জোছনা-হসিত মাধবী নিশি

বাণী

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি আজ।
পর পর প্রিয়া বাসন্তি-রাঙা সাজ।।
রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে
পর সোনালি চেলি নব সোনাল্ ফুলে,
স্বর্ণলতার প’র সাতনরী-হার আজি উৎসব-রাত,
		রাখ রাখ গৃহ-কাজ।।
পর কবরী-মূলে নব আমের মুকুল
হাতে কাঁকন পর গেঁথে অতসীর ফুল,
দূরে গাহুক ডাহুক পাখি সখি, মুখর নিলাজ।।

দীপক-মালা গাঁথ গাঁথ সই

বাণী

দীপক-মালা গাঁথ গাঁথ সই।
মাধব আসে পারিজাত কই।।
আনত আঁখি তোলো তোলো গো!
বেদন-জ্বালা ভোলো ভোলো গো!
মান-ভুলানো এলো রাত সই।।
কাজল আঁকো নীল আঁখিতে
চেয়ো না লাজে আঁখি ঢাকিতে,
আসন প্রাণে পাত পাত সই।।

বকুল ছায়ে ছিনু ঘুমায়ে গোপন পায়ে

বাণী

বকুল ছায়ে ছিনু ঘুমায়ে গোপন পায়ে আসিলে তুমি।
রাতের শেষে ভোরের মতন ভাঙিলে স্বপন নয়ন চুমি’॥
ফুলের বুকে মধুর সম আসিলে তুমি আামার প্রাণে
মরুর বুকে উঠিল ফুটে রঙিন কুসুম বেদন ভুলি’॥
জাগিয়া হেরি পরান ভরি উঠিতেছে ঢেউ এ কি এ ব্যথার
বেদনা যত মধুও তত হিয়াতে শরম নয়নে আশার।
অকালে ফাগুন আগুন শিখায় রাঙিল মনের কানন-ভূমি॥

আও জীবন মরণ সাথী

বাণী

আও জীবন মরণ সাথী
তুমকো ঢুঁঢাতা হ্যায় দূর আকাশ মে
			মোহনী চাঁদনী রাতি।।
ঢুঁঢাতা প্রভাত নিত গোধূলি লগন মে
মেঘ হোকে ম্যয় ঢুঁঢাতা গগন মে।
ফিরত হুঁ রোকে শাওন পবন মে।
পাত্তে মে ঢুঁঢাতা তোড়ী পাপী
শ্যামা হোকে জ্বালা ম্যয় তোহারি আঁখমে
বুঝ গ্যয়া রাতকো হায় নিরাশ মে।
আভি ইয়ে জীবন হ্যায় তুমহারি পিয়াস মে।
গুল না হো যায়ে নয়ন কি বাতি।।

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা

বাণী

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
	অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছে ঐ
	চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ–আঁচলে।
সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি’ সুখ কৈলাস
বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস,
কি ভয় শ্মশানে শান্তিতে যেখানে
	ঘুমাবি জননীর চরণ–তলে।।
জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার জ্বালায়
তাহারে ডাকিছে মা ‘কোলে আয়, কোলে আয়’
জীবনে শ্রান্ত ওরে ঘুম পাড়াইতে তোরে
	কোলে তুলে নেয় মা মরণেরি ছলে।।

ঝিল্লি-নূপুর বাজে

বাণী

ঝিল্লি-নূপুর বাজে।
বিভাবরী নাচে বন-শবরী সাজে।।
তিমির কুন্তলে তারার ফুল দোলে
চাঁদের চন্দন-ফোঁটা ললাট-মাঝে।।
দোলে নদী-জল অঞ্চল ধীরে
বন-বেণী দোলে চঞ্চল-সমীরে।
জাগে দুরন্ত নিশীথ-বসন্ত
ঘুমন্ত নববধূ রেঙে ওঠে লাজে।।