নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো

বাণী

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো,
সে বলেও না টলেও না থমথম করে গো॥
যেন নতুন পিঞ্জরের পাখি, ঘেরা টোপে ঢাকা থাকি
জটিলা-কুটিলার ভয়ে আছি আমি ম’রে গো॥
যেন চোরের বউ কান্‌তে নারি ভয়ে ফুকারিয়া গো,
আমি রান্না ঘরে কান্না লুকাই লঙ্কা-ফোড়ন দিয়া গো।
ব্যথার ব্যথী পাইরে কোথা, জানাই যা’রে মনের ব্যথা
বুকে ধিকি ধিকি তুষের আগুন জ্ব’লবে চিরতরে
বুঝি জ্ব’লবে জনম ভ’রে গো॥

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন

বাণী

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন
শুধু নাম শুনে যাঁর জাগে জোয়ার পরানে এমন।।
	শুধু যাহার বাঁশির সুরে
	আমার এত নয়ন ঝুরে
ওগো না জানি তার রূপ কেমন মদন-মোহন।।
সে বুঝি লো' অপরূপ সে চির-নতুন
বাঁশির সুরের মতো আঁখি-সকরুণ।
	তারে আমি দেখি যদি
	কাঁদিব কি নিরবধি
ওগো, যেমন ক'রে ঐ যমুনা কাঁদে অনুক্ষণ।।

ডুবু ডুবু ধর্ম-তরী ফাট্‌ল মাইন

বাণী

কোরাস্:
ডুবু ডুবু ধর্ম-তরী, ফাট্‌ল মাইন সর্‌দা’র
সামাল সামাল পড়ল সাড়া ব-মাল মেয়ে মর্দার।।
এ কোন্ এলো বালাই, এবে পালাই বল কোন্ দেশ,
গাছের নীচে ঘ’ড়েল শেয়াল, কাকের মুখে সন্দেশ।
কন্যা-ডোবা কন্যা এলো, ভাস্ল বুঝি ঘর-দ্বার।।
আয়েস্ ক’রে ধুম্‌ড়ো মেয়ের বাড়বে বয়েস চৌদ্দ
বাপের বুকের তপ্ত-খোলায়? দিব্যি গেয়ান-বোধ তো!
হদ্দ হ’লেন বৌদি ভেবে, ছাড়ল্ নাড়ী বড়দা’র।।
দিব্যি স্বর্গ-মার্গে যেত গৌরী-দানের মারফৎ
যমের যমজ জামাতৃকে লিখে দিয়ে ফার্খত!
(হ’ল) নৈকষ্য কস্য এখন, জাত গেল ‘মেল-খড়দা’র।।
দেব্‌তা বুড়ো শিব যে মাগেন আট-বছরী নাতনি,
চতর্দশী মুক্তকেশী — ক’নে নয়, সে হাত্‌নী!
পুঁটুলি নয় — এঁটুলি সে, কিংবা পুলিশ-সর্দার।।
সিঙ্গি-চড়া ধিঙ্গি মেয়ে বৌ হবে কি? বাপ্ রে!
প্রথম প্রণয়-সম্ভাষণেই হয়ত দিবে থাপ্‌ড়ে।
লাফ দিয়ে সে বাইরে যাবে ঝাঁপ খুলে ঐ পর্দার।।
সম্বন্ধ ভুলে শেষে যা-তা বলে ডাকব?
বধূ তো নয়, যদুর পিসি! কোথায় তারে রাখব?
ধর্মিণী নয়, জার্মানী শেল! গো-স্বামী, খবরদার।।
টাকাতে নয়, ভাব্‌নাতে শেষ মাথাতে টাক পড়বে,
যোদ্ধা বামা গুটিয়ে জামা কথায় কথায় লড়বে,
যেই পাবে না সেমিজ, বডিস, কৌটো পানের জর্দার।।
স্বামীকে সে বলবে নাথ, রাখ্‌বে না মান দুর্গার,
হয়ত কবে বল্‌বে, ‘পিও, ঝোল রেঁধেছি মুর্গার!’
আন্‌বে কে বাপ গুর্খা-সেপাই দন্ত-নখর-বর্দার।।
গটমটিয়ে কইবে কথা, কট্‌মটিয়ে চাইবে,
‘বামা’ সে নয়, ‘ডাইনে সে যে, ডাইনে’ সদা ধাইবে!
নিতুই নতুই চাইবে যেতে সিমলা শিলং হর্‌দ্বার।।
ভেবেছিলাম জাত নিয়েছিস, জাতিটা নয় যাক্‌গে,
গৃহিণীরূপ গ্রহণী রোগ, তাও ছিল শেষ ভাগ্যে!
দোক্ত ফেলে গিন্নি কাঁদেন, কর্তা করেন ঘর-বার।।

ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো

বাণী

ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো
তুই উঠলি রেঙে যেন পাকা কামরাঙ্গার ফল গো।।
তোর মন আইঢাই কি দেখে কে জানে
তুই চুন বলে দিস হলুদ বাটা পানে
তুই লাল নটে শাক ভেবে কুটিস শাড়ির আঁচল গো।।
তুই এ ঘর যেতে ও ঘরে যাস পায়ে বাধে পা
বউ তোর রঙ্গ দেখে হাসছে ননদ জা।
তুই দিন থাকিতে পিদিম জ্বালিস ঘরে
ওলো রাত আসিবে আরো অনেক পরে
কেন ভাতের হাঁড়ি মনে ক'রে উনুনে দিস জল গো।।

বরষ মাস যায় সে নাহি আসে

বাণী

বরষ মাস যায় — সে নাহি আসে, বরষ মাস যায়।
সখি রে সেই চাঁদ ওঠে নভে ফুলবনে ফুল ফোটে বৃথায়।।
একা সহি’ মৌন হৃদয়-ব্যথা,
আমার কাঁদন শুনি’ সে মোর যদি ব্যথা পায়।।
মরমর ধ্বনি শুনি’ পল্লবে চমকিয়া উঠি সখি
ভাবি বুঝি বঁধু মোর আসিল।
যে যায় চলিয়া, চলিয়া সে যায় চিরতরে
ফিরে আর আসে না সে হায়।।

নাম মোহাম্মদ বোল রে মন

বাণী

নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল।
যে নাম নিয়ে চাঁদ-সেতারা আস্‌মানে খায় দোল।।
	পাতায় ফুলে যে নাম আঁকা
	ত্রিভুবনে যে নাম মাখা,
যে নাম নিতে হাসিন ঊষার রাঙে রে কপোল।।
	যে নাম গেয়ে ধায় রে নদী,
	যে নাম সদা গায় জলধি,
যে নাম বহে নিরবধি পবন হিল্লোল।।
	যে নাম রাজে মরু-সাহারায়,
	যে নাম বাজে শ্রাবণ-ধারায়,
যে নাম চাহে কাবার মসজিদ — মা আমিনার কোল।।