সাহারাতে ডেকেছে আজ বান দেখে যা

বাণী

সাহারাতে ডেকেছে আজ বান দেখে যা।
মরুভূমি হ’ল গুলিস্তান, দেখে যা।।
সেই বানেরই ছোঁওয়ায় আবার আবাদ হল দুনিয়া,
শুকনো গাছে মুঞ্জরিল প্রাণ, দেখে যা।।
বিরান মুকুল আবার হ’ল গুলে গুলে গুলজার,
মক্কাতে আজ চাঁদের বাগান, দেখে যা।।
সেই দরিয়ায় পারাপারের তরী ভাসে কোরআন,
ওড়ে তাহে কলেমার নিশান, দেখে যা।।
কাণ্ডারী তার বন্ধু খোদার হজরত মোহাম্মদ,
যাত্রী যারা এনেছে ঈমান, দেখে যা।।
সেই বানে কে ভাসবি রে আয়, যাবি রে কে ফিরদৌস্
খেয়াঘাটে ডাকিছে আজান, দেখে যা।।

এ কুঞ্জে পথ ভুলি কোন বুলবুলি

বাণী

এ কুঞ্জে	পথ ভুলি কোন	বুলবুলি আজ	গাইতে এলে গান।
বসন্ত		গত মোর আজ	পুষ্প-বিহীন		লতিকা-বিতান।।
এলে কি	দলিতে আজ	ধুলি ঢাকা		ফুল-সমাধি মোর,
নাহি আর	চৈতি হাওয়া,	বহে আজি		বৈশাখী তুফান।।
সাজায়ে	ফুলের বাসর	ছিনু তব		পথটি চেয়ে।
সে বাসর	বাসি হল		কেঁদে নিশি		হল অবসান।।
বাজে মোর	তোরণ দ্বারে		খেলা শেষের	বিদায়-বাঁশরি।
ফিরে যাও	শেষ-অতিথি		দাও যেতে দাও	লয়ে অভিমান।।

১. পথ

তুমি মলিন বাসে থাক যখন

বাণী

তুমি		মলিন বাসে থাক যখন, সবার চেয়ে মানায়!
তুমি		আমার তরে ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়!
			জানি প্রিয়ে জানি জানি,
			তুমি হ’তে রাজার রানী,
		খাট্ত দাসী বাজ্‌ত বাঁশি তোমার বালাখানায়।
তুমি		সাধ ক’রে আজ ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।
দেবী!	তুমি সতী অন্নপূর্ণা, নিখিল তোমার ঋণী,
শুধু		ভিখারিকে ভালোবেসে সাজ্‌লে ভিখারিনী।
			সব ত্যজি’ মোর হ’লে সাথি,
			আমার আশায় জাগ্‌ছ রাতি,
		তোমার পূজা বাজে আমার হিয়ার কানায় কানায়!
তুমি		সাধ ক’রে মোর ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।

ও বৌদি তোর কি হয়েছে চোখে কেন জল

বাণী

ও	বৌদি তোর কি হয়েছে চোখে কেন জল
	দাদার তরে মন বুঝি তোর হয়েছে উতল।।
তোর	দিব্যি দেখেছি স্বপনে
যেন	দাদা কথা কইতেছে তোর সনে
	দেখিস তোরা আমার স্বপন হবে না বিফল।।
তোর	কান্নার সাগরে যখন উঠেছে জোয়ার
	বৌদি লো তোর চাঁদ উঠিবার নাই রে দেরি আর।
ও	বৌদি তোর চোখের জলের টানে
	আমার দাদার সোনার তরী  আসতেছে উজানে
দেখ	বাটনা ফেলে হাসছে দিদি চল ও ঘরে চল।।

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী

বাণী

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে

বাণী

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।