চাহিয়া রহে ধরণীর পানে।।