দে দোল্ দে দোল্‌ ওরে দে দোল্‌

বাণী

দে দোল্‌ দে দোল্‌ ওরে দে দোল্‌ দে দোল্‌
জাগিয়াছে ভারত সিন্ধু তরঙ্গে কল-কল্লোল।।
পাষাণ গলেছে রে অটল টলেছে রে
জেগেছে পাগল রে ভেঙেছে আগল।।
বন্ধন ছিল যত হল খানখান রে
পাষাণ পুরীতে ডাকে জীবনেরি বান রে
মৃত্যু ক্লান্ত আজি কুড়াইয়া প্রাণ রে
দুর্মদ যৌবন আজি উতরোল।।
অভিশাপ রাত্রির আয়ু হল ক্ষয় রে
আর নাহি অচেতন আর নাহি ভয় রে
আজও যাহা আসেনি আসিবে সে জয় রে
আনন্দ ডাকে দ্বারে খোল দ্বার খোল।।

চুরি ক’রে এনো গিরি

বাণী

চুরি ক’রে এনো গিরি, আমার উমার দুই কুমারে।
দেখ্‌ব তখন ভোলা মেয়ে কেমন ভু’লে থাকতে পারে॥
তার ছেলেরে আনলে হেথা, বুঝবে মেয়ে মায়ের ব্যথা;
(বিনা) সাধনাতে গৌরী তখন, আসবে ছুটে আমার দ্বারে॥
জামাই আমার শিব ভোলানাথ, ডাকিলেই সে আসিবে জানি
চাইবে নাকো আসতে শুধু, তোমার মেয়ে ঐ পাষাণী।
কুমার গণেশ তুমি আমি, শিব পূজিব দিবস যামী;
শৈব হ’লে শিবাণী মোর, রইতে নারে ছেড়ে তারে॥

যুগ যুগ ধরি লোকে-লোকে মোর

বাণী

যুগ যুগ ধরি লোকে-লোকে মোর
		প্রভুরে খুঁজিয়া বেড়াই;
সংসারে গেহে , প্রীতি ও স্নেহে
	আমার স্বামী বিনে নাই সুখ নাই।।
তার	চরণ পাবার আশা ল'য়ে মনে
	ফুটিলাম ফুল হয়ে কত বার বনে,
		পাখি হয়ে তার নাম
		শত বার গাহিলাম
	তবু হায় কভু তার দেখা নাহি পাই।।
	গ্রহ তারা হয়ে খুঁজেছি আকাশে,
	দিকে দিকে ছুটেছি মিশিয়া বাতাসে,
		পর্বত হয়ে নাম
	কোটি যুগ ধিয়ালাম,
	নদী হয়ে কাঁদিলাম খুঁজিয়া বৃথাই।।

কাছে তুমি থাকো যখন তখন আমি দিই না ধরা

বাণী

কাছে তুমি থাকো যখন তখন আমি দিই না ধরা।
দূরে থেকে কাঁদো যখন তখনি হই স্বয়ম্বরা।।
	তখন তোমার অভিসারে
	মন ছুটে যায় অন্ধকারে
তখন ওঠে বিরহেরি ব্যাকুল রোদন পাগল পারা।।
প্রিয়, তুমি যবে রহ পাশে —
কেন এতো ভয় জাগে গো, কেন মনে দ্বিধা আসে!
	ভিক্ষা যখন চাও ভিখারি
	হাত কাঁপে গো দিতে নারি,
তুমি চ'লে গেলে লুকিয়ে কাঁদি ভিক্ষা নিয়ে আঁচল ভরা।।

ভাই হয়ে ভাই চিনবি আবার গাইব কি আর

বাণী

		ভাই হয়ে ভাই চিনবি আবার গাইব কি আর এমন গান!
সেদিন	দুয়ার ভেঙে আসবে জোয়ার মরা গাঙে ডাকবে বান।।
তোরা		স্বার্থ-পিশাচ যেমন কুকুর তেমনি মুগুর পাস রে মান।
সেই		কলজে চুঁয়ে গলছে রক্ত দলছে পায়ে ডলছে কান।।
ওরে		তোরা করিস লাঠালাঠি সিন্ধু-ডাকাত লুটছে ধান!
তাই		গোবর-গাদা মাথায় তোদের কাঁঠাল ভেঙে খায় শেয়ান।।
ছিলি		সিংহ ব্যাঘ্র, হিংসা-যুদ্ধে আজকে এমন ক্ষিন্ন প্রাণ।
মুখের		গ্রাস ঐ গিলছে শেয়াল, তোমরা শুয়ে নিচ্ছ ঘ্রাণ।।
তোরা		বাঁদর ডেকে মানলি সালিশ ভাইকে দিতে ফাটলো প্রাণ!
সালিশ	নিজেই, ‘খা ডালা সব’, বোকা তোদের এই দেখান।।
তোরা		নাক কেটে নিজ পরের যাত্রা ভঙ্গ করিস বুদ্ধিমান
তোদের	কে যে ভালো কে যে মন্দ সব শিয়ালই এক সমান।।
শুনি		আপন ভিটের কুকুর রাজা, তার চেয়েও হীন তোদের প্রাণ।
তাই		তোদের দেশ এই হিন্দুস্থানে নাই তোদেরই বিন্দু স্থান।।
আজ		সাধে ভারত-বিধাতা কি চোখ বেঁধে ঐ মুখ লুকান!
তোরা		বিশ্বে যে তার রাখিসনে ঠাঁই কানা গরুর ভীন বাথান।।
তোরা		করলি কেবল অহরহ নীচ কলহের পরল পান।
আজ		বুঝলি নে হায় নাড়ি-ছেড়া মায়ের পেটের ভায়ের টান।।

বিকাল বেলার ভুঁইচাঁপা গো

বাণী

বিকাল বেলার ভুঁইচাঁপা গো সকাল বেলার যুঁই
কারে কোথায় দেব আসন তাই ভাবি নিতুই।।
ফুলদানিতে রাখব কারে,কারে গাঁথি কণ্ঠ -হারে
কারে যেন দেব তারে কারে বুকে থুই।।
সমান অভিমানী ওরা সমান সুকোমল
চাঁপা আমার চোখের আলো,যুঁই চোখের জল।
বর্ষা-মুখর শ্রাবণ-প্রাতে,কাঁদি আমি যুথীর সাথে
চাঁপায় চাহি চৈতী-রাতে,প্রিয় আমার দুই।।