বুকে তোমায় নাই বা পেলাম

বাণী

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম রইবে আমার চোখের জলে।
ওগো বঁধু! তোমার আসন গভীর ব্যথায় হিয়ার তলে।।
	আসবে যখন তিমির রাতি
	রইবে না কেউ জাগার সাথী,
আসবে সে-দিন জ্বালব বাতি — মুছব নয়ণ-জল আঁচলে।।
নাইবা হলাম প্রিয় তোমার, বন্ধু হ’তে দোষ কি বঁধু?
মুখের ‘মধু’র তৃষ্ণা শেষে আমি দিব বুকের মধু।
আমি ভালোবাসিনি ত’, ভালোবাসা পাবার ছলে।।
	বাহুর পাশে প্রিয়ায় বেঁধে’
	আমার তরে উঠ্‌বে কেঁদে,
সেই তো আমার জয় গো, প্রিয়, অন্তরে রই, রই না গলে।।

বহে শোকের পাথার আজি সাহারায়

বাণী

বহে শোকের পাথার আজি সাহারায়।
নবীজী নাই-উঠ্‌ল মাতম মদিনায়।।
	আঁখি-প্রদীপ এই ধরনীর
	গেল নিভে ঘির্‌ল তিমির,
দীনের রবি মোদের নবী চায় বিদায়।
সইল না রে বেহেশ্‌তী দান দুনিয়ায়।।
	না পূরিতে সাধ-আশা
	না মিটিতে তৌহিদ-পিপাসা,
যায় চ’লে দীনের শাহানশাহ্ — হায় রে হায়,
সেই শোকেরি তুফান বহে ‘লু’ হাওয়ায়।।
বেড়েছে আজ দ্বিগুণ পানি দজ্‌লা ফোরাত নদীতে,
তূর ও হেরা পাহাড় ফেটে অশ্রু-নিঝর ব’য়ে যায়।
ধরার জ্যোতি হরণ ক’রে উজল হ’ল ফের বেহেশত্
কাঁদে পশু-পাখি ও তরুলতায়,
সেই কাঁদনের স্মৃতি দোলে দরিয়ায়।।

গেরুয়া রঙ মেঠো পথে বাঁশরি বাজিয়ে কে যায়

বাণী

গেরুয়া রঙ মেঠো পথে বাঁশরি বাজিয়ে কে যায়।
সুরের নেশায় নুয়ে প'ড়ে ভুঁই-কদম তার পায়ে জড়ায়।
	আহা ভূঁই-কদম তারা পায়ে জড়ায়।।
	সুর শুনে তার সাঝেঁর ঠোটেঁ,
	বাঁকা শশীর হাসি ফোটে,
গো-পথ বেয়ে ধেনু ছোটে রাঙা মাটির আবির ছড়ায়।
	তারা রাঙা মাটির আবির ছাড়ায়।।
	গগন গোঠে গ্রহ তারা
	সে সুর শুনে দিশেহারা
হাটের পথিক ভেবে সারা ঘরে ফেরার পথ ভুলে যায়।।
	জল নিতে নদী কূলে
	কুলবালা কূল ভুলে
সন্ধ্যা তারা প্রদীপ তুলে বাঁশুরিয়ার নয়নে চায়।
	তারা বাঁশুরিয়ার নয়নে চায়।।

আজি মনে মনে লাগে হোরী

বাণী

আজি মনে মনে লাগে হোরি
আজি বনে বনে জাগে হোরি।।
ঝাঁঝর করতাল খরতালে বাজে
বাজে কঙ্কন চুড়ি মৃদুল আওয়াজে
লচকিয়া আসে মুচকিয়া হাসে
প্রেম-উল্লাসে শ্যামল গোরী।।
কদম্ব তমাল রঙে লালে লাল
লাল হলো কৃষ্ঞ ভ্রমর ভ্রমরী
রঙের উজান চলে কালো যমুনা-জলে
আবির রাঙা হলো ময়ূর-ময়ূরী।।
মোর হৃদি-বৃন্দাবন যেন রাঙে
রাধা শ্যাম-যুগল চরণ-রাগে
ও চরণ-ধূলি যেন ফাগ হ’য়ে নিশিদিন
অন্তরে পড়ে মোর ঝরি’।।

জাগো জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর

বাণী

জাগো	জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর,
কাঁদে		ভোরের তারা হেরি’ তোর ঘুম-ঘোর॥
		দামাল ছেলে তুই জাগিস্‌নি তাই
বনে		জাগেনি পাখি ঘুমে মগ্ন সবাই ,
		বাতাস নিশ্বাস ফেলে খুঁজিছে বৃথাই
তোর		বাঁশরি লুটায়ে কাঁদে আঙিনায় মোর॥
তুই		উঠিস্‌নি ব’লে দেখ রবি ওঠেনি
ঘরে		আনন্দ নাই, বনে ফুল ফোটেনি।
		ধোয়াবে বলিয়া তোর মুখের কাজল
		থির হ’য়ে আছে ঘাটে যমুনার জল,
		অঞ্চল-ঢাকা মোর, ওরে চঞ্চল,
আমি		চেয়ে আছি কবে ঘুম ভাঙিবে তোর॥

প্রভু সংসারেরি সোনার শিকল

বাণী

প্রভু সংসারেরি সোনার শিকল বেঁধো না আর পায়
তোমার প্রেম ডোরে ত্রিভুবন স্বামী বাঁধ হে আমায়॥
সারা জীবন বোঝা বয়ে, এসেছি আজ ক্লান্ত হয়ে
জুড়াতে হে শান্তি দাতা তোমার শীতল ছায়॥
হে নাথ যতদিন শক্তি ছিল বোঝা বহিবার
হাসি মুখে বয়েছি নাথ তোমার দেওয়া ভার।
শেষ হল আজ ভবের খেলা, কি দান দেব যাবার বেলা
তোমার নামের ভেলায় যেন এ দীন তরে যায়॥